আগরতলায় রেশনের ডালেই পচনের ছাপ, নড়েচড়ে বসল খাদ্য দফতর
আগরতলা, ৭ আগস্ট (হি.স.) : রাজধানী আগরতলায় জয়নগরে একটি সরকারি ন্যায্যমূল্যের দোকানে খাদ্য দফতর থেকে সরবরাহ করা মসুর ডালের বস্তায় ছত্রাকযুক্ত ও দুর্গন্ধযুক্ত ডাল পাওয়া যাওয়ায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসতেই সামাজিক মাধ্যমে ব্যা
রেশনে পচা ডাল


আগরতলা, ৭ আগস্ট (হি.স.) : রাজধানী আগরতলায় জয়নগরে একটি সরকারি ন্যায্যমূল্যের দোকানে খাদ্য দফতর থেকে সরবরাহ করা মসুর ডালের বস্তায় ছত্রাকযুক্ত ও দুর্গন্ধযুক্ত ডাল পাওয়া যাওয়ায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসতেই সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়। পরে খাদ্যমন্ত্রী সুশান্ত চৌধুরী দ্রুত হস্তক্ষেপ করে সংশ্লিষ্ট ডাল অবিলম্বে বদলে দেওয়ার নির্দেশ দেন।

ঘটনাটি জয়নগরের ৬ নম্বর ন্যায্যমূল্যের দোকানে। দোকানের ডিলার দিলীপ কুমার বণিক জানান, বৃহস্পতিবার দুপুরে খাদ্য দফতরের সংশ্লিষ্ট গোডাউন থেকে সামগ্রী তাঁর দোকানে পৌঁছায়। ডালের বস্তা নামানোর সময় থেকেই তীব্র দুর্গন্ধ বের হতে থাকে। সন্দেহ হওয়ায় উপস্থিত কয়েকজনের সামনে বস্তা খুলে দেখা যায়, ডালের বড় অংশে ছত্রাক পড়েছে এবং তা সম্পূর্ণ ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে গেছে।

এই দৃশ্য দেখে হতবাক হয়ে যান দোকান মালিক। তিনি সঙ্গে সঙ্গে সাংবাদিকদের খবর দেন এবং ডালের নমুনা দেখান। খবর পেয়ে স্থানীয় কর্পোরেটরও ঘটনাস্থলে পৌঁছে বিষয়টি দেখেন। তিনি বিষয়টি অত্যন্ত উদ্বেগজনক বলে মন্তব্য করেন এবং দ্রুত মহকুমা প্রশাসনের নজরে আনার আশ্বাস দেন।

ডিলার দিলীপ কুমার বণিক বলেন, এই ডাল মানুষের তো নয়ই, পশুপাখিকেও খাওয়ানো যাবে না। এমন খাদ্যসামগ্রী সাধারণ মানুষের হাতে পৌঁছালে তা জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ঝুঁকির কারণ হতে পারত।

ঘটনার ছবি ও ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তেই তা ভাইরাল হয়ে যায়। বিষয়টি খাদ্যমন্ত্রী সুশান্ত চৌধুরীর নজরে আসার পর তিনি অবিলম্বে খাদ্য দফতরের অধিকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। খাদ্য দফতরের অধিকর্তা মন্ত্রীকে আশ্বস্ত করেন যে, সংশ্লিষ্ট ডালের বস্তাগুলি দ্রুত প্রত্যাহার করে নতুন ডাল সরবরাহ করা হবে।

পরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে খাদ্যমন্ত্রী সুশান্ত চৌধুরী বলেন, বর্ষাকালে আর্দ্রতার কারণে কখনও কখনও এ ধরনের সমস্যা দেখা দিতে পারে। তবে সাধারণ মানুষের কাছে কোনওভাবেই নিম্নমানের বা নষ্ট খাদ্যসামগ্রী পৌঁছাতে দেওয়া হবে না। তিনি জানান, সংশ্লিষ্ট ডালগুলি অবিলম্বে বদলে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি রাজ্যের অন্য কোনও দোকানেও যদি একই ধরনের সমস্যা দেখা যায়, তাহলে সংশ্লিষ্ট ডিলারদের দ্রুত খাদ্য দফতরের অধিকর্তাকে জানাতে অনুরোধ করেন তিনি।

মন্ত্রী আরও জানান, খাদ্যসামগ্রী দীর্ঘ সময় গোডাউনে সংরক্ষিত থাকে। বর্ষাকালে অতিরিক্ত আর্দ্রতার কারণে কিছু ক্ষেত্রে এমন পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। তবে খাদ্য দফতর নিয়মিতভাবে সামগ্রীর গুণগত মান ও ওজন পরীক্ষা করে এবং এ ধরনের অভিযোগের ক্ষেত্রে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

খাদ্য দফতরের দ্রুত পদক্ষেপে সংশ্লিষ্ট ডিলারসহ সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে। পাশাপাশি দ্রুত সমস্যার সমাধানে উদ্যোগ নেওয়ায় বিভিন্ন মহল খাদ্যমন্ত্রী ও খাদ্য দফতরের তৎপরতার প্রশংসা করেছে।

হিন্দুস্থান সমাচার / গোবিন্দ দেবনাথ




 

 rajesh pande