
কলকাতা, ১৩ আগস্ট (হি.স.) : ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের ১২৫তম জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে রাজ্যের শিক্ষা পরিকাঠামোয় এক বড় পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নিল পশ্চিমবঙ্গ সরকার। আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকেই স্কুল শিক্ষা দফতরের বিশেষ উদ্যোগে বিদ্যালয় থেকে শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয় স্তর পর্যন্ত পাঠ্যক্রমে ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের অসামান্য অবদান, জীবনসংগ্রাম ও আত্মবলিদানের ইতিহাস অন্তর্ভুক্ত করা হবে। বৃহস্পতিবার নবান্নে আয়োজিত বিশেষ কমিটির প্রথম বৈঠক শেষে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী আনুষ্ঠানিকভাবে এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত প্রকাশ করেন।
অধিবেশন শেষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে মুখ্যমন্ত্রী অভিযোগ তুলে বলেন, সুদীর্ঘ সময় ধরে রাজনৈতিক সংকীর্ণতার কারণে ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের রাষ্ট্রীয় অবদান, চিন্তাধারা এবং মহান আত্মত্যাগের ইতিহাস সাধারণ মানুষের কাছে সঠিকভাবে তুলে ধরা হয়নি। বর্তমান রাজ্য সরকার তাঁর এই সুবিশাল অবদানকে সমাজের প্রতিটি স্তরে পৌঁছে দেওয়ার জন্য দৃঢ় প্রতিজ্ঞ।
উল্লেখ্য, শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের ১২৫তম জন্মজয়ন্তী বর্ষকে স্মরণীয় করে রাখতে বছরভর একাধিক বর্ণাঢ্য কর্মসূচি গ্রহণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্য সরকার। এরই অঙ্গ হিসেবে তাঁর জীবন ও কর্ম নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে একটি উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়। বৃহস্পতিবার ছিল এই বিশেষ কমিটির প্রথম পর্যালোচনা বৈঠক।
বৈঠকে নেওয়া সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বিদ্যালয় ও বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ্যপুস্তকে অন্তর্ভুক্তির পাশাপাশি তাঁর প্রামাণ্য জীবনীর ওপর আলাদা গ্রন্থ প্রকাশের পরিকল্পনাও চূড়ান্ত করা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী জানান, শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের স্মৃতিবিজড়িত এক ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠানের উদ্যোগে এবং মেঘালয় ও ত্রিপুরার প্রাক্তন রাজ্যপাল তথাগত রায়ের প্রচেষ্টায় একটি প্রামাণ্য বই ইতিমধ্যেই প্রস্তুত হয়েছে। রাজ্য সরকার ওই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যৌথভাবে বইটির প্রকাশনা সম্পন্ন করবে। পাশাপাশি, রাজ্য পাঠাগার ও গ্রন্থাগার দফতরকে শ্যামাপ্রসাদের জীবননির্ভর একটি বিস্তারিত গ্রন্থ রচনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই বইটি একই সঙ্গে বাংলা ও ইংরেজি— উভয় ভাষাতেই প্রকাশিত হবে এবং চলতি বছরের মধ্যেই কাজটি শেষ করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
এ ছাড়া, হুগলির জিরাটে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের ঐতিহাসিক পৈতৃক ভিটেবাড়ি সংরক্ষণ ও সংস্কারের কাজও পুরোদমে শুরু হয়েছে। সেখানে অবস্থিত পুরানো লাইব্রেরির আধুনিকীকরণের পাশাপাশি তাঁর জীবন ও সুদূরপ্রসারী কীর্তিসমূহকে তুলে ধরতে একটি আন্তর্জাতিক মানের সংগ্রহশালা গড়ে তোলা হবে। মুখ্যমন্ত্রী এ দিন পুনর্ব্যক্ত করেন যে, শ্যামাপ্রসাদের রেখে যাওয়া গৌরবোজ্জ্বল আদর্শকে নতুন প্রজন্মের সামনে প্রামাণ্য ও নিরপেক্ষভাবে তুলে ধরতেই রাজ্য প্রশাসন সব স্তরে সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে।
হিন্দুস্থান সমাচার / সোনালি