
আগরতলা, ১২ আগস্ট (হি.স.) : স্মার্ট মিটার নিয়ে রাজ্য সরকার ও বিরোধীদের মধ্যে দোষারোপের রাজনীতি চলছে, অথচ সাধারণ মানুষের সমস্যার সমাধান হচ্ছে না। বরং বিদ্যুৎ বিল নিয়ে জনমনে ক্ষোভ ক্রমশ বাড়ছে। বুধবার সাংবাদিক সম্মেলন করে এমনই অভিযোগ তুললেন সিআইটিইউ রাজ্য সভাপতি তথা প্রাক্তন বিদ্যুৎমন্ত্রী মানিক দে।
মানিক দে-র বক্তব্য, ২০২৫ সালে সংসদে বিদ্যুৎ সংক্রান্ত বিল পাশ করাতে ব্যর্থ হওয়ার পর একটি প্রশাসনিক নির্দেশের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট প্রকল্প চালু করার চেষ্টা হচ্ছে। এর মাধ্যমে সাধারণ মানুষের উপর স্মার্ট মিটারের বোঝা চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
স্মার্ট মিটার নিয়ে মঙ্গলবার বর্তমান বিদ্যুৎমন্ত্রী যে বক্তব্য রেখেছেন, তার জবাব দিতে গিয়ে মানিক দে বলেন, ২০১৬-১৭ সালে তৎকালীন বামফ্রন্ট সরকার স্মার্ট মিটার বসানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছিল—এই দাবি সম্পূর্ণ প্রেক্ষাপট ছাড়া তুলে ধরা হচ্ছে। তাঁর দাবি, কেন্দ্রীয় সরকার ২০১৪-১৫ সাল থেকেই স্মার্ট মিটার বসানোর জন্য নির্দেশ দিতে শুরু করেছিল। প্রথমদিকে রাজ্য সরকার বিষয়টি নিয়ে আপত্তি জানালেও পরবর্তীতে বিশ্বব্যাংকের কাছ থেকে প্রায় ১,৩৭৬ কোটি টাকার একটি প্রকল্প পাওয়ার লক্ষ্যে ৫০ হাজার স্মার্ট মিটার বসানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
তাঁর দাবি, সেই সময় ৫০ হাজার মিটার বসানো হলেও তা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ক্ষোভ বা বিক্ষোভ তৈরি হয়নি। কিন্তু বর্তমানে বাড়ি বাড়ি নতুন স্মার্ট মিটার প্রতিস্থাপনের পর বিদ্যুৎ বিল অস্বাভাবিকভাবে বেশি আসছে বলে অভিযোগ উঠছে। এই পরিস্থিতির জন্য বেসরকারি সংস্থার ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন সিআইটিইউ রাজ্য সভাপতি।
মানিক দে বলেন, একটি বেসরকারি সংস্থার সরবরাহ করা যন্ত্র অন্য একটি বেসরকারি সংস্থা বাড়ি বাড়ি গিয়ে প্রতিস্থাপন করছে। কিন্তু মিটার নিয়ে সমস্যা দেখা দিলে দায়িত্ব কার—তা স্পষ্ট নয়। তাঁর অভিযোগ, মিটার পরিবর্তনের পর বহু গ্রাহকের বিদ্যুৎ বিল বেড়ে যাওয়ায় মানুষের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। অথচ এই ক্ষোভের বিষয়ে বর্তমান বিদ্যুৎমন্ত্রীর কাছ থেকে যথাযথ বক্তব্য পাওয়া যাচ্ছে না।
তাঁর মতে, শুধু স্মার্ট মিটারই সমস্যার মূল কারণ নয়। রাজ্যে বিদ্যুতের মাশুল বৃদ্ধিও সাধারণ মানুষের উপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি করেছে। একইসঙ্গে যে সংস্থাগুলি স্মার্ট মিটার সরবরাহ করেছে, তাদের মিটার সংক্রান্ত ত্রুটি বা অভিযোগ সমাধানের দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে না কেন—তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।
মানিক দে আরও দাবি করেন, ২০২৫ সালে বিদ্যুৎ বিল সংক্রান্ত একটি বিল লোকসভায় পাশ করানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। বিরোধীদের তীব্র আপত্তির কারণে সেটি পাশ করা সম্ভব হয়নি। তাঁর অভিযোগ, পরবর্তীতে প্রশাসনিক নির্দেশের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট প্রকল্প চালু করে সাধারণ মানুষের উপর অতিরিক্ত আর্থিক বোঝা চাপানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।
স্মার্ট মিটার নিয়ে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের অভিযোগের দ্রুত সমাধানের দাবি জানান তিনি। বিদ্যুৎ বিল বৃদ্ধির কারণ খতিয়ে দেখে গ্রাহকদের স্বস্তি দেওয়ার জন্য কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ারও দাবি জানায় সিআইটিইউ।
হিন্দুস্থান সমাচার / গোবিন্দ দেবনাথ