
আগরতলা, ২৬ আগস্ট (হি.স.) : সরকারি নোটিফিকেশন জারি হওয়ার পর কেটে গিয়েছে প্রায় চার বছর। কিন্তু এখনও বাস্তবায়িত হয়নি ত্রিপুরা ট্রাইব্যাল এরিয়াস অটনোমাস ডিস্ট্রিক্ট কাউন্সিলের (টিটিএএডিসি) চারটি ভিলেজ কমিটি এবং পুরাতন আগরতলার ৫ নম্বর খয়েরপুর এলাকাকে বেলবাড়ি ব্লকের অধীনে স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত। প্রশাসনের এই দীর্ঘসূত্রিতা নিয়ে এবার ক্ষোভে ফুঁসছেন সংশ্লিষ্ট এলাকার সাধারণ মানুষ। অবিলম্বে সরকারি সিদ্ধান্ত কার্যকর করার দাবিতে বুধবার জাতীয় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখান তাঁরা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০২২ সালে রাধামহনপুর, পশ্চিম রাধামহনপুর, বর্ধমান ঠাকুর ও ধুপছড়া—এই চারটি ভিলেজ কমিটি এবং পুরাতন আগরতলার ৫ নম্বর খয়েরপুর এলাকাকে বেলবাড়ি ব্লকের অধীনে স্থানান্তরের বিষয়ে সরকারি নোটিফিকেশন জারি করা হয়। সরকারি নির্দেশ জারি হওয়ার পর এলাকাবাসীর মধ্যে আশার সঞ্চার হয়েছিল। তাঁদের প্রত্যাশা ছিল, প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস দ্রুত কার্যকর হলে দীর্ঘদিনের বিভিন্ন সমস্যা অনেকটাই মিটবে। কিন্তু চার বছর অতিক্রান্ত হলেও সেই সিদ্ধান্ত কার্যকর না হওয়ায় ক্ষোভ ক্রমশ তীব্র হয়েছে।
আন্দোলনকারীদের বক্তব্য, বর্তমানে বিভিন্ন সরকারি পরিষেবা ও প্রশাসনিক কাজের জন্য তাঁদের দূরবর্তী এলাকায় যেতে হয়। ফলে সাধারণ মানুষকে অযথা সময় ও অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে। বিশেষ করে প্রত্যন্ত এলাকার সাধারণ মানুষ, বয়স্ক ব্যক্তি এবং বিভিন্ন সরকারি পরিষেবা নিতে আসা নাগরিকদের জন্য এই সমস্যা আরও বেশি। তাঁদের অভিযোগ, একটি সরকারি নোটিফিকেশন থাকা সত্ত্বেও সেটি কার্যকর না হওয়ায় প্রশাসনিক পরিষেবা পেতে তাঁদের অহেতুক হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে।
এলাকাবাসীর দাবি, সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলিকে বেলবাড়ি ব্লকের অধীনে নিয়ে এলে প্রশাসনিক কাজ অনেকটাই সহজ হবে। সরকারি দফতরে যাতায়াতের দূরত্ব কমার পাশাপাশি সময় ও পরিবহণ খরচও কমবে। একই সঙ্গে বিভিন্ন সরকারি প্রকল্প ও পরিষেবা সাধারণ মানুষের কাছে দ্রুত পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে। স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে জনগণের যোগাযোগ আরও নিবিড় হবে বলেও দাবি তাঁদের।
এই দাবিতেই বুধবার আসাম-আগরতলা জাতীয় সড়কের দশরাম মাধববাড়ি এলাকায় সড়ক অবরোধে শামিল হন এলাকার বহু মানুষ। দীর্ঘক্ষণ সড়ক অবরোধ চলায় যান চলাচল ব্যাহত হয়। খবর পেয়ে প্রশাসনের আধিকারিকরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে কথা বলেন। সরকারি সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের বিষয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দেওয়া হয়।
প্রশাসনের আশ্বাসের পর আপাতত অবরোধ প্রত্যাহার করে নেন আন্দোলনকারীরা। পাশাপাশি আগামী ১ সেপ্টেম্বর প্রশাসনের সঙ্গে বৈঠকের সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে জানা যায়। ওই বৈঠকে সরকারি নোটিফিকেশন বাস্তবায়নের বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে আলোচনা হবে বলে আশা করছেন আন্দোলনকারীরা।
তবে আন্দোলনকারীরা জানিয়ে দিয়েছেন, শুধু আশ্বাসে আর তাঁরা সন্তুষ্ট নন। নির্ধারিত বৈঠকের পরও যদি সমস্যার স্থায়ী সমাধান না হয় এবং ২০২২ সালের সরকারি নোটিফিকেশন কার্যকর না করা হয়, তাহলে আগামী দিনে আরও বৃহত্তর আন্দোলনে নামবেন তাঁরা। প্রয়োজনে ফের জাতীয় সড়ক অবরোধ করেও দাবি আদায়ের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন আন্দোলনকারীরা।
চার বছর আগে জারি হওয়া সরকারি নোটিফিকেশন এখনও কেন বাস্তবায়িত হয়নি, তা নিয়েই এখন প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে সংশ্লিষ্ট মহলে। আগামী ১ সেপ্টেম্বর প্রশাসনিক বৈঠকের দিকে তাকিয়ে রয়েছেন রাধামহনপুর, পশ্চিম রাধামহনপুর, বর্ধমান ঠাকুর, ধুপছড়া ও ৫ নম্বর খয়েরপুর এলাকার বাসিন্দারা। সরকারি সিদ্ধান্ত এবার বাস্তবে কার্যকর হয় কি না, সেটাই দেখার বিষয়।
হিন্দুস্থান সমাচার / গোবিন্দ দেবনাথ