
শিমলা, ৭ আগস্ট (হি.স.): আপেলের মরশুম পুরোদমে চললেও হিমাচল প্রদেশের কংগ্রেস সরকার চাষিদের স্বস্তি দেওয়ার বদলে নতুন নিয়ম ও নোটিস জারি করে তাঁদের দুর্ভোগ বাড়াচ্ছে বলে অভিযোগ করল বিজেপি।
শুক্রবার শিমলায় সাংবাদিক বৈঠকে দলের মুখপাত্র সন্দীপনী ভরদ্বাজ বলেন, রাজ্যের প্রায় আট লক্ষ মানুষ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে আপেল শিল্পের উপর নির্ভরশীল। বছরে প্রায় ৫,৫০০ কোটি টাকার আপেল ব্যবসা হয়, যা গ্রামীণ অর্থনীতির অন্যতম প্রধান ভিত্তি।
ভরদ্বাজের অভিযোগ, আপেল প্যাকিংয়ের জন্য মাত্র ৩০টি গানি ব্যাগ কেনার সীমা নির্ধারণ করা সম্পূর্ণ চাষিবিরোধী সিদ্ধান্ত। তাঁর প্রশ্ন, যাঁদের বাগানে ৩০০, ৫০০ বা ১,০০০ বাক্স আপেল উৎপাদন হয়, তাঁরা কীভাবে মাত্র ৩০টি ব্যাগে প্যাকিং করবেন? এই সিদ্ধান্তের ভিত্তি কী, তা সরকারকে স্পষ্ট করার দাবি জানান তিনি।
বিজেপি মুখপাত্রের আরও অভিযোগ, রাজ্যে এই নিয়ে আলোচনা চলছে যে আপেল ব্যবসায় কয়েকজন বিশেষ ব্যক্তিকে সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে। এ বিষয়ে সরকারকে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করার আহ্বান জানান তিনি।
তিনি বলেন, বহু এলাকায় এইচপিএমসি ও এপিএমসির সংগ্রহ কেন্দ্র সময়মতো খোলা হয়নি বা পূর্ণ সক্ষমতায় কাজ করছে না। অন্যদিকে, এমআইএস প্রকল্পের নামে চাষিদের নোটিস পাঠানো হচ্ছে। কোথাও অনিয়ম হয়ে থাকলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত, কিন্তু গোটা বাগান মালিক সমাজকে সন্দেহের চোখে দেখা উচিত নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তাঁর অভিযোগ, সৎভাবে চাষ করা কৃষকদেরও অযথা দফতরের দ্বারস্থ হতে হচ্ছে।
ভরদ্বাজের দাবি, সরকার প্রথমে এইচপিএমসির মাধ্যমে চাষিদের সময়মতো অর্থপ্রদান নিশ্চিত করুক, সমস্ত সংগ্রহ কেন্দ্র পূর্ণ সক্ষমতায় চালু করুক এবং পর্যাপ্ত প্যাকিং সামগ্রীর ব্যবস্থা করুক। উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি, কীটনাশক ও সার-মূল্যের ঊর্ধ্বগতি, খারাপ রাস্তা এবং দুর্বল পরিবহণ ব্যবস্থার মধ্যে সরকারের নতুন সিদ্ধান্তে চাষিদের উদ্বেগ আরও বেড়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
তিনি মুখ্যমন্ত্রীর কাছে ৩০টি ব্যাগের সীমা সংক্রান্ত নির্দেশ প্রত্যাহার, অপ্রয়োজনীয় নোটিস দেওয়া বন্ধ এবং আপেল চাষিদের স্বস্তি দেওয়ার দাবি জানান। একই সঙ্গে সতর্ক করে বলেন, দাবি পূরণ না হলে বিজেপি আপেল চাষিদের সঙ্গে নিয়ে গণতান্ত্রিক উপায়ে আন্দোলনে নামবে।
---------------
হিন্দুস্থান সমাচার / সৌমি বৈদ্য