
কলকাতা, ১২ আগস্ট (হি.স.): কথাসাহিত্যিক বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ১৩২তম জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে ঝাড়খণ্ডের ঘাটশিলায় দু'দিনব্যাপী ‘বিভূতি উৎসব ঘাটশিলা–২০২৬’-এর আয়োজন করতে চলেছে গৌরীকুঞ্জ উন্নয়ন সমিতি। আগামী ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হতে চলা এই উৎসবে সাহিত্য সভা, নাটক, বসে আঁকো প্রতিযোগিতা, স্থানীয় গুণীজন, কবি ও লেখকদের সম্মান প্রদানসহ লোকশিল্পীদের বিশেষ সংবর্ধনার আয়োজন করা হয়েছে।আয়োজকদের তরফে জানানো হয়েছে, উৎসবের সাংস্কৃতিক মূল অনুষ্ঠানগুলি আয়োজিত হবে স্থানীয় আশা অডিটোরিয়ামে। পাশাপাশি থাকবে লোকসংস্কৃতির নানা পরিবেশনা, যার মধ্যে বিশেষ আকর্ষণ ছৌ নাচ ও করম নাচ।উৎসবের পেছনের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে ‘বিভূতি উৎসব ঘাটশিলা–২০২৬’-এর কার্যকরী সম্পাদক তাপস চট্টোপাধ্যায় জানান, ২০০৮ সাল থেকেই গৌরীকুঞ্জ উন্নয়ন সমিতি নিয়মিতভাবে সাহিত্যিকের জন্মজয়ন্তী পালন করে আসছে। এই উদযাপনের মাধ্যমেই গড়ে উঠেছে বিশেষ মেলা, যেখানে বিভূতিপ্রেমী ও সাহিত্য অনুরাগীদের সমাগম উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাচ্ছে।এ দিন কলকাতা প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক সাংবাদ সম্মেলনে সমিতির সহ-সভাপতি সুমনা গুপ্ত জানান, ঘাটশিলায় প্রতি বছরই বাঙালি পর্যটকদের আনাগোনা বাড়ছে। সেই আবহে এ বছরের উৎসব ও মেলায় নতুন বেশ কিছু মাত্রার সংযোজন করা হয়েছে, যা পর্যটন ও সংস্কৃতির মেলবন্ধন ঘটাবে।সংবাদ সম্মেলনে ঐতিহাসিক এক প্রাসঙ্গিকতার কথাও স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়। ২০০০ সাল নাগাদ ঘাটশিলা রেল স্টেশন থেকে বাংলা ভাষার নামফলক মুছে দেওয়া হয়েছিল, যা নিয়ে দীর্ঘ আন্দোলন চলে। প্রবল জনদাবীর মুখে পড়ে অবশেষে ২০২৪ সালে রেল কর্তৃপক্ষ স্টেশনটিতে পুনরায় বাংলা ভাষা ফিরিয়ে দিতে বাধ্য হয়।প্রেস ক্লাবের এই সূচনা অনুষ্ঠানে বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের পৌত্র তৃণাঙ্কুর বন্দ্যোপাধ্যায়, গৌরীকুঞ্জ উন্নয়ন সমিতির যুগ্ম সম্পাদক নিলু দত্ত ও কোষাধ্যক্ষ মৃণাল কান্তি বিশ্বাসসহ অন্যান্য বিশিষ্টজনেরা উপস্থিত ছিলেন।
হিন্দুস্থান সমাচার / শুভদ্যুতি দত্ত