এটিএম কার্ড জালিয়াতি চক্রের পর্দাফাঁস, ১৯টি ডেবিট কার্ড–সহ জলপাইগুড়ির যুবক গ্রেফতার
শিলিগুড়ি, ১২ আগস্ট (হি.স.): এটিএম বুথে টাকা তোলার সময় সাহায্যের নামে কৌশলে কার্ড বদলে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা হাতিয়ে নেওয়া এক আন্তঃজেলা জালিয়াত চক্রের পর্দাফাঁস করল শিলিগুড়ি মেট্রোপলিটন পুলিশের মেডিক্যাল ফাঁড়ির পুলিশ। এই ঘটনায় যুক্ত থা
এটিএম কার্ড জালিয়াতি চক্রের পর্দাফাঁস, ১৯টি ডেবিট কার্ড–সহ জলপাইগুড়ির যুবক গ্রেফতার


শিলিগুড়ি, ১২ আগস্ট (হি.স.): এটিএম বুথে টাকা তোলার সময় সাহায্যের নামে কৌশলে কার্ড বদলে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা হাতিয়ে নেওয়া এক আন্তঃজেলা জালিয়াত চক্রের পর্দাফাঁস করল শিলিগুড়ি মেট্রোপলিটন পুলিশের মেডিক্যাল ফাঁড়ির পুলিশ। এই ঘটনায় যুক্ত থাকার অভিযোগে জগন্নাথ ঘড়ামি নামে এক যুবককে পুলিশ গ্রেফতার করেছে। অভিযুক্তের কাছ থেকে বিভিন্ন ব্যাঙ্কের ১৯টি নকল এটিএম কার্ড উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিশ এই চক্রের বাকি সদস্যদের খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছে। বুধবার অভিযুক্তকে শিলিগুড়ি আদালতে পেশ করে নিজেদের হেফাজতে নেওয়ার আবেদন জানানো হবে।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, এই দুষ্কৃতী চক্রটি অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে সাধারণ মানুষকে প্রতারিত করত। প্রথমে দুষ্কৃতীরা এটিএম মেশিনের কি-প্যাডের নির্দিষ্ট কিছু বোতাম (যেমন শূন্য) অকেজো বা জ্যাম করে রাখত, যাতে টাকা তুলতে আসা গ্রাহকেরা সমস্যায় পড়েন। ঠিক সেই সময় সাহায্য করার অজুহাতে চক্রের সদস্যরা এটিএম কাউন্টারে প্রবেশ করত এবং কথাবার্তায় গ্রাহকের মনোযোগ ঘুরিয়ে দিত। এরপরই আসল এটিএম কার্ডটি হাতিয়ে নিয়ে তার জায়গায় একটি ভুয়ো বা অন্য কার্ড গ্রাহকের হাতে ধরিয়ে দেওয়া হতো।

ঘটনার সূত্রপাত হয় উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের ওয়ার্ড মাস্টার মুখতার হোসেনের সঙ্গে ঘটা একটি প্রতারণাকে কেন্দ্র করে। মেডিক্যাল কলেজ গেটের কাছে অবস্থিত একটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কের এটিএম-এ টাকা তুলতে গিয়েছিলেন তিনি। এটিএম মেশিনের 'জিরো' (০) বোতামটি কাজ না করায় অভিযুক্ত সাহায্য করার বাহানায় তাঁর সঙ্গে কথা বলে এবং কৌশলে আসল কার্ডটি বদলে নেয়।

কিছুক্ষণ পর মুখতার হোসেনের মোবাইলে অ্যাকাউন্ট থেকে প্রায় ২৬ হাজার টাকা তুলে নেওয়ার বার্তা আসে। বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হওয়ায় তিনি হাতের কার্ডটি পরীক্ষা করে বুঝতে পারেন এটি তাঁর আসল কার্ড নয়। তিনি অবিলম্বে মেডিক্যাল পুলিশ ফাঁড়িতে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

অভিযোগ পেতেই সিসিটিভি ফুটেজ ও গোপন সূত্রের খবরের ভিত্তিতে তদন্তে নামে পুলিশ। তদন্ত চলাকালীন পুলিশ খবর পায় যে, কদমতলার বিএসএফ মোড়ের কাছে একটি এটিএম বুথের চারপাশে ওই চক্রের কয়েকজন সদস্য সন্দেহজনকভাবে ঘোরাঘুরি করছে। মঙ্গলবার রাতে পুলিশ সেখানে অভিযান চালালে কয়েকজন দুষ্কৃতী চম্পট দিলেও জগন্নাথ ঘড়ামিকে হাতেনাতে ধরে ফেলে পুলিশ।

ধৃতের দেহে তল্লাশি চালিয়ে ১৯টি জাল এটিএম কার্ড উদ্ধার হয়। এত বিপুল পরিমাণ কার্ড উদ্ধারের পর পুলিশের অনুমান, দীর্ঘদিন ধরে শিলিগুড়ি ও আশেপাশের এলাকায় এই চক্রটি সক্রিয় ছিল। উদ্ধার হওয়া কার্ডগুলি এবং ব্যাঙ্ক লেনদেনের তথ্য খতিয়ে দেখে কোন কোন গ্রাহকের অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা তোলা হয়েছে তা জানার চেষ্টা করছে পুলিশ।

শিলিগুড়ি মেট্রোপলিটন পুলিশের এসিপি অনির্বাণ মজুমদার জানিয়েছেন, মেডিক্যাল ফাঁড়ির পুলিশ একটি প্রতারক চক্রের এক সদস্যকে গ্রেফতার করেছে এবং তার কাছ থেকে ১৯টি কার্ড পাওয়া গিয়েছে। পুরো চক্রটিকে ধরতে ও বিস্তারিত জিজ্ঞাসাবাদের জন্য অভিযুক্তকে আদালতে পেশ করে পুলিশি হেফাজতে নেওয়ার আবেদন জানানো হবে।

হিন্দুস্থান সমাচার / সোনালি




 

 rajesh pande