মাহুরে ভূমিধসে চারটি বাড়ি ও বিদ্যালয় ক্ষতিগ্রস্ত,এনএইচ ২৭ নির্মাণকেই দুষছেন স্থানীয়রা
হাফলং (অসম), ৯ আগস্ট (হি. স.) : ডিমা হাসাও জেলার মাহুর থানার অন্তর্গত মাহুর এলাকায় গত কয়েকদিন ধরে লাগাতার ভারী বৃষ্টির জেরে একের পর এক ভূমিধসের ঘটনায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ভূমিধসের কবলে পড়ে অন্তত চারটি বসতবাড়ি এবং সোরন প্রেসবিটেরিয়ান হাইস
Landslide at Mahur


Landslide at saron village


হাফলং (অসম), ৯ আগস্ট (হি. স.) : ডিমা হাসাও জেলার মাহুর থানার অন্তর্গত মাহুর এলাকায় গত কয়েকদিন ধরে লাগাতার ভারী বৃষ্টির জেরে একের পর এক ভূমিধসের ঘটনায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ভূমিধসের কবলে পড়ে অন্তত চারটি বসতবাড়ি এবং সোরন প্রেসবিটেরিয়ান হাইস্কুল সম্পূর্ণরূপে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানা গেছে। পাহাড়ি এলাকায় মাটি নরম হয়ে যাওয়ায় পরিস্থিতি এখনও উদ্বেগজনক বলে স্থানীয় সূত্রে খবর।

ভূমিধসের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত বাড়িগুলিতে বসবাসকারী পরিবারগুলির মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। নতুন করে ভূমিধসের আশঙ্কায় অনেকেই নিজেদের ঘরের আসবাবপত্র, নথিপত্র, পোশাক-পরিচ্ছদ এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে শুরু করেছেন। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির আশঙ্কা, বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে এবং আশপাশের আরও বাড়িঘরও ভূমিধসের কবলে পড়তে পারে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, এই বিপর্যয়ের জন্য শুধু প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা অতিবৃষ্টিকেই দায়ী করা যায় না। তাঁদের দাবি, পূর্বের ৫৪ নম্বর জাতীয় সড়ক বর্তমানে ২৭ নম্বর জাতীয় সড়ক হিসেবে উন্নীত করার কাজ এবং ওই এলাকায় চলা সড়ক নির্মাণ ও পাহাড় কাটার কাজের ফলেও ভূমিধসের প্রবণতা বেড়েছে। তাঁদের অভিযোগ, রাস্তা নির্মাণের সময় পাহাড়ের ঢাল কাটা এবং মাটি সরানোর ফলে এলাকার প্রাকৃতিক ভারসাম্য নষ্ট হয়েছে। ফলে ভারী বৃষ্টির সময় মাটি ধসে পড়ার প্রবণতা আরও বেড়ে গিয়েছে। স্থানীয়দের বক্তব্য, দীর্ঘদিন ধরেই পাহাড়ি ঢাল এবং সড়কের পাশের জমির স্থায়িত্ব নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। বর্ষার সময় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। এবার লাগাতার বৃষ্টির সঙ্গে ভূমিধসের ঘটনা ঘটায় সেই আশঙ্কাই বাস্তবে পরিণত হয়েছে বলে তাঁদের দাবি। ভূমিধসে সোরন প্রেসবিটেরিয়ান হাইস্কুলেরও ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় স্থানীয় ছাত্রছাত্রীদের পড়াশোনা নিয়েও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। বিদ্যালয় ভবনটি পুনরায় ব্যবহারযোগ্য অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি উঠেছে। ক্ষতিগ্রস্ত গ্রামবাসীরা জেলাশাসন ও প্রশাসনের কাছে অবিলম্বে পরিস্থিতি পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন জানিয়েছেন। তাঁদের দাবি, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলিকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি অস্থায়ী আশ্রয়, খাদ্য, প্রয়োজনীয় সামগ্রী এবং অন্যান্য জরুরি সহায়তার ব্যবস্থা করতে হবে। একই সঙ্গে ভূমিধসপ্রবণ এলাকাগুলিতে বিশেষ নজরদারি চালিয়ে নতুন করে যাতে প্রাণহানি বা সম্পত্তির ক্ষতি না হয়, তা নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা ভারতীয় জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষের (এনএইচএআই) কাছেও দ্রুত হস্তক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন। তাঁদের বক্তব্য, সড়ক নির্মাণ বা সম্প্রসারণের সঙ্গে যদি ভূমিধসের কোনও সম্পর্ক থেকে থাকে, তবে তা অবিলম্বে খতিয়ে দেখা দরকার। পাশাপাশি যেসব পরিবার তাঁদের বাড়িঘর ও সম্পত্তি হারিয়েছেন বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তাঁদের উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ দেওয়ারও দাবি জানানো হয়েছে।

গ্রামবাসীদের অভিযোগ, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির জন্য দ্রুত ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা না করা হলে তাঁরা ভবিষ্যতে বৃহত্তর আন্দোলনে নামতে বাধ্য হবেন। তাঁদের বক্তব্য, উন্নয়নের নামে সড়ক নির্মাণ হলেও তার ফলে সাধারণ মানুষের জীবন ও সম্পত্তি যদি বিপন্ন হয়, তাহলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব নিয়ে বিষয়টি সমাধান করা উচিত। এদিকে স্থানীয়দের মধ্যে নতুন করে ভূমিধসের আশঙ্কা থাকায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে দ্রুত ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলি চিহ্নিত করে নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি আরও জোরালো হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির নিরাপত্তা, বিদ্যালয়ের ভবিষ্যৎ এবং এনএইচ ২৭-এর নির্মাণকাজের প্রভাব—এই তিনটি বিষয়কে গুরুত্ব দিয়ে অবিলম্বে প্রশাসনিক ও প্রযুক্তিগত সমীক্ষা চালানোর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। স্থানীয়দের একাংশের মতে, শুধু ত্রাণ বা ক্ষতিপূরণ দিলেই সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে না। পাহাড়ের ঢাল সুরক্ষা, জল নিষ্কাশনের যথাযথ ব্যবস্থা, রাস্তার পাশের মাটি সংরক্ষণ এবং ভূমিধসপ্রবণ এলাকায় বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে নির্মাণকাজ পরিচালনা করা জরুরি। বর্ষাকালে পরিস্থিতি আরও অবনতি হওয়ার আগেই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে বলেই দাবি তাঁদের।

হিন্দুস্থান সমাচার / বিশাখা দেব




 

 rajesh pande