উত্তরাখণ্ডে আরও পাঁচ দিন বৃষ্টির পূর্বাভাস, বাড়ছে ভাগীরথী-মান্দাকিনীর জলস্তর
দেহরাদূন, ৭ আগস্ট (হি.স.): উত্তরাখণ্ডে আগামী পাঁচ দিন বৃষ্টির দাপট অব্যাহত থাকার পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া দফতর। দেহরাদূনের আবহাওয়া দফতরের সূত্রে জানা গেছে , ৭ থেকে ১৩ আগস্ট পর্যন্ত রাজ্যের অধিকাংশ জেলায় হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির পাশাপাশি বজ্রবি
উত্তরাখণ্ডে আরও পাঁচ দিন বৃষ্টির পূর্বাভাস, বাড়ছে ভাগীরথী-মান্দাকিনীর জলস্তর


দেহরাদূন, ৭ আগস্ট (হি.স.): উত্তরাখণ্ডে আগামী পাঁচ দিন বৃষ্টির দাপট অব্যাহত থাকার পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া দফতর। দেহরাদূনের আবহাওয়া দফতরের সূত্রে জানা গেছে , ৭ থেকে ১৩ আগস্ট পর্যন্ত রাজ্যের অধিকাংশ জেলায় হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির পাশাপাশি বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষ করে ৯ থেকে ১১ আগস্টের মধ্যে বৃষ্টির তীব্রতা আরও বাড়তে পারে বলে জানানো হয়েছে। ভারী বৃষ্টি, ভূমিধস ও বজ্রপাতের আশঙ্কায় একাধিক জেলায় ইয়েলো অ্যালার্ট জারি করা হয়েছে।

আগামী ২৪ ঘণ্টায় উত্তরকাশী, দেহরাদূন, টেহরি, রুদ্রপ্রয়াগ ও বাগেশ্বরে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এছাড়া পাহাড়ি এলাকায় বজ্রপাত, প্রবল বর্ষণ এবং ভূমিধসের আশঙ্কার কথাও জানিয়েছে আবহাওয়া দফতর। হরিদ্বারেও বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে।

টানা বৃষ্টির জেরে সংবেদনশীল পাহাড়ি এলাকায় ছোট-বড় ভূমিধস, পাথর গড়িয়ে পড়া, জাতীয় সড়কে ধস নেমে যান চলাচল ব্যাহত হওয়া, নদী-নালার জলস্তর বৃদ্ধি এবং নিম্নাঞ্চলে জল জমার আশঙ্কা রয়েছে। প্রশাসনের তরফে নদী ও নালার ধারে না যাওয়া, ভূমিধসপ্রবণ এলাকায় সতর্ক থাকার এবং প্রয়োজন ছাড়া যাত্রা এড়ানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বজ্রপাতের সময় বাড়ির ভিতরে থাকার এবং গাছের নীচে আশ্রয় না নেওয়ার আবেদনও জানানো হয়েছে।

তবে আবহাওয়া দফতরের সর্বশেষ হরপা বানের গাইডেন্সও জানানো হয়েছে, আপাতত উত্তরাখণ্ডের কোনও এলাকাকেই আকস্মিক বন্যার উচ্চ ঝুঁকির তালিকায় রাখা হয়নি।

এদিকে, চারধাম যাত্রাপথ-সহ অধিকাংশ জাতীয় সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। ঋষিকেশ-যমুনোত্রী, ঋষিকেশ-গঙ্গোত্রী, ঋষিকেশ-বদ্রীনাথ, কর্ণপ্রয়াগ-থারালি-গ্বালদাম এবং তাওয়াঘাট-জুঞ্জি জাতীয় সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক থাকলেও, কুলাগাড় এলাকায় ধস নামায় ধারচুলা-তাওয়াঘাট জাতীয় সড়ক বন্ধ রয়েছে। রাস্তা পরিষ্কারের কাজ চলছে। তিলওয়াড়া ও দুগাড্ডা এলাকায় ধস সরিয়ে যান চলাচল পুনরায় চালু হয়েছে।

কেন্দ্রীয় জল কমিশনের শুক্রবার সকাল ১০টার রিপোর্ট অনুযায়ী, রাজ্যের একাধিক নদীর জলস্তর সতর্কসীমার কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছে। রুদ্রপ্রয়াগে অলকানন্দার জলস্তর ৬২৬.৫০ মিটার, যা সতর্কসীমা ৬২৬ মিটারের সামান্য উপরে এবং বিপদসীমা ৬২৭ মিটারের খুব কাছাকাছি। রুদ্রপ্রয়াগে মান্দাকিনীর জলস্তর ৬২২.৭০ মিটার এবং দেবপ্রয়াগে ভাগীরথীর জলস্তর ৬২৫.৪০ মিটার, যা সতর্কসীমা অতিক্রম করেছে। টেহরি ও হরিদ্বারেও ভাগীরথী ও গঙ্গার জলস্তর প্রশাসনের নজরদারিতে রয়েছে।

গত ২৪ ঘণ্টায় খানপুরে সর্বাধিক ১২৭.৫ মিমি বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয়েছে। এছাড়া রুড়কিতে ১০৮ মিমি, রোশনাবাদে ৯৮ মিমি, লক্সরে ৯৭ মিমি, ভগবানপুরে ৮৯ মিমি, বড়কোটে ৮০ মিমি, ত্যুনি, কীর্তিনগর, চকরাতা, উত্তরকাশী, ধনোলটি, ঘনসালি-সহ একাধিক এলাকায় উল্লেখযোগ্য বৃষ্টিপাত হয়েছে।

পরিস্থিতির উপর প্রশাসন ও আবহাওয়া দফতর নিবিড় নজর রাখছে। সাধারণ মানুষকে আবহাওয়া সংক্রান্ত সতর্কবার্তা মেনে চলা এবং একান্ত প্রয়োজন ছাড়া পাহাড়ি এলাকায় যাতায়াত না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

---------------

হিন্দুস্থান সমাচার / সৌমি বৈদ্য




 

 rajesh pande