(আপডেট ) যৌন নিগ্রহ মামলায় তরুণ তেজপালের ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড, ৫ লক্ষ টাকা জরিমানা
পানাজি, ৬ আগস্ট (হি. স.): দীর্ঘ ১৩ বছর পর ২০১৩ সালের বহুল আলোচিত যৌন নিগ্রহ মামলায় ‘তেহেলকা’ পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা ও প্রাক্তন সম্পাদক তরুণ তেজপালকে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ডের নির্দেশ দিল বোম্বে হাই কোর্টের গোয়া বেঞ্চ। পাশাপাশি তাঁর বিরুদ্ধে ৫ লক্ষ
(আপডেট ) যৌন নিগ্রহ মামলায় তরুণ তেজপালের ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড, ৫ লক্ষ টাকা জরিমানা


পানাজি, ৬ আগস্ট (হি. স.): দীর্ঘ ১৩ বছর পর ২০১৩ সালের বহুল আলোচিত যৌন নিগ্রহ মামলায় ‘তেহেলকা’ পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা ও প্রাক্তন সম্পাদক তরুণ তেজপালকে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ডের নির্দেশ দিল বোম্বে হাই কোর্টের গোয়া বেঞ্চ। পাশাপাশি তাঁর বিরুদ্ধে ৫ লক্ষ টাকা জরিমানাও ধার্য করা হয়েছে। আত্মসমর্পণের জন্য তাঁকে দু'সপ্তাহ সময় দিয়েছে আদালত।

বৃহস্পতিবার বিচারপতি নীলা গোখলে ও অমিত জামসান্দেকারের ডিভিশন বেঞ্চ তরুণ তেজপালকে তাঁর বিরুদ্ধে আনা সমস্ত অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করে সাজা ঘোষণা করে। গোয়া পুলিশের তদন্তকারী অফিসার সুনিতা সাওয়ান্ত জানান, আদালত ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং ৫ লক্ষ টাকা জরিমানার নির্দেশ দিয়েছে। অভিযুক্তকে দু'সপ্তাহের মধ্যে আত্মসমর্পণ করতে হবে।

গোয়া সরকারের পক্ষে মামলায় সওয়াল করা আইনজীবী সিন্ডিয়ানা সিলভাও জানান, তরুণ তেজপালের বিরুদ্ধে আনা প্রতিটি অভিযোগ আদালত গ্রহণ করেছে এবং সেই অনুযায়ী তাঁকে দোষী সাব্যস্ত করে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ৫ লক্ষ টাকা জরিমানার নির্দেশ দিয়েছে।

প্রসঙ্গত , ২০১৩ সালে গোয়ায় একটি সম্মেলনের সময় ‘তেহেলকা’র এক মহিলা সহকর্মী অভিযোগ করেন, একটি পাঁচতারা হোটেলের লিফটের ভিতরে তাঁকে যৌন নিগ্রহ করেন তরুণ তেজপাল। অভিযোগের ভিত্তিতে গোয়া পুলিশ এফআইআর দায়ের করে এবং একই বছর তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। ২০১৪ সালের জুলাইয়ে তিনি জামিনে মুক্তি পান। পরে ধর্ষণ-সহ একাধিক ধারায় তাঁর বিরুদ্ধে বিচার শুরু হয়।

২০২১ সালে গোয়ার ট্রায়াল কোর্ট তাঁকে বেকসুর খালাস দেয়। সেই রায়কে চ্যালেঞ্জ করে গোয়া সরকার বম্বে হাই কোর্টের গোয়া বেঞ্চে আবেদন জানায়। উচ্চ আদালত ট্রায়াল কোর্টের রায় বাতিল করে তাঁকে দোষী সাব্যস্ত করে এবং বৃহস্পতিবার সাজা ঘোষণা করে।

রায় ঘোষণার পর তদন্তকারী অফিসার সুনিতা সাওয়ান্ত বলেন, “এটি এমন একটি মামলা, যেখানে একজন তরুণী নিজের অধিকারের পক্ষে লড়াই করেছেন। তাই এই রায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”

এদিকে, দিল্লিতে এই রায় প্রসঙ্গে প্রবীণ আইনজীবী গীতা লুথরা বলেন, কোনও খালাসের রায় বাতিল করে পরে দোষী সাব্যস্ত করার ঘটনা অত্যন্ত বিরল। তাঁর মতে, বিষয়টি এখন সুপ্রিম কোর্টে গেলে পুরো মামলাটি বিস্তারিতভাবে পুনর্বিবেচনা করা হবে। তিনি বলেন, মামলায় এমন কিছু প্রমাণ ছিল যা তরুণ তেজপালের পক্ষে যেতে পারত, তবে উচ্চ আদালত ভিন্ন মত নিয়েছে। পাশাপাশি, তদন্ত চলাকালীন কিছু নথি দীর্ঘদিন অভিযুক্তের হাতে তুলে দেওয়া হয়নি বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

---------------

হিন্দুস্থান সমাচার / সৌমি বৈদ্য




 

 rajesh pande