তেরঙ্গায় সেজেছে হাফলং, ৮০তম স্বাধীনতা দিবস ঘিরে উৎসবের আবহ ডিমা হাসাওয়ে
হাফলং (অসম), ১৩ আগস্ট (হি. স.): স্বাধীনতার ৮০ বছর পূর্তি। আর সেই বিশেষ দিনকে সামনে রেখে উৎসবের আমেজে সেজে উঠছে পাহাড়ি জেলা ডিমা হাসাও। আগামী ১৫ আগস্ট স্বাধীনতা দিবস উদ্যাপনকে ঘিরে জেলার সদর শহর হাফলং-সহ বিভিন্ন প্রান্তে এখন শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি
Haflong


হাফলং (অসম), ১৩ আগস্ট (হি. স.): স্বাধীনতার ৮০ বছর পূর্তি। আর সেই বিশেষ দিনকে সামনে রেখে উৎসবের আমেজে সেজে উঠছে পাহাড়ি জেলা ডিমা হাসাও। আগামী ১৫ আগস্ট স্বাধীনতা দিবস উদ্যাপনকে ঘিরে জেলার সদর শহর হাফলং-সহ বিভিন্ন প্রান্তে এখন শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি তুঙ্গে। শহরের রাস্তা, বাজার থেকে শুরু করে সরকারি-বেসরকারি ভবন—সর্বত্রই চোখে পড়ছে জাতীয় পতাকার উপস্থিতি। তেরঙ্গার রঙে যেন নতুন সাজে ধরা দিয়েছে হাফলং। স্বাধীনতা দিবসের আর মাত্র দু’দিন বাকি। তার আগেই শহরের বিভিন্ন এলাকায় শুরু হয়েছে পতাকা, ব্যানার, ফেস্টুন এবং দেশাত্মবোধক নানা সাজসজ্জার আয়োজন। বাজারগুলিতেও বেড়েছে ব্যস্ততা। জাতীয় পতাকা, ব্যাজ, ফিতা-সহ স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে ব্যবহৃত বিভিন্ন সামগ্রী কিনতে ভিড় করছেন সাধারণ মানুষ। ব্যবসায়ীদের একাংশের দাবি, গত কয়েক দিনের তুলনায় জাতীয় পতাকা ও দেশাত্মবোধক সামগ্রীর বিক্রি উল্লেখযোগ্য ভাবে বেড়েছে। স্বাধীনতা দিবসকে কেন্দ্র করে শিশু-কিশোরদের মধ্যেও যথেষ্ট উৎসাহ দেখা যাচ্ছে। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে বাজারে এসে অনেকেই জাতীয় পতাকা ও ব্যাজ কিনছে। বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনও নিজেদের মতো করে অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি শুরু করেছে। শহরের অলিগলি থেকে প্রধান বাজার—বিভিন্ন জায়গাতেই এখন দেশের জাতীয় পতাকার উপস্থিতি জানান দিচ্ছে ১৫ আগস্টের আগমনী বার্তা।

স্থানীয় বাসিন্দাদের কথাতেও ধরা পড়েছে সেই উচ্ছ্বাস। হাফলংয়ের প্রধান বাজারে কেনাকাটা করতে আসা এক বাসিন্দার কথায়, “স্বাধীনতা দিবস আমাদের কাছে অত্যন্ত গর্বের দিন। প্রতি বছরের মতো এ বারও যথাযোগ্য মর্যাদা ও উৎসাহের সঙ্গে দিনটি পালন করতে চাই।” আর এক বাসিন্দা জানান, পরিবারের সদস্যদের জন্য জাতীয় পতাকা ও ব্যাজ কিনেছেন তিনি। পাশাপাশি স্থানীয় অনুষ্ঠানেও অংশ নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে। প্রশাসনিক স্তরেও স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানকে সফল করে তুলতে প্রস্তুতি চলছে। জেলার বিভিন্ন সরকারি দফতর, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং স্থানীয় সংগঠনগুলির তরফে অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হচ্ছে। স্কুলগুলিতেও জাতীয় পতাকা উত্তোলন, দেশাত্মবোধক গান, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং বিভিন্ন কর্মসূচির প্রস্তুতি চলছে। এ বারের স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের পাশাপাশি ডিমা হাসাওয়ের নিজস্ব সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যও তুলে ধরার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক পরিবেশনা, দেশাত্মবোধক অনুষ্ঠান এবং ছাত্রছাত্রীদের অংশগ্রহণে দিনটি আরও বর্ণময় হয়ে উঠবে বলে আশা করা হচ্ছে। সব মিলিয়ে ১৫ আগস্টকে সামনে রেখে পাহাড়ি ডিমা হাসাওয়ে এখন উৎসবের আবহ। জাতীয় পতাকার রঙে সেজে ওঠা হাফলং যেন জানান দিচ্ছে—স্বাধীনতার ৮০ বছর পূর্তির দিনটি এবারও মর্যাদা, আবেগ এবং দেশাত্মবোধের সঙ্গে উদ্যাপনে প্রস্তুত জেলা।

হিন্দুস্থান সমাচার / বিশাখা দেব




 

 rajesh pande