১৫ আগস্টের আগে প্রতিটি বাড়িতে পৌঁছতে উদ্যোগী শ্রীরামপুর থানার পুলিশ
হুগলি , ৭আগস্ট (হি.স.): স্বাধীনতা দিবসের আগে পুলিশ ও সাধারণ মানুষের মধ্যে পারস্পরিক আস্থা ও সহযোগিতার সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করতে অভিনব উদ্যোগ নিয়েছে শ্রীরামপুর থানার পুলিশ। ‘কমিউনিটি পুলিশিং ও পুলিশ-পাবলিক সংযোগ’ কর্মসূচির আওতায় থানা এলাকার প্রতিটি
শ্রীরামপুর থানার বৈঠক


হুগলি , ৭আগস্ট (হি.স.): স্বাধীনতা দিবসের আগে পুলিশ ও সাধারণ মানুষের মধ্যে পারস্পরিক আস্থা ও সহযোগিতার সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করতে অভিনব উদ্যোগ নিয়েছে শ্রীরামপুর থানার পুলিশ। ‘কমিউনিটি পুলিশিং ও পুলিশ-পাবলিক সংযোগ’ কর্মসূচির আওতায় থানা এলাকার প্রতিটি পাড়া-মহল্লা ও যত বেশি সম্ভব পরিবারের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পুলিশের লক্ষ্য, ১৫ আগস্টের আগেই প্রতিটি বাড়িতে পৌঁছে মানুষের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ গড়ে তোলা এবং তাঁদের নিরাপত্তা ব্যবস্থার সক্রিয় অংশীদার করে তোলা।

এই কর্মসূচির অংশ হিসেবে শুক্রবার শ্রীরামপুর থানা এলাকার বিভিন্ন ওয়ার্ড, পাড়া ও মহল্লায় নিয়মিত ছোট ছোট বৈঠকের আয়োজন করছেন পুলিশ আধিকারিকরা। প্রাথমিক পর্যায়ে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে মহিলাদের নিয়ে আয়োজিত সচেতনতামূলক বৈঠকে। এই বৈঠকগুলির মাধ্যমে পুলিশ চাইছে, মানুষ যেন পুলিশকে শুধুমাত্র আইন প্রয়োগকারী সংস্থা হিসেবে নয়, বরং বিপদের সময় নির্ভরযোগ্য বন্ধু ও সহযোগী হিসেবে দেখেন।

বৈঠকগুলিতে মহিলাদের গার্হস্থ্য হিংসা, শ্লীলতাহানি, সাইবার অপরাধ, মাদক কারবার, জুয়া, সমাজবিরোধী কার্যকলাপ এবং এলাকার যে কোনও সন্দেহজনক ঘটনা সম্পর্কে নির্ভয়ে পুলিশকে জানাতে উৎসাহিত করা হচ্ছে। পুলিশ জানিয়েছে, তথ্যদাতার পরিচয় সম্পূর্ণ গোপন রাখা হবে এবং প্রতিটি অভিযোগের ভিত্তিতে দ্রুত ও নিরপেক্ষ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এই উদ্যোগের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হল, পুলিশ আধিকারিকরা নিজেদের মোবাইল নম্বর সাধারণ মানুষের হাতে তুলে দিচ্ছেন। যাতে যে কোনও প্রয়োজনে বা সন্দেহজনক ঘটনার খবর সরাসরি সংশ্লিষ্ট আধিকারিককে জানানো যায়। এর ফলে পুলিশ ও সাধারণ মানুষের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগের একটি কার্যকর ব্যবস্থা তৈরি হচ্ছে এবং অভিযোগ নিষ্পত্তির প্রক্রিয়াও আরও দ্রুত হবে বলে মনে করছে পুলিশ।

শ্রীরামপুর থানা সূত্রের খবর, এই কর্মসূচির মূল লক্ষ্য শুধু অপরাধ সংঘটিত হওয়ার পর ব্যবস্থা নেওয়া নয়, বরং সাধারণ মানুষকে সঙ্গে নিয়ে আগাম অপরাধ প্রতিরোধের পরিবেশ গড়ে তোলা। পুলিশের মতে, এলাকার বাসিন্দারা যদি নিরাপত্তা ব্যবস্থার সক্রিয় অংশীদার হন, তাহলে অপরাধ অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে। সেই কারণেই এই কর্মসূচিতে বিশেষভাবে মহিলা, যুব সমাজ এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের অংশগ্রহণের উপর জোর দেওয়া হচ্ছে।

পুলিশের পক্ষ থেকে সাধারণ মানুষের কাছে আবেদন জানানো হয়েছে, কোনও গুজবে কান না দিতে, সামাজিক মাধ্যমে যাচাই না করা তথ্য ছড়িয়ে না দিতে এবং যে কোনও অপরাধ, সমাজবিরোধী কার্যকলাপ, মাদক ব্যবসা, নারী নির্যাতন, চুরি, ছিনতাই বা সন্দেহজনক ঘটনার খবর দ্রুত পুলিশকে জানাতে। পুলিশ আশ্বাস দিয়েছে, প্রতিটি তথ্য গুরুত্ব সহকারে খতিয়ে দেখে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

স্বাধীনতা দিবসকে সামনে রেখে শুরু হওয়া এই বিশেষ উদ্যোগের মাধ্যমে শুধু আইন-শৃঙ্খলা আরও মজবুত করাই নয়, মানুষের মনে নিরাপত্তা ও আস্থার পরিবেশ গড়ে তোলাও পুলিশের অন্যতম লক্ষ্য। শ্রীরামপুর থানার আশা, পুলিশ ও সাধারণ মানুষের মধ্যে যত বেশি পারস্পরিক বিশ্বাস ও সহযোগিতা গড়ে উঠবে, ততই এলাকা আরও নিরাপদ, শান্তিপূর্ণ এবং অপরাধমুক্ত হয়ে উঠবে। সেই লক্ষ্যেই ১৫ আগস্টের আগে প্রতিটি বাড়িতে পৌঁছে নিরাপত্তা, আস্থা ও সহযোগিতার বার্তা পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা নিয়েছে শ্রীরামপুর থানার পুলিশ।

হিন্দুস্থান সমাচার / SANTOSH SANTRA




 

 rajesh pande