
দুর্গাপুর, ১৩ আগস্ট (হি. স.): দুর্গাপুরে নাবালক স্কুল ছাত্রদের রক্তদানকান্ডে পুলিশের জালে ধরা পড়ল চক্রের আরও এক পান্ডা। এখনও পর্যন্ত চারজনকে গ্রেফতার করল দুর্গাপুর থানার পুলিশ। এদিকে ঘটনার প্রতিবাদে সরব বিজেপি ও অন্যান্য রক্তদান আন্দোলনের সেচ্ছাসেবী সংগঠন। বৃহস্পতিবার পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ধৃতের নাম কিংশুক মুখার্জিকে। ওড়িশার ভুবনেশ্বর থেকে তাকে গ্রেফতার করে পুলিশ। বৃহঃস্পতিবার তাকে দুর্গাপুর আদালতে তোলা হলে, বিচারক তার জামিন খারিজ করে দেন।
উল্লেখ্য, আর্থিক প্রলোভন দেখিয়ে দুর্গাপুরের এক বেসরকারী স্কুলের নাবালক ছাত্রদের দুর্গাপুরের বিধাননগরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে গিয় রক্তদান করানো হত বলে অভিযোগ। রক্তদানের পর ওই পড়ুয়াদের ২০০-৩০০ টাকা দেওয়া হত। এমনকি বয়স গোপন করতে আধারকার্ডে বয়স বদলে দেওয়া হত। রক্তদাতা এক ছাত্র জানান, তিনমাসে দু-বার রক্ত নেওয়া হয়েছে।
ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই দুর্গাপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন বেশ কয়েকজন অবিভাবক। অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তে নামে দুর্গাপুর থানার পুলিশ ও স্বাস্থ্য দফতর। তদন্ত যত এগোয়, ততই সামনে আসে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। তদন্তে প্রথমে উঠে আসে ওই স্কুলেরই প্রাক্তন ছাত্র দেবপ্রিয় চক্রবর্তীর নাম। বর্তমানে সে দুর্গাপুর সরকারি কলেজের প্রথম বর্ষের ছাত্র। অভিযোগ, সে-ই নাবালক ছাত্রদের বিভিন্ন আর্থিক প্রলোভন দেখিয়ে হাসপাতালে নিয়ে যেত। পরে জিজ্ঞাসাবাদে দেবপ্রিয় দাবি করে, তাকে এই কাজে নামিয়েছিল তৃণমূল ছাত্র পরিষদের সদস্য অমিতপ্রসাদ যাদব। এই ঘটনার সঙ্গে যুক্ত ছিল আরও এক যুবক মালদহের মোথাবাড়ির বাসিন্দা মহম্মদ হাবিবুল্লাহ। বর্তমানে হাবিবুল্লাহ দুর্গাপুরের বিধাননগরের একটি বেসরকারি হোটেলে কাজ করে। পুলিশের তদন্তে আরও জানা যায়, এই গোটা চক্রটি মূলত পরিচালনা করতেন দুর্গাপুরের মুচিপাড়া এলাকার বাসিন্দা তথা তৃণমূল ছাত্র পরিষদের সদস্য অমিতপ্রসাদ যাদব। দেবপ্রিয়র দাবি, অমিত তাকে বলেছিল, যত বেশি রক্তদাতা জোগাড় করতে পারবে, তত বেশি টাকা পাবে। সেই প্রলোভনেই সে নাবালক ছাত্রদের এই চক্রে জড়িয়ে ফেলে। অভিযান চালিয়ে দেবপ্রিয় চক্রবর্তী, মহম্মদ হাবিবুল্লাহ এবং অমিত প্রসাদ যাদবকে গ্রেফতার করে দুর্গাপুর থানার পুলিশ। তদন্তের মোড় ঘুরিয়ে দেয় কিংশুক মুখার্জির নাম। কিংশুকের বাড়ি দুর্গাপুরের বিধাননগরে হলেও এই ঘটনার পর থেকে সে ওড়িশায় গা ঢাকা দিয়েছিল। এরপরই ওড়িশায় অভিযান চালিয়ে কিংশুককে গ্রেফতার করে পুলিশ। এদিন আদালতে কিংশুক কে নিজ হেপাজতে নেওয়ার আবেদন জানিয়েছে পুলিশি। এই চক্রের সঙ্গে আরও কেউ জড়িত কি না, কিংবা এর পেছনে বড় কোনও চক্র রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে তদন্তকারীরা। দুর্গাপুর ব্লড ডোনার্স কাউন্সিলের সাধারন সম্পাদক সজল বোস বলেন, আমরা বহুদিন ধরেই এসব বেসরকারী হাসপাতালগুলোর রক্ত সংগ্রহ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছি। অভিযোগও জানিয়েছি। এসব হাসপাতাল সরকারি হাসপাতালের ব্লাড ব্যাঙ্ক থেকে রক্ত নেয় না। রোগীর পরিবারকে হয়রানি করে রক্তদাতা আনার জন্য। আমরা তদন্তের দাবি জানিয়েছি।
---------------
হিন্দুস্থান সমাচার / জয়দেব লাহা