হাতির তাণ্ডবে তছনছ আমন ধানের জমি, ক্ষতির মুখে বড়জোড়ার চাষিরা
বাঁকুড়া, ২৬ আগস্ট (হি. স.): জঙ্গল থেকে রাতের অন্ধকারে নেমে আসছে হাতির দল। কখনও ধানজমিতে নেমে কচি ধানের চারা খেয়ে ও পায়ে মাড়িয়ে নষ্ট করছে, কখনও আবার গ্রামে ঢুকে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। বড়জোড়া-বেলিয়াতোড় রেঞ্জ এলাকায় হাতির তাণ্ডবে কার্যত নাজেহাল হ
বাঁকুড়া উত্তর বনবিভাগের বড়জজোড়া বেলিয়াতোড় রেঞ্জ এলাকার জঙ্গলে আসা হাতির দল এলাকার কৃষি জমি তছনছ করে দিচ্ছে


বাঁকুড়া, ২৬ আগস্ট (হি. স.): জঙ্গল থেকে রাতের অন্ধকারে নেমে আসছে হাতির দল। কখনও ধানজমিতে নেমে কচি ধানের চারা খেয়ে ও পায়ে মাড়িয়ে নষ্ট করছে, কখনও আবার গ্রামে ঢুকে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। বড়জোড়া-বেলিয়াতোড় রেঞ্জ এলাকায় হাতির তাণ্ডবে কার্যত নাজেহাল হয়ে পড়েছেন বাসিন্দারা। স্থানীয় আবাসিক হাতির পাশাপাশি দলমা থেকে আসা হাতির দলের দাপটে চাষিদের উদ্বেগ আরও বেড়েছে।

মঙ্গলবার রাতে জঙ্গল থেকে বেরিয়ে বড়জোড়ার শীতলা বিটের কুড়ারিয়া গ্রামের কৃষিজমিতে ঢুকে পড়ে আটটি হাতির দল। রাত দশটার পর থেকে প্রায় সারারাত ধরে মাঠে দাপিয়ে বেড়ায় তারা। বেশ কয়েক বিঘা আমন ধানের পাশাপাশি মিনিকিট ও গোবিন্দভোগ ধানের কচি চারা খেয়ে এবং পায়ে মাড়িয়ে নষ্ট করে দেয় হাতির দল। বৃষ্টির কারণে জমিতে জল-কাদা থাকায় ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আরও বেড়েছে।

বুধবার স্থানীয় বাসিন্দা দ্বিগবিজয় ঘোষ জানান, তাঁর পাশাপাশি স্বপন ঘোষ, বৃধন ঘোষ, নাড়ুগোপাল ঘোষ এবং নেপাল ঘোষের জমিও হাতির তাণ্ডবে ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তিনি বলেন, “একসঙ্গে আটটি হাতি মাঠে নামলে কী পরিস্থিতি হয়, তা ভাবলেই চোখে জল আসে। রাত দশটার পর থেকে প্রায় সারারাত ধানের কচি চারা খেয়ে ও পায়ে মাড়িয়ে তছনছ করে দিয়েছে।” তাঁর অভিযোগ, বন দফতরের নিয়ম অনুযায়ী যে ক্ষতিপূরণ পাওয়া যায়, তা পেতে যে খরচ হয়, অনেক সময় সেই টাকাটুকুও উঠে আসে না।

এদিকে একই রাতে বেলিয়াতোড় রেঞ্জের সাগরাকাটা গ্রামে একটি হাতি ঢুকে পড়ে। সারারাত গ্রামে দাপিয়ে বেড়ানোয় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে বাসিন্দাদের মধ্যে। শেষ পর্যন্ত কাঁসর-ঘণ্টা ও টিন বাজিয়ে গ্রামবাসীরাই হাতিটিকে জঙ্গলের দিকে পাঠাতে সক্ষম হন।

বাঁকুড়া উত্তর বন বিভাগের বড়জোড়া রেঞ্জের শীতলা বিট অফিসার জয়ন্ত কুমার ঘোষ জানান, আটটি হাতির একটি দল জঙ্গল থেকে বেরিয়ে শালী নদীর ওপারে চলে যায়। বৃষ্টি এবং জল-কাদার কারণে বন দফতরের হুলা টিমের সদস্যরা সেভাবে কাজ করতে পারেননি। তবে বিভিন্নভাবে চেষ্টা করে হাতিগুলিকে ধানজমি থেকে সরিয়ে ফের জঙ্গলে পাঠানো হয়। তাঁর কথায়, দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে হাতিগুলিকে সরাতে কয়েক ঘণ্টা সময় লেগে যায়। ফলে ধানজমিতে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণও বেড়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত চাষিদের সরকারি নিয়ম অনুযায়ী ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

বাঁকুড়া উত্তর বন বিভাগ সূত্রে জানা গিয়েছে, বুধবার এই বন বিভাগ এলাকায় মোট ১৮টি হাতি রয়েছে। এর মধ্যে বড়জোড়া রেঞ্জের পাবয়া জঙ্গলে পাঁচটি এবং দক্ষিণ সরাগোড়া এলাকায় ১৩টি হাতি অবস্থান করছে। হাতির গতিবিধির কথা মাথায় রেখে সংশ্লিষ্ট এলাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার আবেদন জানিয়েছে বন দফতর।

হিন্দুস্থান সমাচার / সোমনাথ বরাট




 

 rajesh pande