১৬ আগস্ট ‘খেলা হবে দিবস’-এর বদলে পালিত হবে ‘আয়ুষ্মান দিবস’: শুভেন্দু অধিকারী
কলকাতা, ১৪ আগস্ট (হি. স.) : রাজ্যে ১৬ আগস্ট ‘খেলা হবে দিবস’-এর পরিবর্তে ‘আয়ুষ্মান দিবস’ হিসেবে পালিত হবে বলে শুক্রবার ঘোষণা করলেন শুভেন্দু অধিকারী। তিনি জানান, ১৯৪৬ সালের ১৬ আগস্ট কলকাতার ভয়াবহ দাঙ্গা ও দেশভাগের ট্র্যাজেডির দিনে খেলাধুলো বা উৎসব
শুভেন্দু অধিকারী


কলকাতা, ১৪ আগস্ট (হি. স.) : রাজ্যে ১৬ আগস্ট ‘খেলা হবে দিবস’-এর পরিবর্তে ‘আয়ুষ্মান দিবস’ হিসেবে পালিত হবে বলে শুক্রবার ঘোষণা করলেন শুভেন্দু অধিকারী। তিনি জানান, ১৯৪৬ সালের ১৬ আগস্ট কলকাতার ভয়াবহ দাঙ্গা ও দেশভাগের ট্র্যাজেডির দিনে খেলাধুলো বা উৎসব উদযাপনের পরিবর্তে ইতিহাসকে স্মরণ করা এবং সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্য সুরক্ষার সংকল্প নেওয়াই যুক্তিযুক্ত।

শুভেন্দু অধিকারী জানান, শনিবার দুপুর ৩টেয় নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামে আয়ুষ্মান দিবসের মূল অনুষ্ঠানটি আয়োজিত হবে। কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী অনুপ্রিয়া প্যাটেল এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন। এই কর্মসূচির মাধ্যমেই আনুষ্ঠানিকভাবে ‘আয়ুষ্মান ভারত’ স্বাস্থ্য কার্ড বিতরণের সূচনা করা হবে। তিনি আরও বলেন, যাঁরা আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পের আওতায় আসবেন না, তাঁদের জন্য ‘মুখ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্য বীমা যোজনা’র মাধ্যমে সমমানের স্বাস্থ্য পরিষেবা প্রদান করা হবে। রাজ্যের প্রায় ১১ কোটি মানুষকে স্বাস্থ্য সুরক্ষার আওতায় আনাই এর মূল লক্ষ্য।

মৌলালিতে আয়োজিত ‘দেশভাগ বিভীষিকা স্মৃতি দিবস’ অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে শুভেন্দু বলেন, ১৯৪৬ সালের ১৬ আগস্ট ‘ডাইরেক্ট অ্যাকশন’-এর ডাকের পর কলকাতায় ব্যাপক হিংসা ছড়িয়ে পড়েছিল এবং বহু মানুষের প্রাণহানি ঘটেছিল। তাই এই দিনটিকে কোনোভাবেই উৎসবের মেজাজে পালন করা যায় না। স্মৃতি দিবসের মূল উদ্দেশ্য কোনো উদযাপন নয়, বরং ইতিহাসকে মনে রেখে ভবিষ্যতের জন্য সতর্ক থাকা।

পাশাপাশি রাজ্যের ইতিহাস প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ১৯৪৭ সালের ২০ জুন বঙ্গীয় প্রাদেশিক আইনসভার ভোটাভুটির ঐতিহাসিক গুরুত্বকে মর্যাদা দিয়ে ২০ জুনকে ‘পশ্চিমবঙ্গ দিবস’ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের অবদানকে স্মরণ করে তাঁর ১২৫তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে স্কুল পাঠ্যবইয়ে তাঁর জীবনী অন্তর্ভুক্ত করা ও মূর্তি স্থাপনের উদ্যোগের কথাও তিনি উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে কলকাতার তৎকালীন পরিস্থিতিতে ভূমিকা রাখা গোপাল মুখোপাধ্যায়ের পূর্ণাবয়ব সরকারি মূর্তি স্থাপনের দাবি জানান তিনি।

এছাড়াও তিনি ডোরিনা ক্রসিংয়ের সাম্প্রতিক বিক্ষোভের ঘটনার কড়া সমালোচনা করেন এবং প্রধানমন্ত্রীর তারকেশ্বর সফরের প্রসঙ্গ তুলে ধরেন। তিনি জানান, ‘হর ঘর তেরঙ্গা’ অভিযানে রাজ্যে প্রায় ৭০ লক্ষ জাতীয় পতাকা বিতরণ করা হয়েছে। পাশাপাশি রেড রোডে নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর প্রতি শ্রদ্ধাজ্ঞাপন এবং রাজ্যজুড়ে প্রায় ৪,০০০ স্থানে সম্প্রীতি ও দেশপ্রেমের আবহে রাখি বন্ধন উৎসব পালনের আহ্বান জানান তিনি।

উল্লেখ্য, এদিন নিউ টাউন ও গড়িয়া-সহ কলকাতার বিভিন্ন প্রান্তে দেশভাগের স্মৃতিচারণ কর্মসূচি পালিত হয় এবং শিয়ালদহ স্টেশন চত্বরে দেশভাগের ভুক্তভোগীদের স্মরণে প্রস্তাবিত স্মারকের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়।

হিন্দুস্থান সমাচার / সোনালি




 

 rajesh pande