
হাফলং (অসম), ১২ আগস্ট: (হি স) লামডিং-বদরপুর পাহাড় লাইনে নিউ হারাঙ্গাজাও স্টেশন সংলগ্ন এলাকায় বার বার ধস ও মাটি সরে যাওয়ার ঘটনায় রেলপথের সুরক্ষা নিয়ে উদ্বেগের মধ্যেই এ বার মাটি আটকানোর কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে জিও টেগ ব্যাগ। রেলপথের ক্ষতিগ্রস্ত অংশে মাটি ধরে রাখা এবং ফের ধস নামার প্রবণতা কমাতে প্রায় হাজার খানেক জিও টেগ ব্যাগ ইতিমধ্যেই ঘটনাস্থলে নিয়ে আসা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। বর্ষার মরসুমে নিউ হারাঙ্গাজাও স্টেশন সংলগ্ন পাহাড়ি এলাকায় একের পর এক ধস নামায় রেললাইনের নীচের মাটি সরে যাচ্ছে। কোথাও রেললাইনের তলার মাটি ধুয়ে গিয়েছে, কোথাও আবার পাহাড়ের ঢাল থেকে নেমে আসা মাটি ও পাথর লাইনের উপরে এসে পড়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেল কর্তৃপক্ষ ইতিমধ্যেই ভারী যন্ত্রপাতি নামিয়ে মাটি ভরাট, পাথর ফেলা এবং ঢাল স্থিতিশীল করার কাজ চালাচ্ছে। তারই সঙ্গে এ বার জিও টেগ ব্যাগ ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রেল সূত্রে জানা গিয়েছে, জিও টেগ ব্যাগ মূলত ক্ষতিগ্রস্ত জায়গায় মাটি ধরে রাখার কাজে ব্যবহার করা হবে। বিশেষ ধরনের এই ব্যাগে মাটি, বালি বা প্রয়োজনীয় ভরাট সামগ্রী রেখে ধসপ্রবণ অংশে স্তরে স্তরে বসানো যায়। এর ফলে বৃষ্টির জলে মাটি সরাসরি ধুয়ে যাওয়ার প্রবণতা কিছুটা কমে এবং ক্ষতিগ্রস্ত ঢাল বা রেললাইনের নীচের অংশকে সাময়িক ভাবে শক্ত করে রাখা সম্ভব হয়। বিশেষ করে যেখানে দ্রুত কংক্রিটের স্থায়ী কাঠামো তৈরি করা সম্ভব নয়, সেখানে এমন ব্যবস্থা বর্ষাকালে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে।
নিউ হারাঙ্গাজাও স্টেশনের ১ নম্বর ও ২ নম্বর লাইনে দীর্ঘদিন ধরেই মাটি সরে যাওয়ার কারণে ট্রেন চলাচলে সমস্যা তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতির গুরুত্বের কথা মাথায় রেখে ৩ নম্বর লাইন দিয়ে সীমিত ভাবে ট্রেন চালানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে। কিন্তু বর্ষার বৃষ্টিতে নতুন করে মাটি ধসে পড়ার আশঙ্কা থাকায় ওই লাইন নিয়েও রেল কর্তৃপক্ষকে অত্যন্ত সতর্ক থাকতে হচ্ছে। গত কয়েক সপ্তাহে নিউ হারাঙ্গাজাওয়ের রেলপথের ক্ষতিগ্রস্ত অংশে বিপুল পরিমাণ মাটি ও পাথর সরিয়ে পুনরায় ভরাটের কাজ হয়েছে। কোথাও বড় বড় বোল্ডার ফেলে মাটি আটকানোর চেষ্টা হয়েছে। আবার কোথাও পাহাড়ের ঢাল থেকে নেমে আসা জল নিয়ন্ত্রণের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। কিন্তু বৃষ্টির তীব্রতা কম না হওয়ায় এক জায়গা মেরামত করার পর অন্য জায়গায় ফের মাটি সরে যাওয়ার ঘটনা ঘটছে। ফলে স্বাভাবিক রেল পরিষেবা ফেরাতে রেলের কাছে পরিস্থিতি কার্যত বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই পরিস্থিতিতে জিও টেগ ব্যাগকে আপাতত অতিরিক্ত সুরক্ষা ব্যবস্থা হিসাবে দেখা হচ্ছে। প্রায় হাজারটি ব্যাগ ঘটনাস্থলে পৌঁছনোর পর প্রয়োজন অনুযায়ী ক্ষতিগ্রস্ত অংশে সেগুলি বসানোর কাজ শুরু হবে। বিশেষ করে রেললাইনের নীচের অংশে যেখানে মাটির স্তর দুর্বল হয়ে পড়েছে, সেখানে ব্যাগগুলি ব্যবহার করে মাটির চাপ ও ক্ষয় নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করা হবে। স্থানীয়দের বক্তব্য, নিউ হারাঙ্গাজাওয়ের এই অংশটি বর্ষায় বরাবরই অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। পাহাড়ের ঢাল, নরম মাটি এবং প্রবল বৃষ্টির কারণে সামান্য বৃষ্টিতেই নতুন করে ধস নামার আশঙ্কা থাকে। ফলে শুধু মাটি ভরাট করলেই সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে না। জলনিকাশি ব্যবস্থা উন্নত করা, পাহাড়ের ঢাল শক্ত করা এবং রেললাইনের নীচের মাটি দীর্ঘমেয়াদি ভাবে সুরক্ষিত করার প্রয়োজন রয়েছে।
রেল কর্তৃপক্ষ অবশ্য জানিয়েছে, যাত্রী নিরাপত্তাকে সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়েই ক্ষতিগ্রস্ত অংশে কাজ চলছে। আবহাওয়া এবং মাটির পরিস্থিতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। প্রয়োজন অনুযায়ী ট্রেনের গতি নিয়ন্ত্রণ এবং চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপ করা হচ্ছে। ভারী যন্ত্রপাতি দিয়ে মেরামতির পাশাপাশি জিও টেগ ব্যাগের মতো অতিরিক্ত প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থাও নেওয়া হচ্ছে। লামডিং-বদরপুর পাহাড় লাইনের উপর দিয়ে বরাক উপত্যকা ও পার্বত্য অসমের মধ্যে বিপুল সংখ্যক যাত্রী ও পণ্যবাহী ট্রেন চলাচল করে। ফলে নিউ হারাঙ্গাজাওয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ অংশে দীর্ঘস্থায়ী সমস্যা তৈরি হলে তার প্রভাব পড়ে গোটা রেল পরিষেবায়। ইতিমধ্যেই একাধিক ট্রেন বাতিল, নিয়ন্ত্রণ বা পুনর্নির্ধারণ করতে হয়েছে। রেলকর্মীদের একাংশের আশা, জিও টেগ ব্যাগের সাহায্যে আপাতত ক্ষতিগ্রস্ত অংশের মাটি ধরে রাখা সম্ভব হলে মেরামতির কাজ কিছুটা দ্রুত এগোবে। তবে বর্ষা না কমলে পরিস্থিতি কতটা স্থায়ী ভাবে নিয়ন্ত্রণে আনা যাবে, তা নিয়ে সংশয় থেকেই যাচ্ছে। এখন নজর এক দিকে পাহাড়ের আকাশের দিকে, অন্য দিকে নিউ হারাঙ্গাজাওয়ের ক্ষতিগ্রস্ত রেলপথে—নতুন করে ধস নামে কি না, সেটাই বড় প্রশ্ন।
হিন্দুস্থান সমাচার / বিশাখা দেব