
আরামবাগ , ১৩ আগস্ট (হি.স.): স্বাধীনতা দিবসের প্রাক্কালে দেশপ্রেমের আবেগে ভাসল আরামবাগ শহর। বৃহস্পতিবার জাতীয় পতাকার রঙে সেজে উঠল শহরের রাজপথ। আরামবাগ মহকুমা প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত বর্ণাঢ্য তিরঙ্গা যাত্রায় পা মেলালেন প্রশাসনিক আধিকারিক, জনপ্রতিনিধি, পুলিশকর্মী, শিক্ষক, পড়ুয়া, বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের সদস্য এবং সাধারণ মানুষ। হাতে হাতে উড়ল তেরঙ্গা, আর ‘বন্দেমাতরম’ ও ‘ভারত মাতা কি জয়’ ধ্বনিতে মুখর হয়ে উঠল গোটা শহর। স্বাধীনতা দিবসকে সামনে রেখে দেশাত্মবোধের আবহ তৈরি করতেই এই বিশেষ পদযাত্রার আয়োজন বলে প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে।
নির্দিষ্ট কর্মসূচি অনুযায়ী শহরের বিভিন্ন এলাকা পরিক্রমা করে তিরঙ্গা যাত্রা। জাতীয় পতাকা হাতে নিয়ে সারিবদ্ধভাবে হাঁটতে দেখা যায় অংশগ্রহণকারীদের। কোথাও আবার জাতীয় পতাকার সঙ্গে দেশাত্মবোধক বার্তা লেখা প্ল্যাকার্ডও নজর কাড়ে। তবে এদিনের কর্মসূচির মূল আকর্ষণ ছিল স্কুল পড়ুয়াদের উপস্থিতি। আরামবাগের বিভিন্ন বিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীরা বিপুল উৎসাহে এই যাত্রায় অংশ নেয়। ছোট ছোট হাতে জাতীয় পতাকা এবং মুখে দেশাত্মবোধক স্লোগান গোটা পরিবেশকে আরও প্রাণবন্ত করে তোলে। শিক্ষক-শিক্ষিকারাও পড়ুয়াদের সঙ্গে পা মেলান। নতুন প্রজন্মের মধ্যে দেশের স্বাধীনতা, জাতীয় পতাকা এবং দেশপ্রেমের মূল্যবোধ তুলে ধরার ক্ষেত্রে এমন কর্মসূচি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলেই মনে করছেন উপস্থিত অনেকে। তিরঙ্গা যাত্রায় প্রশাসনের পাশাপাশি পুলিশের ভূমিকাও ছিল চোখে পড়ার মতো। বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের সদস্যরাও জাতীয় পতাকা হাতে সামিল হন। দল-মত ও পেশার বিভাজন ভুলে একসঙ্গে রাজপথে হাঁটতে দেখা যায় বিভিন্ন স্তরের মানুষকে। শহরের পথ ধরে এগিয়ে চলা এই মিছিলকে ঘিরে সাধারণ মানুষের মধ্যেও উৎসাহ দেখা যায়। রাস্তার ধারে দাঁড়িয়ে অনেকেই মোবাইল ফোনে সেই দৃশ্য ক্যামেরাবন্দি করেন।
এদিন সাধারণ মানুষের সঙ্গে পায়ে হেঁটে তিরঙ্গা যাত্রায় অংশ নেন আরামবাগের মহকুমা শাসক রবি কুমার। তাঁর সঙ্গে ছিলেন আরামবাগের বিধায়ক বিমান ঘোষ এবং পুরশুড়ার বিধায়ক হেমন্ত বাগ। প্রশাসনিক আধিকারিক ও জনপ্রতিনিধিদের সাধারণ মানুষের সঙ্গে একই সারিতে হাঁটতে দেখা যাওয়ায় কর্মসূচিতে বাড়তি মাত্রা যোগ হয়। স্বাধীনতা দিবসের আগে আরামবাগের এই তিরঙ্গা যাত্রা শুধু একটি পদযাত্রা নয়, বরং জাতীয় ঐক্য, সম্প্রীতি এবং দেশপ্রেমের বার্তাকে সামনে তুলে ধরার একটি প্রতীকী উদ্যোগ হয়ে উঠল। শহরের রাজপথে উড়তে থাকা অসংখ্য তেরঙ্গা এবং একসঙ্গে ধ্বনিত ‘বন্দেমাতরম’-এর সুর যেন মনে করিয়ে দিল স্বাধীনতার ইতিহাস, আত্মত্যাগ এবং দেশের প্রতি দায়বদ্ধতার কথা। এদিনের বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে স্বাধীনতা দিবস উদযাপনের আবহ আরও উজ্জ্বল হয়ে উঠল আরামবাগে।
হিন্দুস্থান সমাচার / SANTOSH SANTRA