
হুগলি , ১৩আগস্ট (হি.স.): কয়েক দফা দাবিতে ঠিকাদার সংস্থার বিরুদ্ধে সরব হয়ে রাজ্যের বিভিন্ন হাসপাতালে ১০২ অ্যাম্বুলেন্স পরিষেবা বন্ধ রাখার অভিযোগ উঠেছে চালকদের একাংশের বিরুদ্ধে। এর জেরে সমস্যায় পড়েছেন সাধারণ মানুষ। বিশেষ করে নিম্নবিত্ত পরিবারের রোগীদের হাসপাতাল থেকে বাড়ি নিয়ে যাওয়া কিংবা বাড়ি থেকে হাসপাতালে পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে চরম ভোগান্তির মুখে পড়তে হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার চুঁচুড়া ইমামবাড়া সদর হাসপাতালেও ১০২ অ্যাম্বুলেন্স পরিষেবা নিয়ে উত্তেজনা ছড়ায়। হাসপাতাল থেকে ছুটি পাওয়ার পরও বাড়ি ফিরতে না পেরে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে দেখা যায় রোগীর পরিবারের সদস্যদের। অনেকেরই বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া করার সামর্থ্য নেই। ফলে সরকারি অ্যাম্বুলেন্স পরিষেবার উপর নির্ভরশীল পরিবারগুলির সমস্যাই সবচেয়ে বেশি।
এদিন হাসপাতাল পরিদর্শনে যান স্থানীয় বিজেপি কর্মী ও বিধায়কের প্রতিনিধি। তাঁদের অভিযোগ, জরুরি পরিষেবা বন্ধ রেখে আন্দোলন করা উচিত নয়। ১০২ অ্যাম্বুলেন্স চালকদের সঙ্গে এ নিয়ে কথা বলতে গেলে দুই পক্ষের মধ্যে তীব্র বাদানুবাদ শুরু হয়। ঘটনাকে কেন্দ্র করে হাসপাতাল চত্বরে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
অন্যদিকে, অ্যাম্বুলেন্স চালকদের অভিযোগ, যে ঠিকাদার সংস্থার অধীনে তাঁরা কাজ করেন, সেই সংস্থা তাঁদের সঙ্গে বিমাতৃসুলভ আচরণ করছে। বেতন কেটে নেওয়া, বিভিন্নভাবে হয়রানি এবং বৈধ পরিচয়পত্র না দেওয়ার মতো অভিযোগও তুলেছেন তাঁরা। পরিচয়পত্র না থাকায় অ্যাম্বুলেন্স নিয়ে রাস্তায় চলাচলের ক্ষেত্রেও সমস্যায় পড়তে হচ্ছে বলে দাবি চালকদের। এই সমস্ত দাবিকে সামনে রেখেই রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় ১০২ অ্যাম্বুলেন্স পরিষেবা বন্ধ রাখা হয়েছে বলে তাঁদের বক্তব্য।
বিজেপি প্রতিনিধিদের বক্তব্য, এই পরিষেবা বন্ধ থাকায় সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়ছেন গরিব ও নিম্নবিত্ত মানুষ। তাঁদের প্রশ্ন, যাঁদের বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া করার সামর্থ্য নেই, তাঁরা যাবেন কোথায়? হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, আপাতত ১০২ অ্যাম্বুলেন্সের মাধ্যমে কলকাতায় রেফার করা রোগীদের নিয়ে যাওয়ার কাজ চলছে। তবে স্থানীয় রোগীদের বাড়ি থেকে হাসপাতালে আনা বা হাসপাতাল থেকে বাড়ি পৌঁছে দেওয়ার পরিষেবা বন্ধ রয়েছে বলে জানা যায়। পরিস্থিতি সামাল দিতে ১০২-এর পাশাপাশি সরকারি ‘নিশ্চয়যান’-এর মাধ্যমে পরিষেবা সচল রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে।
চুঁচুড়ার বিধায়ক সুবীর নাগ বলেন, “গরিব মানুষ যাতে এই পরিষেবা থেকে বঞ্চিত না হন, সেই বিষয়টি আমরা দেখছি।” পরিষেবা দ্রুত স্বাভাবিক করার পাশাপাশি অ্যাম্বুলেন্স চালকদের দাবিদাওয়া নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের পথ খোঁজার দাবি উঠেছে।
হিন্দুস্থান সমাচার / SANTOSH SANTRA