(রাউন্ড আপ) কলকাতা পুরসভার ওয়ার্ড বেড়ে ২০৯ ও হাওড়ায় ৬৮, বিধানসভায় পাস জোড়া সংশোধনী বিল
কলকাতা, ১২ আগস্ট (হি.স.): পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার বুধবারের একদিনের বিশেষ অধিবেশনে কলকাতা ও হাওড়া পুরনিগমের ওয়ার্ড সংখ্যা বাড়ানো সংক্রান্ত দুটি গুরুত্বপূর্ণ সংশোধনী বিল পাস হয়ে গেল। নতুন প্রস্তাবনা অনুযায়ী, কলকাতা পুরসভার (কেএমসি) ওয়ার্ড সংখ্যা ব
শুভেন্দু অধিকারী


কলকাতা, ১২ আগস্ট (হি.স.): পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার বুধবারের একদিনের বিশেষ অধিবেশনে কলকাতা ও হাওড়া পুরনিগমের ওয়ার্ড সংখ্যা বাড়ানো সংক্রান্ত দুটি গুরুত্বপূর্ণ সংশোধনী বিল পাস হয়ে গেল। নতুন প্রস্তাবনা অনুযায়ী, কলকাতা পুরসভার (কেএমসি) ওয়ার্ড সংখ্যা বিদ্যমান ১৪৪ থেকে বাড়িয়ে ২০৯ এবং হাওড়া পুরনিগমের ওয়ার্ড সংখ্যা ৫০ থেকে বাড়িয়ে ৬৮ করা হচ্ছে। বিল দুটির ওপর বিস্তারিত পর্যালোচনার পর কক্ষের সদস্যরা ধ্বনিভোটে এটি অনুমোদন করেন।

উৎসবের মরসুম শেষ হতেই চলতি বছরের শেষের দিকে এই দুই গুরুত্বপূর্ণ পুরনিগমের বকেয়া নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। ভোটের বাদ্যি বাজার আগেই রাজ্য সরকার দুটি পুরসভারই ওয়ার্ড পরিসীমন প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করতে চাইছে। প্রস্তাবিত পরিবর্তনের অংশ হিসেবে হাওড়া থেকে বালিকে আবারও প্রশাসনিকভাবে পৃথক পুরসভা করা হচ্ছে।

অধিবেশনে ‘কলকাতা মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশন সংশোধনী বিল’ ও ‘হাওড়া মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশন সংশোধনী বিল’ পেশ করে পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পল বলেন, ওয়ার্ড পুনর্গঠনের প্রধান উদ্দেশ্য হলো নাগরিক পরিষেবা সাধারণ মানুষের কাছে আরও দ্রুত ও সুচারুভাবে পৌঁছে দেওয়া। শহরগুলির জনসংখ্যা ও বসতির ধরনে ব্যাপক পরিবর্তন আসার কারণেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মন্ত্রী জানান, নতুন পরিকাঠামো কার্যকর হলে পুরসভার নাগরিক পরিষেবা প্রদানের গতি বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে।

হাওড়ার সার্বিক রূপরেখা বদলে রাজ্য সরকারের তৈরি বিশেষ ‘মাস্টার প্ল্যান’-এর কথাও বিধানসভায় জানান মন্ত্রী। তিনি বলেন, শহরটির ভাঙাচোরা রাস্তা সংস্কার, পানীয় জল সরবরাহ সুনিশ্চিত করা এবং স্থায়ী জলনিকাশি ব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। এর ফলে হাওড়ার দীর্ঘদিনের জলজমা সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব হবে।

বিতর্কে অংশ নিয়ে বিরোধী বিধায়কদের আশ্বস্ত করে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট জানান, কোনো নিয়মকানুন বা আইনি প্রক্রিয়া এড়িয়ে এই বিল পাস করানো হয়নি। তিনি জানান, কলকাতা পুরসভার নিজস্ব আইন রয়েছে এবং ওয়ার্ডের সীমানা পুনর্নির্ধারণ প্রক্রিয়াটি সরাসরি রাজ্য নির্বাচন কমিশন পরিচালনা করবে। খসড়া বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর পুরো প্রক্রিয়া শেষ করতে ৬০ দিন সময় মিলবে। প্রক্রিয়া চলাকালীন দু’টি সর্বদলীয় বৈঠক ডাকা হবে— প্রথমটি খসড়া তালিকা প্রকাশের আগে এবং দ্বিতীয়টি চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের আগে।

উল্লেখ্য, মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই শুভেন্দু অধিকারী কলকাতা ও হাওড়া পুর এলাকার ওয়ার্ড পুনর্গঠন এবং বছরের শেষেই পুরভোট সম্পন্ন করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। সেই পরিকল্পনা মেনেই দুর্গাপূজা ও দীপাবলির মরসুম পার হওয়ার পর অক্টোবর-নভেম্বর নাগাদ নির্বাচন হতে পারে বলে প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে। ঐতিহ্যবাহী কলকাতা পুরসভার বর্তমানে ১৪৪টি ওয়ার্ড রয়েছে, যা বেড়ে দাঁড়াবে ২০৯-এ। কলকাতা পুরসভার সঙ্গে নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু, দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাস ও ড. বিধানচন্দ্র রায়ের মতো প্রাতঃস্মরণীয় ব্যক্তিত্বদের ঐতিহাসিক স্মৃতি বিজড়িত।

অন্যদিকে, হাওড়া পুরনিগমের বর্তমান ৫০টি ওয়ার্ড বেড়ে হচ্ছে ৬৮টি। পাশাপাশি ২০১৫ সালে হাওড়া পুরনিগমের সঙ্গে যুক্ত হওয়া বালিকে পুনরায় পৃথক করে নিজস্ব পুরসভার মর্যাদা ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। এর ফলে দীর্ঘ ৮ বছর ধরে আটকে থাকা হাওড়া পুরসভার নির্বাচনের জট পুরোপুরি কাটল। হাওড়ায় শেষ নির্বাচন হয়েছিল ২০১৩ সালে।

হাওড়া পুরসভার অর্থনৈতিক অবস্থা নিয়েও এ দিন সরগরম হয়ে ওঠে বিধানসভা। মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পল অভিযোগ করেন, তৃণমূল জমানায় হারের ভয়েই নির্বাচন ঝুলিয়ে রাখা হয়েছিল। রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে কেন্দ্রীয় বরাদ্দের প্রায় ২০০ কোটি টাকা থেকে বঞ্চিত রাখা হয়েছিল হাওড়াকে। তিনি আরও জানান, ঠিকাদার ও কর্মীদের বকেয়া মিলিয়ে বর্তমানে পুরসভার ওপর ৪০০ কোটি টাকার বেশি দেনার বোঝা চেপে রয়েছে।

বিধানসভার বিশেষ অধিবেশনের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তসমূহ

অসমের সাম্প্রতিক বিধ্বংসী বন্যা পরিস্থিতিকে ‘ভয়াবহ’ অ্যাখ্যা দিয়ে দুর্গতদের পাশে দাঁড়াতে মুখ্যমন্ত্রী ত্রাণ তহবিল থেকে ১০ কোটি টাকা আর্থিক সাহায্যের কথা ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।

পাশাপাশি রাজ্যের প্রাক্তন বিধায়কদের সম্মান ও সামাজিক নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে তাঁদের মাসিক চিকিৎসা ভাতা ৬,০০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১০,০০০ টাকা করার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। চলতি আগস্ট মাস থেকেই বর্ধিত এই ভাতা প্রযোজ্য হবে।

এ ছাড়াও রাজ্যের প্রতিটিতে বিধানসভা কেন্দ্রে একটি করে ‘বিধায়ক সেবা কেন্দ্র’ তৈরি করা হবে। তবে প্রতিটি কার্যালয়ের নাম বাধ্যতামূলকভাবে রাখতে হবে ‘নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু সেবা কেন্দ্র’ এবং ধুতি-পাঞ্জাবি পরা নেতাজির ছবি সেখানে ঝোলানো বাধ্যতামূলক। কেন্দ্রগুলি পরিচালনার জন্য রাজ্য সরকার প্রতি মাসে ৩০,০০০ টাকা করে অনুদান দেবে।

উল্লেখ্য, সম্প্রতি বিজেপির রাজ্যসভার সাংসদ নগেন্দ্রনাথ রায় ওরফে অনন্ত মহারাজ নেতাজির ভূমিকা ও আজাদ হিন্দ ফৌজ নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করেছিলেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, সেই বিতর্কের আবহেই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সমস্ত সেবা কেন্দ্র নেতাজির নামে নামঙ্কিত করার সিদ্ধান্ত বিশেষ রাজনৈতিক ও ঐতিহাসিক গুরুত্ব বহন করছে।

হিন্দুস্থান সমাচার / সোনালি




 

 rajesh pande