
সিউড়ি, ১৩ আগস্ট (হি. স.) : বীরভূমের বিতর্কিত পাথর মাফিয়া টুলু মণ্ডল ওরফে নাজিবউদ্দিনের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যেই জারি হয়েছে গ্রেফতারি পরোয়ানা। তার বিরুদ্ধে সিআইডির আর্জিতে ইন্টারপোল ‘রেড কর্নার’ নোটিশও জারি করেছে। এ বার টুলুকে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে আদালতে হাজির করার লক্ষ্যে আরও কড়া পদক্ষেপ করল প্রশাসন। বৃহস্পতিবার সকালে বীরভূমের সিউড়ির সুভাষপল্লী এলাকায় টুলুর বাসভবনের বাইরে সিউড়ি আদালতের হাজিরার নোটিশ সাটিয়ে দেওয়া হয়েছে। নোটিশে শুক্রবার সকাল সাড়ে ১০টার মধ্যে তাকে সিউড়ি আদালতে সশরীরে উপস্থিত হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে আদালতে হাজির না হলে তাকে ‘পলাতক অপরাধী’ হিসেবে ঘোষণা করা হতে পারে।
যদিও টুলু এখনও পলাতক। সে কোথায় আত্মগোপন করে রয়েছে, তদন্তকারীদের কাছে তার সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য নেই। এই পরিস্থিতিতেই বৃহস্পতিবার সকাল প্রায় সাড়ে আটটা নাগাদ পুলিশ ও প্রশাসনের আধিকারিকরা সিউড়ির সুভাষপল্লীতে টুলুর বাসভবনে পৌঁছান। আদালতের জারি করা ইংরেজি নোটিশের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সুবিধার্থে বাংলা লিপিতে একটি ‘বিশেষ ঘোষণা’ও বাড়ির দেওয়ালে সাটানো হয়।
বাংলায় লেখা ওই বিশেষ ঘোষণায় উল্লেখ করা হয়েছে, সংগঠিত অপরাধ, তথ্যপ্রমাণ লোপাট এবং অপরাধমূলক বিশ্বাসভঙ্গের মতো একাধিক গুরুতর অভিযোগে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হওয়া সত্ত্বেও টুলুর কোনো সন্ধান মিলছে না। গ্রেফতার এড়াতেই সে আত্মগোপন করে রয়েছে বলে পুলিশের দাবি। এই পরিস্থিতিতে সিউড়ি আদালত তাকে ‘পলাতক’ হিসেবে চিহ্নিত করে শুক্রবার সকাল সাড়ে ১০টার মধ্যে আদালতে সশরীরে উপস্থিত হতে নির্দেশ দিয়েছে।
পুলিশ সূত্রে খবর, গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির পর থেকেই টুলুর বিরুদ্ধে নানা স্থানে নোটিশ সাটানো ও ঢোল পিটিয়ে প্রচারের (মুনাদি) পরিকল্পনা করেছিল প্রশাসন। সেই অনুযায়ী, বুধবারই বীরভূমের পাথর খাদান এলাকায় ঢোল পিটিয়ে আদালতের হাজিরার নির্দেশ প্রচার করা হয়। এর পর দিন, বৃহস্পতিবার সকালে সিউড়ির বাসভবনে আনুষ্ঠানিকভাবে নোটিশ টাঙানো হলো।
বর্তমানে টুলুর স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তির খোঁজে বিভিন্ন স্থানে জোরদার তল্লাশি অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ। তার গোপন একাধিক আস্তানায় সিআইডি ও পুলিশের একটি বিশেষ টিম অভিযান চালাচ্ছে। এমনকি টুলুর আত্মীয় ও ঘনিষ্ঠ সহযোগীদের বাড়িগুলিতেও গিয়ে জেরা করছেন তদন্তকারীরা।
উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবারই টুলুর বিরুদ্ধে ইন্টারপোল রেড কর্নার নোটিশ জারি করে। সেই দিন সরকারি আইনজীবী বিভাস চট্টোপাধ্যায় জানান, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে টুলু আদালতে আত্মসমর্পণ বা সশরীরে হাজির না হলে আইন অনুযায়ী তাকে ‘পলাতক ও ঘোষিত অপরাধী’ হিসেবে গণ্য করা হবে। এর পর পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ হিসেবে তার সমস্ত সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার প্রক্রিয়া শুরু করতে পারবে রাজ্য প্রশাসন।
হিন্দুস্থান সমাচার / সোনালি