সরকারি উদ্যোগে ত্রিপুরায় প্রথমবার পালিত চাকমা ভাষা ও লিপি দিবস
আগরতলা, ৭ আগস্ট (হি.স.) : নিজস্ব ভাষা, লিপি ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণ এবং আগামী প্রজন্মের কাছে তা আরও সুসংহতভাবে পৌঁছে দেওয়ার অঙ্গীকারকে সামনে রেখে শুক্রবার প্রথমবারের মতো সরকারি উদ্যোগে ত্রিপুরায় পালিত হল ''চাকমা ভাষা ও লিপি দিবস'। দিবসটি উপলক
আগরতলায় রেলি


আগরতলা, ৭ আগস্ট (হি.স.) : নিজস্ব ভাষা, লিপি ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণ এবং আগামী প্রজন্মের কাছে তা আরও সুসংহতভাবে পৌঁছে দেওয়ার অঙ্গীকারকে সামনে রেখে শুক্রবার প্রথমবারের মতো সরকারি উদ্যোগে ত্রিপুরায় পালিত হল 'চাকমা ভাষা ও লিপি দিবস'। দিবসটি উপলক্ষ্যে রাজধানী আগরতলায় বর্ণাঢ্য র্যালি ও আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। এতে চাকমা সম্প্রদায়ের বিপুল সংখ্যক মানুষ অংশ নেন। উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের শিল্প ও বাণিজ্যমন্ত্রী সান্ত্বনা চাকমা, বিধায়ক শম্ভু লাল চাকমা, খাদ্যমন্ত্রী সুশান্ত চৌধুরী-সহ অন্যান্যরা।

এদিন স্বামী বিবেকানন্দ ময়দান এলাকা থেকে র্যালির সূচনা হয়। ঐতিহ্যবাহী পোশাক ও সাংস্কৃতিক আবহে সজ্জিত অংশগ্রহণকারীরা শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পথ পরিক্রমা করে রবীন্দ্র শতবার্ষিকী ভবনে ফিরে আসেন। র্যালিতে ভাষা ও লিপি সংরক্ষণের পক্ষে নানা বার্তাসম্বলিত প্ল্যাকার্ড ও ব্যানার বহন করতে দেখা যায় অংশগ্রহণকারীদের। ত্রিপুরার পাশাপাশি অন্যান্য রাজ্য থেকেও চাকমা সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরা এই অনুষ্ঠানে যোগ দেন।

র্যালি শেষে রবীন্দ্র শতবার্ষিকী ভবনে আয়োজিত আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে শিল্প ও বাণিজ্যমন্ত্রী সান্ত্বনা চাকমা বলেন, একটি জাতিগোষ্ঠীর পরিচয়, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে টিকিয়ে রাখার অন্যতম প্রধান ভিত্তি হল তার মাতৃভাষা ও নিজস্ব লিপি। তাই চাকমা ভাষা ও লিপির বিকাশ, সংরক্ষণ এবং প্রসারের লক্ষ্যে রাজ্য সরকার ধারাবাহিকভাবে কাজ করে চলেছে। তিনি বলেন, অন্যান্য ভাষাভাষী জনগোষ্ঠীর মতো চাকমা সম্প্রদায়ও যাতে নিজেদের ভাষা ও লিপিকে আরও সমৃদ্ধ করে আগামী দিনে এগিয়ে যেতে পারে, সেই লক্ষ্যেই এই দিবস উদযাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

মন্ত্রী আরও বলেন, কোনও জাতি বা জনগোষ্ঠীকে উন্নতির পথে এগিয়ে যেতে হলে তার ভাষা, সাহিত্য ও লিপিকে শক্তিশালী করা অত্যন্ত জরুরি। মাতৃভাষার প্রতি ভালোবাসা ও শ্রদ্ধাবোধ থেকেই একটি জাতির আত্মপরিচয় গড়ে ওঠে। তাই চাকমা ভাষা ও লিপির সার্বিক বিকাশে সমাজের প্রতিটি স্তরের মানুষের সক্রিয় অংশগ্রহণ ও সহযোগিতার আহ্বান জানান তিনি।

আলোচনা সভায় খাদ্যমন্ত্রী সুশান্ত চৌধুরীও বক্তব্য রাখেন। তিনি ভাষাগত ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যকে ভারতের অন্যতম শক্তি উল্লেখ করে প্রত্যেক জনগোষ্ঠীর ভাষা ও সংস্কৃতি সংরক্ষণে সরকারের অঙ্গীকারের কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, রাজ্যের সব ভাষাভাষী মানুষের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির বিকাশে সরকার সমান গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে।

বিধায়ক শম্ভু লাল চাকমা-সহ অন্যান্য বক্তারাও চাকমা ভাষা ও লিপির সংরক্ষণ, গবেষণা এবং নতুন প্রজন্মের মধ্যে এর চর্চা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তাঁরা শিক্ষাক্ষেত্রে মাতৃভাষার ব্যবহার বৃদ্ধির পাশাপাশি ভাষার সাহিত্য ও সংস্কৃতির প্রসারে সম্মিলিত উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানান।

উল্লেখ্য, রাজ্য সরকারের ককবরক ও অন্যান্য পশ্চাৎপদ ভাষা দফতরের উদ্যোগে এ বছরের প্রথমবারের মতো সরকারি পর্যায়ে 'চাকমা ভাষা ও লিপি দিবস' উদযাপিত হল। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি এবং চাকমা সম্প্রদায়ের বিপুল সংখ্যক মানুষ অংশগ্রহণ করেন।

হিন্দুস্থান সমাচার / গোবিন্দ দেবনাথ




 

 rajesh pande