
হাফলং (অসম) , ১৪ আগস্ট (হি স) খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ ও মূল্য সংযোজনের মাধ্যমে জীবিকার সুযোগ সৃষ্টি এবং স্থানীয় মানুষের আয় বৃদ্ধির লক্ষ্যে আয়োজিত পাঁচ দিনের বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ কর্মসূচি শুক্রবার হাফলংয়ে সমাপ্ত হয়েছে। সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রশিক্ষণার্থীদের হাতে শংসাপত্র তুলে দেওয়া হয়। ১০ থেকে ১৪ আগস্ট পর্যন্ত হাফলংয়ের স্কিল ডেভেলপমেন্ট সেন্টারে আয়োজিত এই প্রশিক্ষণ কর্মসূচির আয়োজন করে কৃষি বিজ্ঞান কেন্দ্র (কেভিকে), ডিমা হাসাও। ভারতীয় কৃষি গবেষণা পরিষদের (আইসিএআর) অধীন কৃষি প্রযুক্তি প্রয়োগ গবেষণা প্রতিষ্ঠান (এটিআরআই), জোন-৬, গুয়াহাটির সহযোগিতায় আয়োজিত কর্মসূচিতে সারল-এর আর্থিক সহায়তা ছিল।
স্থানীয়ভাবে সহজলভ্য কৃষিজ ও খাদ্যসম্পদকে কার্যকরভাবে কাজে লাগিয়ে খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ ও মূল্য সংযোজনের ব্যবহারিক দক্ষতা অর্জনের মাধ্যমে অংশগ্রহণকারীদের টেকসই জীবিকার সুযোগ তৈরি করাই ছিল প্রশিক্ষণ কর্মসূচির মূল লক্ষ্য। পাশাপাশি কৃষিজ পণ্যের বাজারজাতকরণ, বাণিজ্যিক সম্ভাবনা এবং মূল্য সংযোজনের মাধ্যমে আয় বৃদ্ধির বিষয়েও প্রশিক্ষণার্থীদের ধারণা দেওয়া হয়।
খাদ্য প্রক্রিয়াকরণকে স্বনিযুক্তি, অতিরিক্ত আয় এবং ক্ষুদ্র উদ্যোগ গড়ে তোলার একটি কার্যকর মাধ্যম হিসেবে গ্রহণের জন্যও অংশগ্রহণকারীদের উৎসাহিত করা হয়। স্থানীয় কৃষিজ পণ্যের যথাযথ ব্যবহার ও প্রক্রিয়াকরণের মাধ্যমে কীভাবে নতুন পণ্য তৈরি এবং তার বাজার তৈরি করা সম্ভব, সে বিষয়েও ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।
সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মাইবাং পুরসভা বোর্ডের চেয়ারম্যান তথা এমএসি হিরোজিৎ জিডুং। সম্মানীয় অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কেশব বিকাশ ন্যাসের প্রধান ট্রাস্টি সৌমেন্দ্র লংমাইলাই এবং কৃষি দফতরের এক আধিকারিক। সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে কৃষি বিজ্ঞান কেন্দ্র, ডিমা হাসাওয়ের সিনিয়র বিজ্ঞানী ড. অর্ধেন্দু চক্রবর্তী প্রশিক্ষণ কর্মসূচির উদ্দেশ্য ও গুরুত্ব তুলে ধরেন। স্থানীয় মানুষের জীবিকার সুযোগ আরও শক্তিশালী করতে খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ ও মূল্য সংযোজনের ব্যবহারিক দক্ষতা অর্জনের প্রয়োজনীয়তার উপর তিনি গুরুত্ব আরোপ করেন। এক প্রশিক্ষণার্থী কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, এই প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তিনি খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ সম্পর্কে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ ব্যবহারিক জ্ঞান অর্জন করেছেন। ডিমা হাসাওয়ের যুবসমাজের জন্য ভবিষ্যতে আরও বেশি করে এই ধরনের দক্ষতা উন্নয়নমূলক প্রশিক্ষণের আয়োজন করার জন্য তিনি কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন জানান। একই সঙ্গে যুবকদের মধ্যে উদ্যোগপতি হওয়ার মানসিকতা তৈরি এবং স্বনিযুক্তির সুযোগ বৃদ্ধির উপর আরও বেশি গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
শংসাপত্র বিতরণের মধ্য দিয়ে পাঁচ দিনের এই বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ কর্মসূচির সফল সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।
হিন্দুস্থান সমাচার / বিশাখা দেব