
কলকাতা, ১২ আগস্ট (হি.স.): পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার একদিনের বিশেষ অধিবেশনে বুধবার পাস হয়ে গেল বহু প্রতীক্ষিত ‘হাওড়া পুরনিগম ওয়ার্ড পরিসীমন সংশোধনী বিল, ২০২৬’। এই নতুন বিল অনুমোদনের ফলে হাওড়া পুরনিগমে মোট ওয়ার্ডের সংখ্যা ৫০ থেকে বেড়ে ৬৮ হলো। একই সঙ্গে গত ৭ ফেব্রুয়ারি বিধানসভায় পাস হওয়া পুরানো সংশোধনী বিলটি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যাহার করে নিয়েছে বিধানসভা।
হাউসে ‘হাওড়া পুরনিগম সংশোধনী বিল, ২০২৬’ পেশ করে পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল ওয়ার্ড পুনর্গঠনের সিদ্ধান্তকে সমর্থন জানিয়ে বলেন, এর মূল উদ্দেশ্য হলো পুরসভার নাগরিক পরিষেবা আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া।
তিনি জানান, শহরের জনসংখ্যা বৃদ্ধি ও বিন্যাসে বিপুল পরিবর্তনের কথা মাথায় রেখেই ওয়ার্ড সংখ্যা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর ফলে স্থানীয় বাসিন্দারা স্বাস্থ্য, পরিচ্ছন্নতা ও অন্যান্য পুরপরিষেবা আগের চেয়ে অনেক বেশি কার্যকরভাবে পাবেন।
মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল আরও তথ্য প্রকাশ করে জানান, রাজ্য সরকার হাওড়া শহরের জন্য একটি সুনির্দিষ্ট ‘মাস্টার প্ল্যান’ তৈরি করেছে। এই বিশেষ পরিকল্পনার অধীনে শহরের ভগ্ন রাস্তা সংস্কার, বিশুদ্ধ পানীয় জল সরবরাহের মানোন্নয়ন এবং জলনিকাশি ব্যবস্থার স্থায়ী সমাধানের ওপর জোর দেওয়া হবে। সরকারের এই পরিকল্পনার ফলে হাওড়ার দীর্ঘদিনের পুরানো জলজমার সমস্যা থেকে শহরবাসী স্থায়ী মুক্তি পাবেন বলে তিনি আশাপ্রকাশ করেন।
বক্তব্য পেশের সময় মন্ত্রী পূর্ববর্তী তৃণমূল কংগ্রেস সরকারের তীব্র সমালোচনা করেন। হাওড়া শহরের দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত জলজমা সমস্যা, বেহাল রাস্তাঘাট, অপর্যাপ্ত জলনিকাশি, অনিয়ন্ত্রিত বেআইনি নির্মাণ এবং মারাত্মক পানীয় জল সংকটের প্রসঙ্গ তিনি বিধানসভার অধিবেশনে তুলে ধরেন। তিনি অভিযোগ করেন, সামান্য বৃষ্টিতেই হাওড়ার বিস্তীর্ণ অঞ্চল দু-তিন দিন ধরে জলমগ্ন হয়ে থাকত। পূর্ববর্তী সরকার পরিকল্পিত জলনিকাশি ও জল সরবরাহ পরিকাঠামো না গড়ে কেবল বেআইনি নির্মাণকে উৎসাহ দিয়েছে।
ওয়ার্ড পরিসীমন সংশোধনী বিল পাস হওয়ার ফলে দীর্ঘদিন ধরে আটকে থাকা হাওড়া পুরনিগমের নির্বাচন উৎসবের মরসুম শেষ হওয়ার পরই চলতি বছরের শেষের দিকে অনুষ্ঠিত হওয়ার জোরালো সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। তবে পুরভোটের সময়সূচি নিয়ে স্পষ্ট বার্তা দিয়ে মন্ত্রী জানান, পুর নির্বাচনের তারিখ আমরা দলের কার্যালয়ে বসে ঠিক করব না। রাজ্য নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে প্রয়োজনীয় আলোচনার পরেই এই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
তিনি আরও অভিযোগ তোলেন যে, নির্বাচনে হেরে যাওয়ার ভয়েই পূর্ববর্তী তৃণমূল কংগ্রেস সরকার উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বছরের পর বছর হাওড়া পুরসভার নির্বাচন ঝুলিয়ে রেখেছিল। রাজনৈতিক বিদ্বেষের কারণে গত শাসনে হাওড়া পুরনিগমকে পুর তহবিলের প্রায় ২০০ কোটি টাকা থেকে বঞ্চিত রাখা হয় বলেও দাবি করেন তিনি। বর্তমানে ঠিকাদার ও কর্মীদের বকেয়া বাবদ পুরসভার ঘাড়ে ৪০০ কোটি টাকারও বেশি দেনার বোঝা রয়েছে বলে জানান তিনি।
বিল প্রত্যাহারের কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে মন্ত্রী জানান, ফেব্রুয়ারি মাসে পাস হওয়া পুরনো বিলটিতে অতিরিক্ত কিছু তথ্যের প্রয়োজন দর্শিয়ে রাজ্যপাল সেটি দফতরে ফেরত পাঠিয়েছিলেন। এরপরই বর্তমান বিজেপি সরকার ওয়ার্ডের সংখ্যা বাড়িয়ে সার্বিক রূপরেখা পরিবর্তনের স্বার্থে পুরনো বিলটি বাতিল করে সম্পূর্ণ নতুন বিল পেশ করে।
হিন্দুস্থান সমাচার / সোনালি