রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক কৌশল নির্ধারণে বৈঠক সিপিআই(এম) ত্রিপুরা রাজ্য কমিটির
আগরতলা, ২৬ আগস্ট (হি.স.) : আগামী দিনে রাজ্যে বিভিন্ন গণতান্ত্রিক আন্দোলনকে আরও জোরদার করার লক্ষ্যে সংগঠনের রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক কৌশল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বসল সিপিআই(এম) ত্রিপুরা রাজ্য কমিটি। বুধবার আগরতলায় মেলার মাঠ সংলগ্ন সিপিআই(এম) রাজ্য ক
সিপিআই(এম) রাজ্য কমিটির বৈঠক


আগরতলা, ২৬ আগস্ট (হি.স.) : আগামী দিনে রাজ্যে বিভিন্ন গণতান্ত্রিক আন্দোলনকে আরও জোরদার করার লক্ষ্যে সংগঠনের রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক কৌশল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বসল সিপিআই(এম) ত্রিপুরা রাজ্য কমিটি। বুধবার আগরতলায় মেলার মাঠ সংলগ্ন সিপিআই(এম) রাজ্য কার্যালয় দশরথ দেব ভবনের মিলনায়তনে শুরু হয়েছে দু’দিনের রাজ্য কমিটির বৈঠক। বৈঠকে উপস্থিত রয়েছেন দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক এমএ বেবি, রাজ্য সম্পাদক জিতেন্দ্র চৌধুরী, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী এবং দলের অন্যান্য শীর্ষ নেতৃত্ব।

বৈঠক শুরুর আগে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে রাজ্য সম্পাদক জিতেন্দ্র চৌধুরী জানান, সাধারণত প্রায় দেড় মাস অন্তর দলের রাজ্য কমিটির নিয়মিত বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেই ধারাবাহিকতায় এবারের বৈঠকে গত এক মাসে ত্রিপুরার রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সাংগঠনিক পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত পর্যালোচনা করা হবে।

তিনি জানান, রাজ্যের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির পাশাপাশি বিভিন্ন গণসংগঠনের কর্মসূচি নিয়েও বৈঠকে আলোচনা হবে। বিশেষ করে গত ১০ আগস্ট সিপিআইএম ও বামপন্থী গণসংগঠনগুলির উদ্যোগে আয়োজিত ‘জেল ভরো’ কর্মসূচির সাফল্য ও দুর্বলতার দিকগুলি পর্যালোচনা করা হবে। কর্মসূচি থেকে কী ধরনের জনসমর্থন পাওয়া গিয়েছে এবং কোথায় সাংগঠনিক ঘাটতি রয়েছে, তা চিহ্নিত করে পরবর্তী কর্মসূচির ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় কৌশল গ্রহণ করা হবে।

সামনেই ভিলেজ কমিটির নির্বাচন, পুর নির্বাচন এবং বিধানসভা অধিবেশন। ফলে আগামী দিনের রাজনৈতিক কর্মসূচি নির্ধারণের ক্ষেত্রেও এই বিষয়গুলি বিশেষ গুরুত্ব পাবে বলে জানান জিতেন্দ্র চৌধুরী। স্থানীয় স্তরের বিভিন্ন সমস্যা ও জনস্বার্থের বিষয়গুলিকে সামনে রেখে কীভাবে আরও বৃহত্তর গণতান্ত্রিক আন্দোলন গড়ে তোলা যায়, সে বিষয়ে বৈঠকে বিস্তারিত আলোচনা হবে।

রাজ্য সরকারের বিভিন্ন নীতি ও সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধেও আগামী দিনে কী ধরনের গণতান্ত্রিক আন্দোলন সংগঠিত করা যায়, তা নিয়ে দলীয় নেতৃত্বের মধ্যে মতবিনিময় হবে। বিশেষ করে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন সমস্যা, অর্থনৈতিক চাপ এবং স্থানীয় বিভিন্ন ইস্যুকে কেন্দ্র করে আন্দোলনের পরিধি কীভাবে বাড়ানো যায়, তার রূপরেখা তৈরি করাই বৈঠকের অন্যতম লক্ষ্য বলে জানান রাজ্য সম্পাদক।

এদিকে, ত্রিপুরার গণ্ডি ছাড়িয়ে জাতীয় রাজনৈতিক পরিস্থিতিও বৈঠকের আলোচনায় গুরুত্ব পাবে। সারা দেশে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ঘটনাবলি, বিভিন্ন গণআন্দোলন এবং তার প্রভাব সম্পর্কে দলের সাধারণ সম্পাদক এমএ বেবি রাজ্য কমিটির সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন। জাতীয় পরিস্থিতির সঙ্গে রাজ্যের রাজনৈতিক বাস্তবতার সমন্বয় ঘটিয়ে আগামী দিনে দল কী অবস্থান নেবে, তা নিয়েও আলোচনা হওয়ার কথা।

জিতেন্দ্র চৌধুরীর কথায়, স্থানীয় ইস্যুগুলিকে সামনে রেখে মানুষের বিভিন্ন সমস্যা ও দাবিকে কেন্দ্র করে আগামী দিনে ধারাবাহিক গণতান্ত্রিক কর্মসূচি গ্রহণ করাই দলের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। সেই কর্মসূচিকে আরও কার্যকর ও জনভিত্তিক করার জন্য সাংগঠনিক শক্তি বাড়ানোর উপরও গুরুত্ব দেওয়া হবে।

সব মিলিয়ে, আসন্ন নির্বাচন, বিধানসভা অধিবেশন এবং রাজ্যের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে সামনে রেখে সিপিআই(এম) এই রাজ্য কমিটির বৈঠক যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। বৈঠক থেকে আগামী দিনের আন্দোলন ও সাংগঠনিক কর্মসূচির কী রূপরেখা সামনে আসে, এখন সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।

হিন্দুস্থান সমাচার / গোবিন্দ দেবনাথ




 

 rajesh pande