দুর্গাপুর ব্যারেজে ওয়াটার স্পোর্টস ও ইকো-ট্যুরিজমের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখতে নির্দেশ পর্যটন দফতরের
দুর্গাপুর, ৪ আগস্ট (হি. স.): পর্যটন মানচিত্রে নতুন করে ঠাঁই পাবে দুর্গাপুর ব্যারেজ। ঢেলে সাজবে দুর্গাপুর ব্যারেজ সংলগ্ন দামোদর তীরবর্তী। তৈরি হবে বিশ্বমানের ওয়াটার স্পোর্টস হাব, ইকো পার্ক। দুর্গাপুর ব্যারেজে সেসব তৈরি করা যাবে কি না, তার খতিয়ে
দুর্গাপুর ব্যারেজে ওয়াটার স্পোর্টস ও ইকো-ট্যুরিজমের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখতে নির্দেশ পর্যটন দফতরের


দুর্গাপুর, ৪ আগস্ট (হি. স.): পর্যটন মানচিত্রে নতুন করে ঠাঁই পাবে দুর্গাপুর ব্যারেজ।

ঢেলে সাজবে দুর্গাপুর ব্যারেজ সংলগ্ন দামোদর তীরবর্তী। তৈরি হবে বিশ্বমানের ওয়াটার স্পোর্টস হাব, ইকো পার্ক। দুর্গাপুর ব্যারেজে সেসব তৈরি করা যাবে কি না, তার খতিয়ে দেখতে নির্দেশ দিল রাজ্য পর্যটন দফতর । আর ওই চিঠিতে আশার আলো দেখছে শিল্পশহরবাসী।

প্রসঙ্গত, কয়েকদিন আগেই সুন্দরবনকে ঢেলে সাজানোর পরিকল্পনার কথা জানান রাজ্যের পর্যটন মন্ত্রী শংকর ঘোষ। রাজ্যের পর্যটনকে ঢেলে সাজাতে ইতিমধ্যে একাধিক পদক্ষেপ নিয়েছে শুভেন্দু অধিকারীর সরকার। বিশেষ করে বাঙালির শ্রেষ্ঠ দুর্গাপুজোকে বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরতে একাধিক পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এরই মধ্যে পশ্চিম বর্ধমানের পর্যটন মানচিত্রে যুক্ত হতে চলেছে নতুন পালক। দুর্গাপুর ব্যারেজকে কেন্দ্র করে ইকো-ট্যুরিজম পার্ক এবং ওয়াটার স্পোর্টস হাব গড়ে তোলার উদ্যোগ নিল রাজ্য সরকার।

সোমবার পর্যটন দফতরের তরফে এই সংক্রান্ত চিঠি পাঠানো হয় সংশ্লিষ্ট জেলাশাসককে। তাতে বলা হয়েছে, পর্যটনের দৃষ্টিকোণ থেকে প্রকল্পটি কতটা বাস্তবসম্মত, তা খতিয়ে দেখে দ্রুত একটি রিপোর্ট জমা দিতে হবে। রিপোর্টে সমস্ত তথ্য ঠিক থাকলে সরকারি নির্দেশিকা মেনে পূর্ণাঙ্গ প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিআর) তৈরি করে দফতরে পাঠানোর নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার জানা গেছে, এই সংক্রান্ত নির্দেশিকা আসার পরই এই বিষয়ে প্রশাসনিকস্তরে উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে দুর্গাপুর ব্যারাজের মনোরম প্রাকৃতিক পরিবেশকে কাজে লাগিয়ে নৌবিহার, কায়াকিং, প্যাডেল বোট, জেট স্কি-সহ বিভিন্ন জলক্রীড়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে। পাশাপাশি গড়ে উঠতে পারে পরিবেশবান্ধব ইকো-ট্যুরিজম পার্ক, যা পর্যটকদের কাছে নতুন আকর্ষণ হয়ে উঠবে। বর্তমানে পর্যটকদের অন্যতম বড়ো আকর্ষণ হল ওয়াটার স্পোর্টস। সারফিং, ওয়াটার পোলো, ওয়াটার বাস্কেটবল সহ জলের মধ্যে হরেক খেলায় মেতে উঠছেন পর্যটকরা।

এবার সেসব আধুনিক স্পোর্টসই দুর্গাপুর ব্যারেজকে কেন্দ্র করে করা যায় কি না তা নিয়ে জেলাশাসকের রিপোর্ট তলব করল রাজ্য পর্যটন দফতর।

পাশাপাশি ব্যারেজের চারপাশের সৌন্দর্য আরও বাড়িয়ে কটেজ গড়ে ইকো টুরিজমে কী ভবিষ্যত রয়েছে তাও জেলাশাসককে খতিয়ে দেখার নির্দেশ দিয়েছে সংশ্লিষ্ট দফতর। প্রকল্পটি বাস্তবসম্মত হলে পর্যটন দফতরকে ডিপিআর জমা করতেও বলা হয়েছে।

উল্লেখ্য, দুর্গাপুর পূর্বের বিজেপি বিধায়ক চন্দ্রশেখর বন্দ্যোপাধ্যায় দুর্গাপুর ব্যারেজের সামগ্রিক উন্নয়ন নিয়ে একাধিক প্রস্তাবের কথা আগেও উল্লেখ করেছেন। তিনিই রাজ্যের পর্যটন দফতরকে চিঠি লিখে ওয়াটার স্পোর্টস ও ইকো টুরিজম গড়ার প্রস্তাব দেন। একইসঙ্গে কাঁকসার রাঢেশ্বর শিব মন্দিরের উন্নয়নের প্রস্তাব দেন। বলা বাহুল্য, বিগত তৃণমূল জামানায় বুদবুদের রনডিয়ার ফেয়ারি ( মিনি জলাধার) কে ঘিরে ইকো টুরিজিম গড়ার উদ্যোগ নিয়েছিল তৎকালিন রাজ্য সরকার। রনডিহা লাগোয়া কসবা প্রাচীন শিব মন্দির, ভরতপুরের বৌদ্ধস্তুপকে ঘিরে পর্যটন কেন্দ্র গড়ে তোলার সম্ভাবনায় খতিয়ে দেখায়। তৈরি হয় ডিপিআর। কিন্তু, সেসব খরচ সাপেক্ষ হওয়ায় লাল ফিতের ফাঁসে আটকে পড়ে।

যদিও দুর্গাপুর ব্যারেজ প্রসঙ্গে দুর্গাপুর পূর্বের বিধায়ক চন্দ্রশেখর বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ”আমরা ইকো ট্যুরিজম পার্কের জন্য সরকারের কাছে আবেদন করেছিলাম। আবেদনের সাড়া দিয়েছেন পর্যটন দফতর। সেই নিয়ে একটি রিপোর্ট জমা দেওয়ার কথাও জানানো হয়েছে।” তিনি আরও বলেন, প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে এলাকার মানুষের কর্মসংস্থান যেমন তৈরি হবে, তেমনই দুর্গাপুর-সহ পার্শ্ববর্তী এলাকার মানুষজনও মনোরম দৃশ্য উপভোগ করতে পারবেন।

---------------

হিন্দুস্থান সমাচার / জয়দেব লাহা




 

 rajesh pande