
কলকাতা, ১৪ আগস্ট ( হি. স.) : ‘কন্যা রত্ন দিবস’ উপলক্ষে পশ্চিমবঙ্গ সরকার মেয়েদের সুরক্ষা, শিক্ষা এবং সার্বিক ক্ষমতায়নের লক্ষ্য নিয়ে ‘কন্যা রত্ন’ মিশন চালু করার কথা ঘোষণা করেছে। রাজ্য সরকারের এই উদ্যোগের মাধ্যমে ‘বেটি বাঁচাও, বেটি পড়াও’ পরিকল্পনা রূপায়ণ করা হচ্ছে। এর মূল উদ্দেশ্য হলো জন্মকালীন লিঙ্গানুপাতের উন্নতি ঘটানো, প্রাতিষ্ঠানিক প্রসবকে উৎসাহিত করা, মেয়েদের শিক্ষার সুযোগ সুনিশ্চিত করা, স্কুলছুট প্রবণতা রোধ করা এবং ঋতুস্রাবকালীন স্বাস্থ্য ও পরিচ্ছন্নতা বিষয়ে ব্যাপক সচেতনতা তৈরি করা।
রাজ্য সরকারের প্রকাশিত প্রেস বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, মেয়ে ও মহিলাদের জীবনের প্রতিটি ধাপে ক্ষমতায়ন সুনিশ্চিত করাই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য। সমাজে কন্যাশিশুদের প্রতি দৃষ্টিভঙ্গি ও আচরণে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে সচেতনতা বৃদ্ধি, উৎসাহদান, সামাজিক অংশীদারিত্ব এবং বিভিন্ন স্টেকহোল্ডারদের যুক্ত করার ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে। এই অনুষ্ঠানে কলকাতা, হাওড়া এবং উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার বিভিন্ন স্কুল ও কলেজের প্রায় ১,৬০০ জন ছাত্রী উপস্থিত ছিল।
‘কন্যা রত্ন’ উদ্যোগকে এগিয়ে নিতে রাজ্য সরকার ১০.৭৭ লাখ মেয়েকে আর্থিক সহায়তা প্রদান করেছে। এর মধ্যে ৯.৪৮ লাখ ছাত্রীর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ১,০০০ টাকা করে এবং ১.২৯ লাখ ছাত্রীর অ্যাকাউন্টে ২৫,০০০ টাকা করে সরাসরি পাঠানো হয়েছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, এই বাবদ মোট প্রায় ৪১৮ কোটি টাকা বন্টন করা হয়েছে।
মহিলাদের বিভিন্ন সরকারি প্রকল্প ও জরুরি পরিষেবার তথ্য পৌঁছে দিতে আজ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে ১৮১ হেল্পলাইন নম্বর চালু করা হলো। এই নম্বরে কল করে মহিলারা সরকারি প্রকল্পের বিবরণ পাওয়ার পাশাপাশি আইনি পরামর্শ এবং পুলিশ, অগ্নিনির্বাপক বিভাগ ও অ্যাম্বুলেন্সের মতো জরুরি সরকারি পরিষেবার সাহায্য নিতে পারবেন। এছাড়া ওয়ান-স্টপ সেন্টার থেকেও প্রয়োজনীয় সবরকম সহায়তা মিলবে।
অনুষ্ঠানে ‘পালনা’ নামে একটি নতুন শিশু যত্ন উদ্যোগেরও ঘোষণা করা হয়। কর্মজীবী মহিলাদের শিশুদের জন্য নিরাপদ ডে-কেয়ার, সঠিক পুষ্টি এবং প্রাথমিক মানসিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক বিকাশের সুযোগ প্রদান করাই এর প্রধান উদ্দেশ্য। এই ব্যবস্থাটি মূলত অঙ্গনওয়াড়ি-কাম-ক্রেশ সেন্টারের মাধ্যমে পরিচালিত হবে। সরকারের আশা, এই পদক্ষেপের ফলে কর্মজীবী মায়েরা অনেকটাই চাপমুক্ত হবেন এবং কর্মক্ষেত্রে মহিলাদের অংশগ্রহণ আরও বৃদ্ধি পাবে।
উল্লেখ্য, এর আগে পশ্চিমবঙ্গে মেয়েদের শিক্ষা অব্যাহত রাখা এবং বাল্যবিবাহ রোধ করার উদ্দেশ্যে রাজ্য সরকারের অধীনে সফলভাবে ‘কন্যাশ্রী’ প্রকল্প পরিচালিত হয়ে আসছিল।
হিন্দুস্থান সমাচার / সোনালি