
আগরতলা, ৯ আগস্ট (হি.স.) : আন্তর্জাতিক জনজাতি জন দিবসেই বহু চর্চিত 'তিপ্রাসা অ্যাকর্ড' বাস্তবায়ন নিয়ে ফের আশার আলো দেখা দিয়েছে। রবিবার দিল্লিতে ভারত সরকার, ত্রিপুরা সরকার এবং তিপ্রা মথার মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ ত্রিপাক্ষিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। এই বৈঠকে যোগ দিতে রবিবারই দিল্লির উদ্দেশে রওনা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডাঃ) মানিক সাহা। দিল্লি যাওয়ার আগে নিজেই সাংবাদিকদের এ বিষয়ে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
রবিবার আন্তর্জাতিক জনজাতি জন দিবস। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে জনজাতি জনগোষ্ঠীর অধিকার, সুরক্ষা ও স্বার্থ রক্ষার বার্তা সামনে রেখে দিনটি মর্যাদার সঙ্গে পালিত হচ্ছে। আর এই বিশেষ দিনেই ত্রিপুরার জনজাতিদের রাজনৈতিক ও সামাজিক অধিকার-সহ বিভিন্ন দাবির সঙ্গে যুক্ত 'তিপ্রাসা অ্যাকর্ড' বাস্তবায়ন নিয়ে দিল্লিতে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হতে চলেছে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই বৈঠকটিকে ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে।
জানা গেছে, দিল্লিতে অনুষ্ঠিতব্য বৈঠকে কেন্দ্রীয় সরকার, ত্রিপুরা সরকার এবং তিপ্রা মথার প্রতিনিধিদের মধ্যে চুক্তি বাস্তবায়নের অগ্রগতি ও পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা হতে পারে। বৈঠকে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের উপস্থিত থাকারও সম্ভাবনা রয়েছে। তবে বৈঠকের আনুষ্ঠানিক এজেন্ডা সম্পর্কে এখনও স্পষ্টভাবে কিছু জানানো হয়নি।
রবিবার আগরতলায় একটি অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডাঃ) মানিক সাহা দিল্লির বৈঠক প্রসঙ্গে বলেন, কাজের জন্যই তিনি একদিনের জন্য রাজ্যে এসেছিলেন। রবিবার আবার তাঁকে দিল্লি যেতে হচ্ছে। সেখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক রয়েছে বলেও জানান তিনি। বৈঠকের নির্দিষ্ট আলোচ্যসূচি সম্পর্কে তিনি নিশ্চিত নন বলে জানালেও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বৈঠকে উপস্থিত থাকতে পারেন বলে ধারণা প্রকাশ করেন মুখ্যমন্ত্রী।
মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের পক্ষ থেকে সবুজ সংকেত পাওয়ার পরই তিনি দিল্লির উদ্দেশে রওনা হচ্ছেন। ফলে 'তিপ্রাসা অ্যাকর্ড' বাস্তবায়নের বিষয়ে কেন্দ্রীয় স্তরে নতুন করে উদ্যোগ শুরু হয়েছে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
এদিকে, 'তিপ্রাসা অ্যাকর্ড' বাস্তবায়নের পাশাপাশি আসন্ন ত্রিপুরা ট্রাইবাল এরিয়াস অটোনমাস ডিস্ট্রিক্ট কাউন্সিল বা টিটিএএডিসি-র ভিলেজ কমিটির নির্বাচন নিয়েও বৈঠকে আলোচনা হতে পারে বলে রাজনৈতিক মহলে জোর জল্পনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে বিজেপি এবং তিপ্রা মথার মধ্যে সম্ভাব্য নির্বাচনী সমঝোতা নিয়েও দিল্লির বৈঠকে আলোচনা হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। তবে এই বিষয়ে এখনও কোনও পক্ষের তরফে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করা হয়নি।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৪ সেপ্টেম্বর দিল্লিতে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের উপস্থিতিতে ভারত সরকার, ত্রিপুরা সরকার এবং তিপ্রা মথার শীর্ষ নেতৃত্বের মধ্যে বহু প্রতীক্ষিত 'তিপ্রাসা অ্যাকর্ড' স্বাক্ষরিত হয়। চুক্তিটির মূল লক্ষ্য ছিল ত্রিপুরার জনজাতিদের রাজনৈতিক অধিকার, ভূমি ও জমি সংক্রান্ত সুরক্ষা, অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতা, স্বশাসন ব্যবস্থার সম্প্রসারণ এবং ভাষা ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য রক্ষার বিষয়গুলির একটি সম্মানজনক ও স্থায়ী সমাধানের পথ তৈরি করা।
চুক্তি স্বাক্ষরের পর থেকেই এর বাস্তবায়ন নিয়ে তিপ্রা মথা এবং জনজাতি মহলে নানা সময়ে প্রশ্ন ও দাবি উঠেছে। চুক্তির বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি দ্রুত বাস্তবায়নের দাবিতে একাধিকবার সরব হয়েছে সংশ্লিষ্ট মহল। এই পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক জনজাতি জন দিবসের দিন দিল্লিতে ত্রিপাক্ষিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়াকে তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
রবিবারের এই বৈঠকে 'তিপ্রাসা অ্যাকর্ড' বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট রোডম্যাপ তৈরি হয় কি না, জনজাতিদের দীর্ঘদিনের দাবিগুলির বিষয়ে কী সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় এবং টিটিএএডিসি-র ভিলেজ কমিটি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিজেপি ও তিপ্রা মথার মধ্যে কোনও সমঝোতার সূত্র বেরিয়ে আসে কি না—এখন সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে ত্রিপুরার রাজনৈতিক মহল।
হিন্দুস্থান সমাচার / গোবিন্দ দেবনাথ