সংস্কারের দেড় বছরেই বেহাল বাঁকুড়া-ঝাড়গ্রাম ৯ নম্বর রাজ্য সড়ক
বাঁকুড়া, ১৩ আগস্ট (হি.স.): মোটা টাকা ব্যয় করে সংস্কার করা হলেও দেড় বছর যেতে না যেতেই জঙ্গলমহলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাঁকুড়া-ঝাড়গ্রাম ৯ নম্বর রাজ্য সড়কের বেহাল দশা। এই রাস্তা দিয়ে প্রতিদিন কয়েক হাজার গাড়ি চলাচল করে। বাঁকুড়া থেকে ঝাড়গ্রাম পর্
সংস্কারের দেড় বছরেই বেহাল বাঁকুড়া-ঝাড়গ্রাম ৯ নম্বর রাজ্য সড়ক


বাঁকুড়া, ১৩ আগস্ট (হি.স.): মোটা টাকা ব্যয় করে সংস্কার করা হলেও দেড় বছর যেতে না যেতেই জঙ্গলমহলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাঁকুড়া-ঝাড়গ্রাম ৯ নম্বর রাজ্য সড়কের বেহাল দশা। এই রাস্তা দিয়ে প্রতিদিন কয়েক হাজার গাড়ি চলাচল করে। বাঁকুড়া থেকে ঝাড়গ্রাম পর্যন্ত পুরো রাস্তার বিভিন্ন জায়গায় ছোট-বড় গর্ত তৈরি হয়েছে। অতিরিক্ত বৃষ্টিতে সেই গর্তগুলিই জলে ভরে যাচ্ছে। ফলে গর্তের গভীরতা বুঝতে না পেরে নিয়মিত দুর্ঘটনা ঘটছে। আবার গর্তে পড়ে গাড়ির যন্ত্রাংশ ভেঙে অচল হয়ে পড়ছে যানবাহন। এর জেরে চরম দুর্ভোগে পড়ছেন যাত্রীরা।

বৃহস্পতিবার জঙ্গলমহলবাসীরা অভিযোগ করেন , বাঁকুড়া-ঝাড়গ্রাম রাজ্য সড়ক প্রশস্তিকরণ ও নতুন করে নির্মাণের জন্য প্রায় ১৪০ কোটি টাকা খরচ হয়েছে। ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের আগে তড়িঘড়ি সেই টাকা খরচ করে রাস্তাটি তৈরি করা হয়েছিল। কিন্তু মাত্র দেড়-দুই বছরের মধ্যেই গুরুত্বপূর্ণ এই রাজ্য সড়ক ব্যবহারের অযোগ্য হয়ে পড়েছে।

অভিযোগ উঠেছে, সংশ্লিষ্ট দফতরের আধিকারিক বা ঠিকাদার সংস্থার সঙ্গে কোনও ধরনের অনিয়ম না থাকলে ১৪০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত রাস্তার এত অল্প সময়ের মধ্যে এই হাল হতে পারে না। বিধায়ক থেকে সাধারণ মানুষ—অনেকেই এই পরিস্থিতির জন্য আগের সরকারের দুর্নীতিকেই দায়ী করছেন। অন্যদিকে, ফের রাস্তাটি দ্রুত সংস্কারের আশ্বাস দিয়েছেন রাইপুরের বিজেপি বিধায়ক।

উল্লেখ্য, মুখ্যমন্ত্রী বাঁকুড়ায় এসে পশ্চিমাঞ্চল, বিশেষ করে জঙ্গলমহল এলাকার উন্নয়নে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলার পরই জঙ্গলমহলের ‘ফুসফুস’ হিসেবে পরিচিত বাঁকুড়া-ঝাড়গ্রাম রাজ্য সড়কের বেহাল দশা নিয়ে সোচ্চার হয়েছেন এলাকার বাসিন্দারা। তাঁদের বক্তব্য, নতুন করে রাস্তাটি তৈরির সপ্তাহখানেকের মধ্যেই বিভিন্ন জায়গা থেকে পিচ উঠতে শুরু করেছিল। বর্তমানে রাস্তার বিভিন্ন অংশ ছোট-বড় গর্তে ভরে গিয়েছে। বর্ষায় সেই গর্তগুলিতে জল জমে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠেছে। স্থানীয়দের কটাক্ষ, এভাবে চলতে থাকলে রাস্তায় মাছ চাষও শুরু হয়ে যাবে।

সিমলাপালের হরেন্দ্র সিংহ মহাপাত্র, বাবুলাল মহান্ত এবং বিক্রমপুরের বাসিন্দা বাসুদেব মাল বলেন, এলাকার অসুস্থ রোগী বা প্রসূতিদের সিমলাপাল হাসপাতাল কিংবা সারেঙ্গা মিশন হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া দুষ্কর হয়ে পড়েছে। দ্রুত রাস্তাটি সংস্কার করা প্রয়োজন।

বাসচালকদের বক্তব্য, চলন্ত গাড়ি জলে ঢাকা গর্তে পড়লে গাড়ির নিয়ন্ত্রণ রাখা কঠিন হয়ে পড়ে। কোনওভাবে নিয়ন্ত্রণ রাখা গেলেও বারবার গর্তে পড়ে গাড়ির যন্ত্রাংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে অচল হয়ে যাচ্ছে। যাত্রীরা মাঝপথে গাড়ি খারাপ হয়ে বৃষ্টির মধ্যে চরম সমস্যায় পড়ছেন। গাড়ি মেরামতে অতিরিক্ত খরচ হচ্ছে এবং বাস পরিষেবাও অনিয়মিত হয়ে পড়ছে।

স্কুটি, মোটরসাইকেল ও সাইকেল আরোহীদের অভিযোগ, সামনের চাকা গর্তে পড়ে ইতিমধ্যেই একাধিক দুর্ঘটনা ঘটেছে। জীবনের ঝুঁকি নিয়েই প্রতিদিন তাঁদের যাতায়াত করতে হচ্ছে। তাঁদের আশা, বর্তমান সরকার দ্রুত রাস্তাটি সংস্কারের উদ্যোগ নেবে।

এদিন রাইপুরের বিধায়ক ক্ষেত্রমোহন হাঁসদা বলেন, রাজ্য সড়কটি দ্রুত সংস্কারের বিষয়ে তিনি উদ্যোগী হবেন।

হিন্দুস্থান সমাচার / সোমনাথ বরাট




 

 rajesh pande