
গণ্ডাছড়া (ত্রিপুরা), ৯ আগস্ট (হি.স.) : বাড়ির গেটের সামনে থেকে চুরি হয়ে যাওয়া বাইক মাত্র আট ঘণ্টার মধ্যে উদ্ধার করে মালিকের হাতে তুলে দিল ধলাই জেলার গণ্ডাছড়া থানার পুলিশ। পুলিশের তৎপরতার পাশাপাশি স্থানীয় মানুষের সহযোগিতায় পরিত্যক্ত অবস্থায় বাইকটি উদ্ধার হওয়ায় স্বস্তি ফিরেছে বাইকের মালিক লিটন দেবনাথের পরিবারে।
রবিবার জানা যায়, ধলাই জেলার গণ্ডাছড়ার পাকা ব্রিজের পাশে দেবনাথ পাড়ার বাসিন্দা লিটন দেবনাথ শনিবার হাট-বাজারের কাজ শেষ করে বাড়িতে ফেরেন। অন্যান্য দিনের মতোই তিনি বাড়ির সামনের গেটের কাছে নীল-কালো রঙের পালসার বাইকটি রেখে বাড়ির ভিতরে চলে যান। এরপর খাওয়া-দাওয়া সেরে আনুমানিক বিকেল সাড়ে চারটা নাগাদ বাজারে যাওয়ার জন্য বাড়ি থেকে বের হন। কিন্তু বাইরে এসে দেখতে পান, গেটের সামনে রাখা তাঁর বাইকটি নেই।
বাইকটি দেখতে না পেয়ে প্রথমে আশপাশের এলাকায় খোঁজাখুঁজি শুরু করেন লিটন দেবনাথ। পরিচিতজন ও স্থানীয়দের সহযোগিতায় বিভিন্ন জায়গায় তল্লাশি চালিয়েও বাইকের সন্ধান না পেয়ে শেষ পর্যন্ত গণ্ডাছড়া থানায় গিয়ে চুরির বিষয়টি পুলিশকে জানান তিনি।
অভিযোগ পাওয়ার পর বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে দ্রুত তদন্ত ও তল্লাশি অভিযান শুরু করে গণ্ডাছড়া থানার পুলিশ। থানার ওসির নির্দেশে সাব-ইন্সপেক্টর কাজল দেবনাথের নেতৃত্বে পুলিশ বাহিনী বিভিন্ন এলাকায় তল্লাশি চালাতে শুরু করে। পুলিশের সঙ্গে স্থানীয় মানুষও বাইকটির সন্ধানে বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখুঁজি করেন।
দীর্ঘ তল্লাশির পর অবশেষে শনিবার রাত ১১টা নাগাদ নারায়ণপুর এলাকার একটি বাঁশঝাড়ের নিচ থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় চুরি যাওয়া বাইকটি উদ্ধার করা হয়। অর্থাৎ চুরির খবর পাওয়ার প্রায় আট ঘণ্টার মধ্যেই বাইকটির সন্ধান পেতে সক্ষম হয় পুলিশ ও স্থানীয়রা।
পরে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে রবিবার গণ্ডাছড়া থানার পুলিশ উদ্ধার হওয়া বাইকটি মালিক লিটন দেবনাথের হাতে তুলে দেয়। নিজের বাইক ফিরে পেয়ে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেন তিনি। একই সঙ্গে দ্রুত বাইক উদ্ধার করার জন্য গণ্ডাছড়া থানার পুলিশ এবং সহযোগিতাকারী সাধারণ মানুষকে ধন্যবাদ জানান লিটন দেবনাথ।
তবে সাম্প্রতিক সময়ে গণ্ডাছড়া মহকুমার বিভিন্ন এলাকায় চুরি ও চুরির চেষ্টার ঘটনা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। এই পরিস্থিতিতে চুরি প্রতিরোধে পুলিশের নজরদারি আরও বাড়ানো, রাতের টহল জোরদার করা এবং চুরি চক্রের সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
হিন্দুস্থান সমাচার / গোবিন্দ দেবনাথ