কলকাতায় ভুয়ো কল সেন্টারের পর্দাফাঁস, ‘জামুই গ্যাং’-এর ১১ সদস্য গ্রেফতার
কলকাতা, ১৩ আগস্ট (হি.স.): কলকাতার নিউ মার্কেট এলাকার একটি হোটেলে ভুয়ো কল সেন্টার চালিয়ে সাইবার প্রতারণার অভিযোগে একটি বড় চক্রের পর্দাফাঁস করল পুলিশ। পার্ক স্ট্রিট থানার পুলিশ ওই হোটেলে আচমকা তল্লাশি অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত ১১ জনকে গ্রেপ্তার করেছে
কলকাতায় ভুয়ো কল সেন্টারের পর্দাফাঁস, ‘জামুই গ্যাং’-এর ১১ সদস্য গ্রেফতার


কলকাতা, ১৩ আগস্ট (হি.স.): কলকাতার নিউ মার্কেট এলাকার একটি হোটেলে ভুয়ো কল সেন্টার চালিয়ে সাইবার প্রতারণার অভিযোগে একটি বড় চক্রের পর্দাফাঁস করল পুলিশ। পার্ক স্ট্রিট থানার পুলিশ ওই হোটেলে আচমকা তল্লাশি অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত ১১ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। পুলিশ জানিয়েছে, চক্রটি সরকারি আধিকারিক পরিচয় দিয়ে সাধারণ মানুষকে প্রতারণার ফাঁদে ফেলত।

বৃহস্পতিবার পুলিশের তরফে জানানো হয়, গ্রেফতার হওয়া অভিযুক্তদের মধ্যে ৮ জন বিহারের জামুই জেলার বাসিন্দা এবং বাকি ৩ জন ঝাড়খণ্ডের দেওঘর জেলার বাসিন্দা। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্তরা সবাই বিহার ও ঝাড়খণ্ড থেকে কলকাতায় এসে হোটেলে আস্তানা গেড়ে এই আন্তর্জাতিক প্রতারণা নেটওয়ার্ক চালাচ্ছিল।

তদন্তকারীদের দাবি, অভিযুক্তরা ‘প্রধানমন্ত্রী কিষাণ যোজনা’র মতো বিভিন্ন সরকারি কল্যাণমুখী প্রকল্পের নাম করে সাধারণ মানুষের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করত। এর পর প্রতারণার উদ্দেশ্যে টেলিগ্রামের মাধ্যমে একটি ক্ষতিকারক লিঙ্ক পাঠানো হতো। লিঙ্কে ক্লিক করিয়ে ভুক্তভোগীর মোবাইল ফোনের সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ বা অ্যাক্সেস ছিনিয়ে নেওয়াই ছিল এদের মূল লক্ষ্য।

একবার ফোনের নিয়ন্ত্রণ পেয়ে গেলে চক্রটি ভুক্তভোগীর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ও ব্যক্তিগত সংবেদনশীল তথ্য হাতিয়ে নিত। সম্প্রতি পুলিশ এই সক্রিয় প্রতারক চক্রটির সন্ধান পায়। সেই তথ্যের ভিত্তিতেই পার্ক স্ট্রিট থানার একটি বিশেষ টিম নিউ মার্কেট এলাকার হোটেলে অভিযান চালিয়ে এদের হাতেনাতে ধরে। ধৃতদের বয়স ১৮ থেকে ৩৪ বছরের মধ্যে।

পুলিশ ধৃতদের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার (বিএনএস) ১১১(২)(বি), ১১১(৬) এবং ৩১৮(৪) সহ একাধিক ধারায় মামলা রুজু করেছে। এর মধ্যে সংগঠিত অপরাধ, বেআইনি সম্পত্তি রাখা এবং প্রতারণার মতো গুরতর অভিযোগ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

এই চক্রে আরও কতজন যুক্ত রয়েছে এবং এ পর্যন্ত কতজন মানুষ এদের ফাঁদে পড়ে আর্থিক ও ব্যক্তিগত তথ্য হারিয়েছেন, পুলিশ এখন তার বিস্তারিত তদন্ত চালাচ্ছে।

হিন্দুস্থান সমাচার / সোনালি




 

 rajesh pande