বহিঃরাজ্যের বড় হাসপাতালগুলির সঙ্গে যোগাযোগ রাখার পরামর্শ মুখ্যমন্ত্রী ডাঃ সাহার
আগরতলায় সুপ্রা মাল্টি স্পেশালিটি হাসপাতালের উদ্বোধন, শুরুতেই রক্তদান শিবির
রক্তদান শিবিরে মুখ্যমন্ত্রী


আগরতলা, ৯ আগস্ট (হি.স.) : ত্রিপুরার বেসরকারি হাসপাতালগুলিকে বহিঃরাজ্যের বড় বড় চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান ও হাসপাতালের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ ও সম্পর্ক বজায় রাখার পরামর্শ দিলেন মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডাঃ) মানিক সাহা। চিকিৎসাবিজ্ঞানের দ্রুত অগ্রগতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে রাজ্যের মানুষকে উন্নত চিকিৎসা পরিষেবা পৌঁছে দেওয়ার স্বার্থেই এই ধরনের সমন্বয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মন্তব্য করেন তিনি।

রবিবার রাজধানী আগরতলায় মটরস্ট্যান্ড এলাকায় সুপ্রা মাল্টি স্পেশালিটি হাসপাতালের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডাঃ) মানিক সাহা। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের উদ্যোগে আয়োজিত রক্তদান শিবিরেরও উদ্বোধন করেন তিনি।

নতুন এই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ মনিপাল-এর সঙ্গে যুক্ত হয়ে আগরতলায় উন্নত চিকিৎসা পরিষেবা প্রদানের উদ্যোগ নিয়েছে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, রাজ্যে গত কয়েক বছরে চিকিৎসা পরিষেবার পরিকাঠামো উল্লেখযোগ্যভাবে সম্প্রসারিত হয়েছে। রাজ্যের মানুষের কাছে উন্নত স্বাস্থ্য পরিষেবা আরও সহজে পৌঁছে দেওয়াই সরকারের অন্যতম লক্ষ্য।

মুখ্যমন্ত্রী জানান, তিনি মুখ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব নেওয়ার পর আগরতলায় জিবিপি হাসপাতালের শয্যা সংখ্যা ৭২৭ থেকে বাড়িয়ে ১,৪১৩ করা হয়েছে। শুধু আগরতলায় নয়, গোমতী জেলা হাসপাতালেও শয্যা সংখ্যা দ্বিগুণ করা হয়েছে। সরকারি হাসপাতালের পাশাপাশি বেসরকারি ক্ষেত্রেও নতুন নতুন চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠায় রাজ্যের স্বাস্থ্য পরিষেবা আরও শক্তিশালী হচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

সুপ্রা মাল্টি স্পেশালিটি হাসপাতালের প্রসঙ্গ তুলে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, মনিপালের মতো একটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত হয়ে আগরতলায় চিকিৎসা পরিষেবা শুরু করা নিঃসন্দেহে গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ। বর্তমান সময়ে চিকিৎসাবিজ্ঞান অত্যন্ত দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলেছে। ফলে শুধু একটি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের বড় হাসপাতাল ও চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে আধুনিক চিকিৎসা পরিষেবা সম্পর্কে নিজেদের সমৃদ্ধ করা প্রয়োজন।

তিনি বলেন, সাধারণ মানুষের স্বার্থে বিভিন্ন হাসপাতাল ও চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা ও সমন্বয় থাকা জরুরি। এর ফলে জটিল রোগের চিকিৎসা, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের পরামর্শ এবং আধুনিক চিকিৎসা পদ্ধতির সুবিধা রাজ্যের মানুষের কাছে আরও সহজে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে।

মুখ্যমন্ত্রী হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের উদ্দেশ্যে বলেন, চিকিৎসা ক্ষেত্রে প্রতিনিয়ত নতুন নতুন প্রযুক্তি ও চিকিৎসা পদ্ধতি যুক্ত হচ্ছে। তাই বহিঃরাজ্যের বড় বড় হাসপাতাল ও চিকিৎসা কেন্দ্রগুলির সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা করে পরিষেবার মান আরও উন্নত করার দিকে গুরুত্ব দিতে হবে। জনগণের চিকিৎসা পরিষেবার স্বার্থেই এই ধরনের উদ্যোগ প্রয়োজন বলে তিনি মত প্রকাশ করেন।

এদিন মুখ্যমন্ত্রী আরও জানান, জিবিপি হাসপাতালের কাছেই ১০০ শয্যাবিশিষ্ট একটি চক্ষু হাসপাতাল নির্মাণ করা হচ্ছে। এই হাসপাতালটিকেও আগরতলা সরকারি মেডিক্যাল কলেজ (এজিএমসি)-এর সঙ্গে যুক্ত করা হবে। এর ফলে রাজ্যে চক্ষু চিকিৎসার ক্ষেত্রেও পরিকাঠামো আরও উন্নত হবে এবং সাধারণ মানুষ উপকৃত হবেন বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

এদিকে, হাসপাতালের পথচলার সূচনালগ্নেই সামাজিক দায়বদ্ধতার বার্তা দিতে রক্তদান শিবিরের আয়োজন করে সুপ্রা মাল্টি স্পেশালিটি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। মুখ্যমন্ত্রী এই রক্তদান শিবিরের উদ্বোধন করেন। নতুন হাসপাতালের উদ্বোধন এবং রক্তদান শিবিরকে কেন্দ্র করে এদিন হাসপাতাল প্রাঙ্গণে চিকিৎসক, স্বাস্থ্যকর্মী ও বিশিষ্ট ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়।

রাজ্যের স্বাস্থ্য পরিষেবার পরিধি ক্রমশ বাড়ার পাশাপাশি সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালগুলির মধ্যে সমন্বয় এবং দেশের উন্নত চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানগুলির সঙ্গে সংযোগ আগামী দিনে ত্রিপুরার স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করবে—এমনটাই আশা সংশ্লিষ্ট মহলের।

হিন্দুস্থান সমাচার / গোবিন্দ দেবনাথ




 

 rajesh pande