
কৈলাসহর (ত্রিপুরা), ৯ আগস্ট (হি.স.) : ঊনকোটি জেলার কৈলাসহরের ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে ফের পাচারকারীদের তৎপরতার অভিযোগ ঘিরে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। গভীর রাতে সীমান্ত অতিক্রমের চেষ্টার অভিযোগে বিএসএফ-এর গুলিতে বাংলাদেশি যুবকের মৃত্যু হয়েছে। মৃত যুবকের নাম তারা মিয়া (২৪)। তিনি বাংলাদেশের মৌলভীবাজার জেলার কুলাউড়া উপজেলার পৃথিমপাশা এলাকার দশটেকি গ্রামের বাসিন্দা বলে জানা গেছে। তাঁর পিতার নাম আব্দুল মালিক।
ঘটনাটি ঘটেছে শনিবার গভীর রাতে গৌরনগর আরডি ব্লকের অন্তর্গত মাগুরউলি গ্রামপঞ্চায়েত এলাকার ৪৪ নম্বর সীমান্ত অঞ্চলে। স্থানীয় ও বিএসএফ সূত্রে জানা গেছে, রাত আনুমানিক ১২টা নাগাদ সীমান্তের ১৮৪৫/৬৩-এস পিলারের কাছাকাছি ফেন্সিং লাইট এলাকায় কয়েকজন যুবকের গতিবিধি নজরে আসে। বিএসএফ-এর দাবি, সেখানে প্রায় ৫ - ৬ জন বাংলাদেশি যুবক উপস্থিত ছিল এবং তাঁদের কাছে বিভিন্ন ধরনের পাচারসামগ্রী ছিল।
সূত্রের খবর, সীমান্তে কর্তব্যরত বিএসএফ জওয়ানরা ওই যুবকদের গতিবিধি লক্ষ্য করে তাঁদের সতর্ক করেন এবং সীমান্ত এলাকা থেকে সরে যেতে বলেন। অভিযোগ, সতর্কবার্তা উপেক্ষা করে তাঁরা সরে না গিয়ে আরও এগিয়ে আসার চেষ্টা করেন। এরপর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বিএসএফ গুলি চালায়। গুলিতে তারা মিয়া গুরুতর আহত হন এবং ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয় বলে জানা গেছে।
গুলিচালনার ঘটনার পর সীমান্ত এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। নিরাপত্তার স্বার্থে ওই এলাকায় বিএসএফ-এর নজরদারি আরও জোরদার করা হয়। খবর পেয়ে ইরানি থানার পুলিশও ঘটনাস্থলে পৌঁছে। পুলিশ প্রয়োজনীয় আইনানুগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পর মৃতদেহ উদ্ধার করে ঊনকোটি জেলা হাসপাতালে পাঠায়। বর্তমানে মৃতদেহটি হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।
ঊনকোটি জেলা হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক ইমরান আহমেদ জানান, রবিবার সকাল আনুমানিক ১১টার দিকে বাংলাদেশের জনৈক মৃত ব্যক্তিকে হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। মৃতদেহটি বর্তমানে মর্গে সংরক্ষিত রয়েছে এবং প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হচ্ছে।
এদিকে, কৈলাসহর সীমান্তের দুর্গম ও তুলনামূলক অন্ধকারাচ্ছন্ন এলাকাগুলিকে কাজে লাগিয়ে রাতের বেলায় পাচারের চেষ্টা চলে—এমন অভিযোগ নতুন নয়। স্থানীয় সূত্রের দাবি, সীমান্তের বিভিন্ন অংশে সুযোগ বুঝে বিভিন্ন ধরনের অবৈধ সামগ্রী পারাপারের চেষ্টা করে পাচারকারীরা। বিশেষ করে গভীর রাতে দলবদ্ধভাবে সীমান্তের দিকে যাতায়াত নিরাপত্তারক্ষীদের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সীমান্ত এলাকায় কাঁটাতারের বেড়া, ফেন্সিং লাইট এবং নজরদারি ব্যবস্থা থাকা সত্ত্বেও পাচারকারীরা বিভিন্ন কৌশলে সীমান্ত পারাপারের চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ রয়েছে। ফলে সীমান্তে বিএসএফ-এর নজরদারি ও টহলও আরও কঠোর করা হচ্ছে।
তারা মিয়ার মৃত্যুর ঘটনা শুধু সীমান্তে পাচাররোধ ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েই নয়, মানবিক দিক থেকেও একাধিক প্রশ্ন সামনে এনেছে। ওই যুবকদের কাছে ঠিক কী ধরনের সামগ্রী ছিল, তাঁরা কেন সীমান্ত অতিক্রমের চেষ্টা করছিলেন, বিএসএফ-এর গুলিচালনার পরিস্থিতি কীভাবে তৈরি হয়েছিল এবং ঘটনার সঙ্গে আর কারা জড়িত—এসব বিষয় তদন্তের পরই স্পষ্ট হবে।
ঘটনার পর সীমান্তবর্তী এলাকায় উদ্বেগ আরও বেড়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের দাবি, সীমান্তে পাচারচক্রের বিরুদ্ধে আরও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার পাশাপাশি রাতের নজরদারি বাড়ানো প্রয়োজন। একই সঙ্গে সীমান্তবর্তী এলাকায় সন্দেহজনক গতিবিধির ওপর নজরদারি এবং পাচারচক্রের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি উঠেছে।
তবে বিএসএফ-এর গুলিচালনার পুরো পরিস্থিতি এবং সীমান্ত অতিক্রমের চেষ্টার বিষয়ে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত ঘটনার সমস্ত দিক স্পষ্ট নয়। তদন্তের পরই ঘটনার প্রকৃত কারণ ও এর সঙ্গে জড়িতদের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য সামনে আসবে বলে দাবি তথ্যাভিজ্ঞ মহলের।
হিন্দুস্থান সমাচার / গোবিন্দ দেবনাথ