
কলকাতা, ১৩ আগস্ট (হি.স.): ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের ১২৫তম জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে রাজ্যজুড়ে বিশেষ যৌথ কর্মসূচি গ্রহণ করেছে ভারত সরকার ও পশ্চিমবঙ্গের তথ্য ও সংস্কৃতি দফতর। এই বর্ণাঢ্য স্মারক কর্মসূচি সুচারুভাবে রূপায়ণের লক্ষ্যে গঠিত উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন বিশেষ কমিটির প্রথম বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হলো বৃহস্পতিবার। বৈঠকে রাজ্য মন্ত্রিসভার সদস্যবৃন্দ, মুখ্যসচিবের নেতৃত্বে রাজ্য সরকারের শীর্ষ আধিকারিকেরা, কেন্দ্রীয় সরকারের বিভিন্ন দফতরের প্রতিনিধিবর্গ এবং শ্যামাপ্রসাদ চর্চায় যুক্ত বিশিষ্ট চিন্তাবিদ ও গবেষকেরা উপস্থিত ছিলেন।
ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের অনন্য স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে ১২৫ ফুট উচ্চতার একটি সুউচ্চ ব্রোঞ্জ মূর্তি নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যার জন্য ইতিমধ্যেই আনুষ্ঠানিক ভূমিপূজা সম্পন্ন হয়েছে। প্রস্তাবিত এই মূর্তির পাশাপাশি একটি বিশ্বমানের সংগ্রহশালাসহ নানাবিধ আধুনিক পরিকাঠামো গড়ে তোলার রূপরেখাও অনুমোদিত হয়েছে। এ ছাড়া, হুগলির জিরাটে তাঁর ঐতিহাসিক পৈতৃক ভিটেয় ৩০ ডেসিমেল জমি অধিগ্রহণ করেছে রাজ্য সরকার। সেখানে একটি পূর্ণাঙ্গ সংগ্রহশালা ও সমৃদ্ধ গ্রন্থাগার গড়ে তোলা হবে।
স্বাধীন ভারতের শিল্পনীতি নির্ধারণে এবং বাংলা ও দেশের সার্বিক পুনর্গঠনে শ্যামাপ্রসাদের দূরদর্শী ভূমিকা বর্তমান প্রজন্মের শিক্ষার্থীদের সামনে তুলে ধরতে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকেই প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পাঠ্যক্রমে তাঁর অবদান অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়ে ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে।
স্মারক কর্মসূচির অংশ হিসেবে মেঘালয় ও ত্রিপুরা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন রাজ্যপাল তথাগত রায়ের সম্পাদনায় শ্যামাপ্রসাদের জীবন ও কর্মভিত্তিক একটি প্রামাণ্য গ্রন্থ প্রকাশের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর পাশাপাশি সাধারণ পাঠক ও শিক্ষার্থীদের জন্য বাংলা ও ইংরেজি উভয় ভাষায় একটি তথ্যপূর্ণ চিত্রায়িত পুস্তিকাও প্রকাশিত হবে। পশ্চিমবঙ্গ গঠনের পাশাপাশি জম্মু ও কাশ্মীরের পূর্ণাঙ্গ সংহতি রক্ষায় তাঁর ঐতিহাসিক ভূমিকার ওপর বিশেষ আলোকপাত করার পরিকল্পনা রয়েছে আয়োজকদের। গোটা কর্মসূচিতে সাধারণ মানুষের নিজস্ব চিন্তাভাবনা, মতামত ও পরামর্শ গ্রহণ করা হবে বলেও জানানো হয়েছে।
হিন্দুস্থান সমাচার / শুভদ্যুতি দত্ত