
বাঁকুড়া, ৯ আগস্ট (হি.স.): দলমার দাঁতাল হাতির দল আপাতত ফিরে গেলেও স্বস্তি ফিরছে না উত্তর বাঁকুড়ার বড়জোড়া ও বেলিয়াতোড় রেঞ্জ এলাকার জঙ্গল লাগোয়া গ্রামগুলিতে। এবার শুরু হয়েছে আবাসিক হাতির উপদ্রব। শনিবার গভীর রাতে বেলিয়াতোড় রেঞ্জের জঙ্গল লাগোয়া নিরিশা গ্রামে তাণ্ডব চালায় একটি বিশাল দাঁতাল। গ্রামের গরিব চাষি সমীরণ মণ্ডলের মাটির বাড়ির একাংশ ভেঙে দেয় হাতিটি।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, গভীর রাতে গ্রামে ঢুকে সমীরণ মণ্ডলের বাড়ির দেওয়ালে হামলা চালায় দাঁতালটি। বাড়ির ভিতরে মজুত করে রাখা বস্তার চাল শুঁড় দিয়ে টেনে বের করে। কিছুটা চাল খাওয়ার পর বাকি চাল জল-কাদা মাখা উঠোনে ছড়িয়ে দেয় হাতিটি। ঘটনায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এলাকায়।
সমীরণ মণ্ডল বলেন, “ভাগ্য ভালো যে হাতিটি দেওয়ালে ধাক্কা দেয়নি। শুঁড় দিয়ে একবার জোরে ঠেলা দিলে সপরিবারে দেওয়ালের নীচে চাপা পড়ে মারা যেতে পারতাম। এখন আবার রান্না করে খাওয়ার মতো জায়গাটুকুও নেই। বাড়ির অ্যাসবেস্টসের ছাউনির যে অংশটি ভেঙে দিয়েছে, সেখানেই রান্না হত। এখন আমরা কোথায় যাব?”
হাতির সমস্যা নিয়ে বন দফতরের ভূমিকা নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি। তাঁর অভিযোগ, “বন দফতর হাতি সমস্যার সমাধান করতে চায় না। আমাদের মতো গরিব মানুষরা প্রাণ হাতে নিয়ে বাড়ির বাইরে বের হই, আবার প্রাণ হাতে নিয়েই ঘুমোতে যাই।”
এদিকে বাঁকুড়ায় গত কয়েকদিন ধরে টানা বৃষ্টি চলছে। এই পরিস্থিতিতে ক্ষতিগ্রস্ত সমীরণ মণ্ডলের দ্রুত থাকার ব্যবস্থা করার দাবি জানিয়েছে হাতি সমস্যা নিয়ে গড়ে ওঠা সংগঠন সংগ্রামী গণমঞ্চ। সংগঠনের জেলা সম্পাদক শুভ্রাংশু মুখার্জি বলেন, “অবিলম্বে সমীরণ মণ্ডলের থাকার সুব্যবস্থা করা প্রয়োজন।”
তিনি জানান, আগের সরকারের কাছে হাতির হামলায় ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ-সহ একাধিক দাবি জানানো হয়েছিল। তার মধ্যে কিছু দাবি মেনে নেওয়া হলেও অধিকাংশ দাবিকেই গুরুত্ব দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ। সরকার পরিবর্তনের পর বনমন্ত্রীর সঙ্গেও সংগঠনের পক্ষ থেকে বিভিন্ন দাবি নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে।
শুভ্রাংশু মুখার্জি বলেন, “আমাদের দাবিগুলির মধ্যে অন্যতম হল, হাতির হামলায় কোনও বাড়ি ভেঙে গেলে শুধু আর্থিক ক্ষতিপূরণ দিলে হবে না। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের জন্য পুনরায় বাড়ি তৈরি করে দিতে হবে। সমীরণ মণ্ডলের ক্ষতিগ্রস্ত বাড়িটিও দ্রুত সংস্কারের জন্য সংশ্লিষ্ট দফতরকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।”
ঘটনাকে কেন্দ্র করে নিরিশা গ্রামে আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। জঙ্গল লাগোয়া এলাকায় হাতির গতিবিধি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগে বাসিন্দারা।
হিন্দুস্থান সমাচার / সোমনাথ বরাট