
বাঁকুড়া, ১২ আগস্ট (হি. স.): ছেলের পর এবার গ্রেফতার হলেন বাবা। মঙ্গলবার রাতে সিমলাপাল থানার পুলিশ বাঁকুড়া সাংগঠনিক জেলা তৃণমূলের সদ্য প্রাক্তন সভাপতি তথা বাঁকুড়া জেলা পরিষদের সভাধিপতি অনসূয়া রায়ের স্বামী তারাশঙ্কর রায় ওরফে শঙ্কুকে গ্রেফতার করে। সিমলাপাল থানায় তাঁর বিরুদ্ধে বিজেপি কর্মীদের মারধর এবং অস্ত্র আইন-সহ একাধিক অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছে।বুধবার তাঁকে খাতড়া মহকুমা আদালতে তোলা হলে বিচারক তাঁর জামিনের আবেদন নামঞ্জুর করে এক দিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দেন। যদিও পুলিশ সাত দিনের রিমান্ডের আবেদন করেছিল। তাঁর বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ২৫, ২৭, ১০৯, ১১৫(২), ১১৭(২), ১২৬(২), ৩(৫) এবং ৩৫১(৩) ধারায় মামলা রুজু হয়েছে। এর মধ্যে মারধর, খুনের চেষ্টা, খুনের হুমকি-সহ একাধিক অভিযোগ রয়েছে।বুধবার মাথায় তোয়ালে ঢাকা অবস্থায় সিমলাপাল থানার পুলিশের গাড়িতে আদালতের উদ্দেশে রওনা হওয়ার সময় তারাশঙ্কর রায়কে সাংবাদিকরা গ্রেফতারের কারণ জানতে চান। তবে তিনি কোনও প্রশ্নের উত্তর দেননি।তারাশঙ্কর রায়ের আইনজীবী চঞ্চল রায় অবশ্য তাঁর মক্কেলের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগকে মিথ্যা বলে দাবি করেছেন। তাঁর বক্তব্য, অভিযোগে বলা হয়েছে, অভিযোগকারী বিক্রমপুর মোড়ে চা খাচ্ছিলেন। সেই সময় তারাশঙ্কর রায় গাড়ি করে এসে তাঁকে বন্দুক দিয়ে মারতে চেষ্টা করেন। এরপর গলায় কাপড় পেঁচিয়ে মারার উদ্যোগ নেন এবং শেষে গাড়িতে পিষে মারার চেষ্টা করেন। আইনজীবীর দাবি, এই অভিযোগ কোনওভাবেই বিশ্বাসযোগ্য নয়।অন্যদিকে তালডাংরার বিজেপি বিধায়ক সৌভিক পাত্র বলেন, “গ্রেফতারের বিষয়টি শুনেছি। গতকাল একটা ঝগড়া হয়েছিল বলেও শুনেছি। পুলিশ পুলিশের মতো কাজ করবে, আইন আইনের পথেই চলবে। এখন তো অপশাসন নেই। যা আছে তা আইনের শাসন।”উল্লেখ্য, মাসখানেক আগে দাদাগিরি, তোলাবাজি, হুমকি-সহ একাধিক অভিযোগে তৃণমূলের এই জেলা সভাপতি তারাশঙ্কর রায় এবং জেলা পরিষদের সভাধিপতি অনসূয়া রায়ের ছেলেকে গ্রেফতার করা হয়েছিল।
হিন্দুস্থান সমাচার / সোমনাথ বরাট