মৃত আশাকর্মীর বাড়িতে ঢুকতে পারলেন না দোলা সেন ও কুণাল ঘোষ, পরিবারের সঙ্গে বাড়ির বাইরে কথা
বাঁকুড়া, ৭ আগস্ট (হি.স.) : মৃত আশাকর্মী রুম্পা মণ্ডলের বাড়িতে প্রবেশ করতে না পেরে পরিবারের সঙ্গে বাড়ির বাইরেই কথা বললেন ‘টিম মমতা’র সদস্য তথা তৃণমূল সাংসদ দোলা সেন ও বিধায়ক কুণাল ঘোষ। শুক্রবার সকালে তাঁরা বাঁকুড়ার গঙ্গাজলঘাটি ব্লকের ভালুকাথোল
মৃত আশাকর্মীর বাড়িতে ঢুকতে পারলেন না দোলা সেন ও কুনাল ঘোষ সহ কালিঘাট তৃনমূলীরা ---


বাঁকুড়া, ৭ আগস্ট (হি.স.) : মৃত আশাকর্মী রুম্পা মণ্ডলের বাড়িতে প্রবেশ করতে না পেরে পরিবারের সঙ্গে বাড়ির বাইরেই কথা বললেন ‘টিম মমতা’র সদস্য তথা তৃণমূল সাংসদ দোলা সেন ও বিধায়ক কুণাল ঘোষ। শুক্রবার সকালে তাঁরা বাঁকুড়ার গঙ্গাজলঘাটি ব্লকের ভালুকাথোল গ্রামে পৌঁছে মৃতার পরিবারের পাশে থাকার বার্তা দেন।

সকাল প্রায় ১১টা নাগাদ বাঁকুড়া জেলা তৃণমূল নেতৃত্বকে সঙ্গে নিয়ে ভালুকাথোল গ্রামে পৌঁছন দোলা সেন ও কুণাল ঘোষ। তাঁদের সঙ্গে ছিলেন গঙ্গাজলঘাটির তৃণমূল নেতা নিমাই মাজি, শালতোড়ার প্রাক্তন বিধায়ক স্বপন বাউরি, বড়জোড়ার প্রাক্তন বিধায়ক আশুতোষ মুখোপাধ্যায় ও অলক মুখোপাধ্যায়, জেলা নেতৃত্ব সুব্রত দরিপা, সন্তোষ মণ্ডল, বঙ্কিম মিশ্র, ধবল সিংহ, পবিত্র মুখার্জি-সহ শতাধিক নেতা-কর্মী।

তাঁরা গ্রামে প্রবেশ করতে পারলেও মৃত আশাকর্মীর বাড়িতে ঢুকতে পারেননি। স্থানীয় সূত্রের দাবি, বিজেপির চাপে তৃণমূল নেতাদের বাড়িতে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি। পরে মৃতার স্বামী সুভাষ মণ্ডল বাড়ির বাইরে এসে গ্রামের একটি গাছতলায় তাঁদের সঙ্গে কথা বলেন।

সুভাষ মণ্ডল জানান, তাঁদের সঙ্গে রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রীর কথা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে তিনি আর কোনও মন্তব্য করতে চাননি।

দোলা সেন ও কুণাল ঘোষ জানান, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে মৃতার বাড়িতে আসতে চেয়েছিলেন। কিন্তু তিনি আসতে না পারায় তাঁদের পাঠিয়েছেন এবং পরিবারের পাশে থাকার বার্তা দিয়েছেন।

পরে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে কুণাল ঘোষ বিজেপি এবং স্থানীয় বিধায়ক চন্দনা বাউরির তীব্র সমালোচনা করেন। তাঁর অভিযোগ, যাঁরা আয়ুষ্মান ভারতের ই-কেওয়াইসি সংক্রান্ত কাজে দক্ষ নন, সেই আশাকর্মীদের অল্প সময়ের প্রশিক্ষণ দিয়ে অতিরিক্ত কাজের চাপ দেওয়া হয়েছে। সেই চাপের মধ্যেই কাজ করতে গিয়ে রুম্পা মণ্ডলের মৃত্যু হয়েছে বলে তাঁর দাবি।

দোলা সেন বলেন, অতীতে বিএলওদের উপর যেভাবে চাপ সৃষ্টি করা হয়েছিল, আশাকর্মীদের ক্ষেত্রেও একই ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। তিনি জানান, রুম্পা মণ্ডলের পরিবারের পাশে রয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। মৃতার ১২ বছরের একটি কন্যাসন্তান রয়েছে এবং তাঁর স্বামী প্রান্তিক কৃষক। পরিবারের দাবি, একজন সদস্যকে চাকরি এবং মেয়ের পড়াশোনার দায়িত্ব সরকার গ্রহণ করুক।

তিনি আরও বলেন, বিধানসভায় কুণাল ঘোষকে এই বিষয় নিয়ে কথা বলতে দেওয়া হচ্ছে না। তবুও মৃতার পরিবারের দাবি সংশ্লিষ্ট মহলে পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করা হবে। পাশাপাশি গঙ্গাজলঘাটি ব্লক তৃণমূল নেতা নিমাই মাজিকে পরিবারের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখার নির্দেশ দেন তিনি।

অন্যদিকে কুণাল ঘোষ অভিযোগ করেন, বিজেপির কোনও জনপ্রতিনিধি মৃতার পরিবারের খোঁজ নিতে যাননি। মানুষেরই এর যথাযথ জবাব দেবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

উল্লেখ্য, গত রবিবার গঙ্গাজলঘাটি ব্লকে আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পের ই-কেওয়াইসি সংক্রান্ত কাজ নিয়ে আশাকর্মীদের ভর্ৎসনা করেন স্থানীয় বিধায়ক চন্দনা বাউরি। সেই ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়। এরপরই বাড়িতে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয় আশাকর্মী রুম্পা মণ্ডলের। ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্যজুড়ে আশাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। মৃতার পরিবারের জন্য আর্থিক ক্ষতিপূরণ, একজনের চাকরি এবং বিধায়ক চন্দনা বাউরির প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ার দাবিও ওঠে।

পরবর্তীতে স্বাস্থ্য ভবনে স্বাস্থ্যমন্ত্রী মৃতার পরিবারের সদস্য, আশাকর্মী প্রতিনিধি এবং বিধায়ক চন্দনা বাউরিকে নিয়ে বৈঠক করেন। এরপর চন্দনা বাউরি মৃতার বাড়িতে গিয়ে সমবেদনা জানিয়ে পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাস দেন।

হিন্দুস্থান সমাচার / সোমনাথ বরাট




 

 rajesh pande