
ঝাড়গ্রাম, ১৪ আগস্ট (হি.স.): নিম্নচাপের জেরে টানা বৃষ্টিতে ঝাড়গ্রাম জেলার বিভিন্ন এলাকায় জলমগ্ন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েছেন সাঁকরাইল ব্লকের চরাড় এলাকার বাসিন্দারা। অতিরিক্ত বৃষ্টিতে বিঘার পর বিঘা ধানের জমি জলের তলায় চলে গিয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বেশ কয়েকটি মাটির বাড়িও। জল ঢুকে পড়ায় বহু পরিবার কার্যত জলবন্দি। নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দাকে স্কুলঘরে আশ্রয় নিতে হয়েছে।
পরিস্থিতির খবর পেয়ে শুক্রবার দুর্গত এলাকায় পৌঁছন রাজ্যের মন্ত্রী তথা গোপীবল্লভপুরের বিধায়ক রাজেশ মাহাতো। শুকনো খাবার ও পানীয় জল সঙ্গে নিয়ে জলমগ্ন গ্রামে যান তিনি। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা ঘুরে দেখার পাশাপাশি জলবন্দি পরিবারগুলির সঙ্গে কথা বলেন এবং তাঁদের হাতে ত্রাণ তুলে দেন। দ্রুত উদ্ধার ও ত্রাণ পৌঁছে দিতে স্থানীয় নেতৃত্ব, কর্মী এবং সংশ্লিষ্ট দলকে প্রয়োজনীয় নির্দেশ দেন মন্ত্রী।
রাজেশ মাহাতো বলেন, বিকেলের দিকে সুবর্ণরেখা নদীর জল প্রায় ১ লক্ষ ৪০ হাজার কিউসেক হয়ে সতমা এলাকায় পৌঁছতে পারে। তবে এখনও নদীর জল বিপদসীমার উপরে ওঠেনি। পরিস্থিতির উপর নজর রাখা হচ্ছে বলে জানান তিনি।
অন্যদিকে, নয়াগ্রাম ব্লকের ঝরিয়া ও কলমা পুকুরিয়া মেন রোড সংলগ্ন এলাকাতেও জলবন্দি হয়েছেন বেশ কয়েকটি পরিবারের সদস্যরা। জঙ্গল থেকে নেমে আসা জল বের হওয়ার পথ না পেয়ে রাস্তা ও বাড়ির চারপাশে জমে যায়। কয়েকটি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর ক্ষোভে পথ অবরোধ করেন স্থানীয়রা।
খবর পেয়ে পুলিশ ও ব্লক প্রশাসনের আধিকারিকরা ঘটনাস্থলে পৌঁছন। বিডিওর উদ্যোগে জিসিপি মেশিন এনে প্রায় ১৫০-২০০ মিটার এলাকায় নালা কাটার কাজ শুরু হয়। জল বের হতে শুরু করায় আপাতত কিছুটা স্বস্তি মিলেছে। তবে স্থানীয়দের দাবি, প্রতি বছর একই সমস্যা হওয়ায় স্থায়ী নিকাশি ব্যবস্থার প্রয়োজন।
হিন্দুস্থান সমাচার / গোপেশ মাহাতো