
দুর্গাপুর, ৯ আগস্ট (হি. স.): কয়লা মাফিয়ার ডেরায় অস্ত্রভাণ্ডারের হদিশ। রাতভর এসটিএফের অভিযানে উদ্ধার হল প্রচুর আগ্নেয়াস্ত্র-গুলি। রবিবার ঘটনার খবর প্রকাশ হতেই চাঞ্চল্য ছড়াল অন্ডালের খনি অঞ্চলে।
এসটিএফ সূত্রে জানা গেছে, গত জুলাই মাসে জামুড়িয়ার কেন্দা বেলবাঁধ বাসস্ট্যান্ড থেকে প্রথম খইরুল নামে এক যুবককে গ্রেফতার করা হয়। পাণ্ডবেশ্বরের ডালুর বাঁধ এলাকার বাসিন্দা খইরুল। তাঁকে জেরা করে এসটিএফ আধিকারিকেরা বুঝতে পারেন, বড় আন্তঃরাজ্য অস্ত্রপাচার চক্রের সঙ্গে যোগ রয়েছে খইরুলের।
সেই জেরার সূত্র ধরেই রাঁচি থেকে গ্রেফতার করা হয় সামশের নামে আরও এক অস্ত্র কারবারিকে। তাঁদের জেরার করেই অন্ডালে পরিত্যাক্ত কোলিয়ারী আবাসনে অস্ত্রভাণ্ডারের হদিশ পায়। শনিবার রাত্রে সূত্র মিলতেই খইরুল-সামশেরকে নিয়ে অন্ডালের পরাশকোলে পদ্মাবতী মন্দিরের কাছে কোলিয়ারি (ইসিএল)-র এক পরিত্যক্ত আবাসনে অভিযান চালায় এসটিএফের বিশেষ দল। সেখানে উদ্ধার হয় ১৫টি আগ্নেয়াস্ত্র, ৫৬ রাউন্ড গুলি। উদ্ধার অস্ত্রের মধ্যে ৩টি পাইপগান, ১১টি পিস্তল, একটি রিভলভার।
প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর থেকে এযাবৎ একাধিক জায়গায় অভিযান চালিয়েছে পুলিশ এবং রাজ্য পুলিশের স্পেশ্যাল টাস্ক ফোর্স। উদ্ধার হয়েছে প্রচুর আগ্নেয়াস্ত্র। কোথাও তৃণমূল নেতার বাড়ির কাছে পুকুরের নীচে থেকে উদ্ধার হয়েছে অস্ত্র। কোথাও মাটির তলায় লুকানো ছিল বস্তা ভর্তি টাকা। রাজ্যের নতুন বিজেপি সরকারের আমলে একাধিক জায়গা থেকে উদ্ধার হয়েছে প্রচুর আগ্নেয়াস্ত্র।
এসটিএফ আধিকারিকদের ধারণা, এই চক্রের শিকড় ছড়িয়ে রয়েছে বিহার এবং ঝাড়খণ্ডে। রাজ্যে বিভিন্ন জায়গায় বেআইনি আগ্নেয়াস্ত্র পাচারের সঙ্গে জড়িত চক্রে ধৃত দু’জন ছাড়াও অনেকে যুক্ত রয়েছেন। এখন চক্রের সঙ্গে জড়িত অন্যদের হদিস পেতে চাইছেন তদন্তকারীরা।
---------------
হিন্দুস্থান সমাচার / জয়দেব লাহা