যুব সমাজকে রক্তদানে আরও এগিয়ে আসার আহ্বান মুখ্যমন্ত্রী ডাঃ সাহার
“রক্তদানের চেয়ে বড় দান আর কিছু হতে পারে না”, ২০ নম্বর ওয়ার্ডের শিবিরে ৮০ জনের স্বেচ্ছায় রক্তদান
রক্তদান শিবিরে মুখ্যমন্ত্রী


আগরতলা, ৯ আগস্ট (হি.স.) : রক্তের কোনও বিকল্প নেই। মুমূর্ষু রোগীর জীবন বাঁচাতে স্বেচ্ছায় রক্তদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই রাজ্যের যুব সমাজকে আরও বেশি করে রক্তদানে এগিয়ে আসার আহ্বান জানালেন মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডাঃ) মানিক সাহা। তিনি বলেন, মানুষের জীবন বাঁচানোর জন্য রক্তদানের চেয়ে বড় দান আর কিছু হতে পারে না।

রবিবার আগরতলা পুর নিগমের ২০ নম্বর ওয়ার্ডের উদ্যোগে আয়োজিত স্বেচ্ছায় রক্তদান শিবিরের উদ্বোধন করে এই আহ্বান জানান মুখ্যমন্ত্রী। শিবিরকে কেন্দ্র করে স্থানীয় মানুষের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যায়। উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মহিলা স্বেচ্ছায় রক্তদান করায় সন্তোষ প্রকাশ করেন মুখ্যমন্ত্রী সহ উপস্থিত অতিথিরা।

রক্তদান শিবিরে উপস্থিত ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডাঃ) মানিক সাহা, আগরতলা পুর নিগমের মেয়র তথা বিধায়ক দীপক মজুমদার, ২০ নম্বর ওয়ার্ডের কর্পোরেটর রত্না দত্ত সহ অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিরা। শিবিরের উদ্বোধনের পর মুখ্যমন্ত্রী রক্তদাতাদের সঙ্গে পরিচিত হন এবং তাঁদের অভিনন্দন জানান। পাশাপাশি রক্তদাতাদের শারীরিক ও স্বাস্থ্যগত অবস্থার বিষয়েও খোঁজখবর নেন তিনি।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, নাগরিকদের প্রয়োজনীয় পরিষেবা প্রদানের পাশাপাশি সামাজিক দায়বদ্ধতার ক্ষেত্রেও আগরতলা পুর নিগমের বিভিন্ন ওয়ার্ড গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। ২০ নম্বর ওয়ার্ডের উদ্যোগে আয়োজিত এই স্বেচ্ছায় রক্তদান শিবিরও সেই সামাজিক দায়বদ্ধতারই একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এই ধরনের উদ্যোগ গ্রহণের জন্য তিনি ওয়ার্ডের কর্পোরেটর রত্না দত্তকে অভিনন্দন জানান।

মুখ্যমন্ত্রী বলেন, আগে মূলত বিভিন্ন ক্লাব ও সামাজিক সংগঠনের উদ্যোগে রক্তদান শিবিরের আয়োজন করা হতো। বর্তমানে আগরতলা পুর নিগমের বিভিন্ন ওয়ার্ডের মধ্যেও সামাজিক কর্মসূচি গ্রহণের ক্ষেত্রে এক ধরনের স্বাস্থ্যকর প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে। বিভিন্ন ওয়ার্ডের উদ্যোগে নিয়মিত রক্তদান শিবিরের আয়োজন হচ্ছে। এতে সাধারণ মানুষের পাশাপাশি মহিলারাও উল্লেখযোগ্য সংখ্যায় অংশগ্রহণ করছেন। এই প্রবণতা সমাজের জন্য অত্যন্ত ইতিবাচক বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

রক্তদানের গুরুত্ব তুলে ধরে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, রক্তদাতাদের কোনও ধর্ম, বর্ণ বা সামাজিক পরিচয় নেই। রক্তের গ্রুপই তাঁদের পরিচয়। একজন মানুষের দেওয়া রক্ত অন্য একজন মুমূর্ষু মানুষের জীবন বাঁচাতে পারে। তাই রক্তদান একটি মানবিক ও মহৎ সামাজিক কাজ। এই ধরনের অনুষ্ঠান অত্যন্ত আনন্দের এবং একইসঙ্গে সমাজের প্রতি মানুষের দায়বদ্ধতারও প্রকাশ বলে উল্লেখ করেন তিনি।

এদিনের অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বিরোধীদের ভূমিকা নিয়েও মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, আন্দোলন গণতান্ত্রিক অধিকার। আন্দোলন অবশ্যই করা যাবে। তবে আন্দোলনের মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা থাকা প্রয়োজন। আন্দোলনের নামে মানুষের মধ্যে ভুল ধারণা সৃষ্টি করা বা বিভ্রান্তি ছড়ানো উচিত নয়। সমস্যা সমাধানের জন্য গঠনমূলক ও স্বচ্ছ দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।

যুব সমাজের উদ্দেশে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে যুবকদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। বিশেষ করে রক্তের সংকট মোকাবিলায় যুব সমাজকে আরও বেশি করে এগিয়ে আসতে হবে। নিয়মিত স্বেচ্ছায় রক্তদানের মাধ্যমে বহু মানুষের জীবন রক্ষা করা সম্ভব। তাই যুব সমাজের কাছে তাঁর আবেদন, তাঁরা যেন রক্তদানের মতো মহৎ সামাজিক কাজে নিজেদের আরও বেশি করে যুক্ত করেন। তাঁর কথায়, “এর চেয়ে বড় কিছু দান আর হতে পারে না।”

এদিনের রক্তদান শিবিরে ৮০ জন স্বেচ্ছায় রক্তদান করেন। তাঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মহিলা রক্তদাতা ছিলেন। মহিলাদের এই সক্রিয় অংশগ্রহণে শিবিরে উপস্থিত অতিথিরা সন্তোষ প্রকাশ করেন। তাঁদের মতে, সমাজের সর্বস্তরের মানুষ স্বেচ্ছায় রক্তদানে এগিয়ে এলে রাজ্যে রক্তের সংকট অনেকটাই মোকাবিলা করা সম্ভব হবে।

২০ নম্বর ওয়ার্ডের এই উদ্যোগের মধ্য দিয়ে নাগরিক পরিষেবার পাশাপাশি সামাজিক ও মানবিক কর্মকাণ্ডেও ওয়ার্ডগুলির সক্রিয় অংশগ্রহণের বার্তা উঠে আসে। রক্তদাতাদের উৎসাহ ও স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে এদিনের শিবিরটি কার্যত একটি মানবিক মিলনমেলার রূপ নেয়।

হিন্দুস্থান সমাচার / গোবিন্দ দেবনাথ




 

 rajesh pande