
হাফলং (অসম), ১২ আগস্ট (হি স) সামাজিক অনুষ্ঠানে খাবার খাওয়ার পর একের পর এক মানুষ অসুস্থ। সন্দেহ করা হচ্ছে, খাদ্য বিষক্রিয়ার জেরে এই ঘটনা। ডিমা হাসাও জেলার মাহুরের কাছে লাসাং গ্রামে এই ঘটনায় প্রায় ৬৫ জনকে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করাতে হয়েছে। অসুস্থদের অধিকাংশেরই ডায়রিয়া, বমি বমি ভাব, জ্বর ও মাথাব্যথার মতো উপসর্গ দেখা দিয়েছে। তাঁদের মধ্যে কয়েকজনের শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় হাফলং অসামরিক হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। বর্তমানে দুই প্রবীণ রোগীকে হাসপাতালের আইসিইউতে রেখে চিকিৎসকদের নজরদারিতে রাখা হয়েছে। যদিও তাঁদের অবস্থা আপাতত স্থিতিশীল বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন। বুধবার স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, শনিবার লাছাং গ্রামে একটি সামাজিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল। সেই অনুষ্ঠানে পরিবেশন করা হয়েছিল শুকরের মাংস। অনুষ্ঠানে উপস্থিত বহু মানুষ ওই মাংস খেয়েছিলেন। কিন্তু তার পরের ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই একের পর এক মানুষের শরীরে অসুস্থতার উপসর্গ দেখা দিতে শুরু করে। প্রথমে ডায়রিয়া, বমি বমি ভাব ও জ্বর দেখা দিলেও পরে অনেকের মাথাব্যথা এবং দুর্বলতাও শুরু হয়। অসুস্থদের প্রথমে মাহুর প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র এবং আশপাশের বিভিন্ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে পরিস্থিতি গুরুতর হওয়ায় কয়েকজনকে হাফলং অসামরিক হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। মঙ্গলবার রাতে একই ধরনের উপসর্গ নিয়ে লাসাংয়ের প্রায় ২১ জন বাসিন্দাকে হাফলং হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। তাঁদের মধ্যে দুই প্রবীণ রোগীর শারীরিক অবস্থা নিয়ে চিকিৎসকদের বিশেষ নজর রয়েছে। তাঁদের আইসিইউতে রেখে চিকিৎসা চলছে।
রোগীদের চিকিৎসার সঙ্গে যুক্ত চিকিৎসক ডা. এস. নামপুই জানান, আক্রান্তদের উপসর্গের ধরন খাদ্য বিষক্রিয়ার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। তবে ঠিক কী কারণে এত মানুষ অসুস্থ হয়ে পড়েছেন, তা নিশ্চিতভাবে জানার জন্য আরও পরীক্ষা-নিরীক্ষা এবং তদন্ত প্রয়োজন। ফলে এখনই খাদ্য বিষক্রিয়াকেই ঘটনার একমাত্র কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা যাচ্ছে না।
ঘটনাকে ঘিরে ইতিমধ্যেই একাধিক প্রশ্ন উঠেছে। কয়েকজন গ্রামবাসীর সন্দেহ, দূষিত পানীয় জল থেকেও এই অসুস্থতা ছড়িয়ে পড়তে পারে। তাঁদের বক্তব্য, সামাজিক অনুষ্ঠানটির দিন এলাকায় প্রবল বৃষ্টি হয়েছিল। সেই বৃষ্টির জেরে স্থানীয় পানীয় জলের উৎস দূষিত হয়ে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আবার একই অনুষ্ঠানে একই খাবার গ্রহণ করা সত্ত্বেও প্রত্যেকেই অসুস্থ হননি। ফলে খাবার ছাড়াও অন্য কোনও উৎস থেকে সংক্রমণ বা অসুস্থতা ছড়িয়েছে কি না, তা নিয়েও সন্দেহ তৈরি হয়েছে। অন্যদিকে, অনুষ্ঠানে ব্যবহৃত শুকরের মাংস নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। পশুটি অসুস্থ ছিল কি না, মাংস প্রস্তুত করার আগে যথাযথ পরীক্ষা করা হয়েছিল কি না এবং রান্না ও পরিবেশনের সময় স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা হয়েছিল কি না—এসব বিষয় এখন তদন্তের আওতায় আসা জরুরি বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। ঘটনার পর এলাকায় খাদ্য হিসেবে ব্যবহৃত পশুর স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা নিয়েও নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। ভবিষ্যতে এই ধরনের ঘটনা এড়াতে পশু জবাই ও মাংস ব্যবহারের আগে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে পশুর স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং প্রয়োজনীয় শংসাপত্র প্রদানের ব্যবস্থা করার দাবি উঠেছে। একই সঙ্গে সামাজিক অনুষ্ঠানগুলিতে রান্না, পানীয় জল সংরক্ষণ এবং খাবার পরিবেশনের ক্ষেত্রেও স্বাস্থ্যবিধি কঠোরভাবে মেনে চলার দাবি জানিয়েছেন গ্রামবাসীরা। এখনও পর্যন্ত ডিমা হাসাও স্বাস্থ্য দফতরের তরফে আক্রান্তদের নমুনার কোনও পরীক্ষাগার-ভিত্তিক রিপোর্ট প্রকাশ করা হয়নি। ফলে এই অসুস্থতার প্রকৃত কারণ নিয়ে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছনো সম্ভব নয়। স্বাস্থ্য দফতর ও স্থানীয় প্রশাসনের নজরদারি অব্যাহত রয়েছে। প্রয়োজনে আক্রান্তদের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষাগারে পাঠানো এবং ঘটনার উৎস চিহ্নিত করতে তদন্ত শুরু করা হতে পারে। এদিকে, একসঙ্গে এত মানুষের অসুস্থ হয়ে পড়ার ঘটনায় লাসাং এবং সংলগ্ন এলাকায় উদ্বেগ ছড়িয়েছে। আক্রান্তদের শারীরিক অবস্থার দিকে নজর রাখার পাশাপাশি ভবিষ্যতে যাতে একই ধরনের ঘটনা আর না ঘটে, তার জন্য প্রশাসনের দ্রুত পদক্ষেপের দাবি উঠেছে।
হিন্দুস্থান সমাচার / বিশাখা দেব