
বাসন্তী, ১২ আগস্ট (হি. স.): জাতীয় স্তরের প্রবন্ধ রচনা প্রতিযোগিতায় সাফল্য পেল বাসন্তীর ফুলমালঞ্চ ঋতুভকত হাই স্কুলের নবম শ্রেণির ছাত্রী সেলিমা মোল্লা। ভারত সরকারের পক্ষ থেকে আয়োজিত ‘বিকশিত ভারত’ বিষয়ক প্রবন্ধ রচনা প্রতিযোগিতায় নির্বাচিত হয়েছে তার লেখা। এই সাফল্যের স্বীকৃতি হিসেবে আগামী ১৫ আগস্ট দিল্লির লালকেল্লায় আয়োজিত স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার জন্য বিশেষ আমন্ত্রণ পেয়েছে সেলিমা।
বুধবার বিদ্যালয় সূত্রে জানা গিয়েছে, দেশজুড়ে বহু ছাত্রছাত্রী এই প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছিল। তাদের মধ্যে সেলিমার লেখা প্রবন্ধ নির্বাচিত হওয়ায় সেলিমাকে ডাকা হয়েছে দিল্লির অনুষ্ঠানে। সেলিমার এই সাফল্যে খুশি তাঁর স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষিকা, সহপাঠী এবং তার অভিভাবকরা। স্কুলের প্রধান শিক্ষক অম্বরিশ দত্ত বলেন, “ সেলিমা আমাদের গর্ব। সুন্দরবনের প্রত্যন্ত এলাকার বিদ্যালয়ের ছাত্রী যেভাবে নিজের প্রতিভার বিকাশ করেছে নিজের লেখনীর মাধ্যমে তা সমস্ত সুন্দরবনবাসীর কাছেই গর্ব। আমরা চাই ও আরও এগিয়ে যাক।”
সেলিমার এই সাফল্যে বিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে তাকে অভিনন্দন জানানো হয়েছে। ভবিষ্যতে পড়াশোনার পাশাপাশি আরও বিভিন্ন ক্ষেত্রে সাফল্য অর্জন করুক সে, সেই কামনাই করছেন শিক্ষক-শিক্ষিকা ও অভিভাবকেরা। আগামী ১৫ আগস্ট দিল্লির লালকেল্লায় স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে দেশের জাতীয় অনুষ্ঠানের সাক্ষী হওয়ার সুযোগ পেয়ে উচ্ছ্বসিত সেলিমাও। সে বলে, “ প্রবন্ধ প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার সময় ভাবিনি এ ভাবে সুযোগ পাবো। তবে সুযোগ পেয়ে ভালো লাগছে। দিল্লিতে স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে পারবো ভেবেই শিহরণ হচ্ছে।”
যদিও এই অনুষ্ঠানে সে আদৌ যোগ দিতে পারবে কিনা বুঝতে পারছে না। কারণ দিল্লি স্বরাষ্ট্র দফতরের তরফ থেকে পাঠানো মেল সহ যাবতীয় নথি সেলিমা ও তার পরিবার বুঝে উঠতে পারছেন না বলে জানা গিয়েছে। বুধবার সন্ধ্যা পর্যন্ত সেলিমার দিল্লি যাওয়া যথেষ্ট অনিশ্চিত বলেই জানিয়েছেন তাঁর মা রেহেনা মোল্লা। তিনি বলেন, “ আমরা সেভাবে ফোন সম্পর্কে বুঝি না। গত ৫ তারিখ দিল্লি থেকে আমাদেরকে মেল ও মেসেজ করা হলেও আমরা বুঝতে পারিনি। মঙ্গলবার ফোন করলে তবে জানতে পারি। কিন্তু কিভাবে যাবো দিল্লি বুঝতে পারছি না। ওনারা বিমানের টিকিট মেলে পাঠিয়েছেন বলে জানিয়েছেন, কিন্তু আমরা এখনও তা উদ্ধার করতে পারিনি।” তিনি আরও বলেন, “ টিকিট না পেলে আমাদের মতো দরিদ্র পরিবারের পক্ষে টাকা পয়সা খরচ করে দিল্লি যাওয়া সম্ভব নয়।”
বিষয়টি জানতে পেরে অবশ্য সেলিমার পরিবারকে সাহায্যের আশ্বাস দিয়েছেন বাসন্তীর বিডিও সঞ্চয়িতা ঘোষ। তিনি বলেন, “ দিল্লির নির্দেশিকা যদি ওনারা সঠিক ভাবে বুঝতে না পারেন, তাহলে আমাদের কাছে এলে আমরা এ বিষয়ে সাহায্য করে দেবো।”
---------------
হিন্দুস্থান সমাচার / পার্সতি সাহা