
মুম্বই, ৪ আগস্ট (হি. স.): প্রাক্তন রাজ্যপাল, বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ এবং পদ্মশ্রী সম্মানপ্রাপ্ত ড. জ্ঞানদেব যশবন্তরাও (ডি.ওয়াই.) পাটিলের (৯১) মঙ্গলবার সকালে মহারাষ্ট্রের কোলহাপুরের কাসবা বাওড়ায় নিজ বাসভবনে প্রয়াত হয়েছে।পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে,তিনি বেশ কিছুদিন ধরে অসুস্থ ছিলেন এবং বাড়িতেই চিকিৎসাধীন ছিলেন। মঙ্গলবারই কোলহাপুরে তাঁর শেষকৃত্য সম্পন্ন হবে জানা গিয়েছে।
প্রসঙ্গত , ১৯৩৫ সালের ২২ অক্টোবর কোলহাপুর জেলার কাসবা বাওড়ায় জন্মগ্রহণ করেন ড. পাটিল। সেখান থেকেই তাঁর জনজীবনের সূচনা। শিক্ষা ও সমাজসেবার ক্ষেত্রে তিনি আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি অর্জন করেন এবং অসংখ্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তুলে দেশের অন্যতম শীর্ষ শিক্ষাবিদ হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন।
রাজনৈতিক জীবনও শুরু হয় তৃণমূল স্তর থেকেই। ১৯৫৭ থেকে ১৯৬২ সাল পর্যন্ত তিনি কোলহাপুর পুরসভার কাউন্সিলর ও মেয়র ছিলেন। পরে ১৯৬৭ ও ১৯৭২ সালে পনহালা কেন্দ্র থেকে বিধায়ক নির্বাচিত হন। ১৯৭৮ সালের নির্বাচনে পরাজয়ের পর সক্রিয় রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়ালেও কংগ্রেসের সঙ্গে দীর্ঘদিন যুক্ত ছিলেন। ২০০৯ সালের নভেম্বরে তাঁকে ত্রিপুরার রাজ্যপাল নিয়োগ করা হয়। ২০১৩ সালের মার্চে তিনি বিহারের রাজ্যপালের দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং কিছু সময়ের জন্য পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপালের অতিরিক্ত দায়িত্বও পালন করেন।
প্রায় ৪৫ বছর বয়সে তিনি শিক্ষা ও স্বাস্থ্য পরিষেবাকে জীবনের মূল কর্মক্ষেত্র হিসেবে বেছে নেন। ১৯৮৩ সালে নবি মুম্বইয়ে একটি ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বিস্তৃত নেটওয়ার্ক গড়ে তোলেন, যা দেশ-বিদেশে পরিচিতি লাভ করে। শিক্ষা ও স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে তাঁর অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ১৯৯১ সালে তাঁকে পদ্মশ্রী সম্মানে ভূষিত করা হয়।
দীর্ঘ জনজীবনে সরলতা, সৌম্য ব্যবহার এবং সব রাজনৈতিক দলের নেতাদের সঙ্গে সুসম্পর্কের জন্যও তিনি পরিচিত ছিলেন। তাঁর প্রয়াণে শিক্ষা, সমাজসেবা ও জনজীবনে এক অপূরণীয় শূন্যতার সৃষ্টি হয়েছে।
---------------
হিন্দুস্থান সমাচার / সৌমি বৈদ্য