চিতাবাঘের আতঙ্কে কাঁপছে হাফলং খাদ্যের সন্ধানে লোকালয়ে চিতাবাঘ, লোয়ার হাফলঙে একাধিক মুরগি শিকার—বনবিভাগের তৎপরতা
হাফলং (অসম), ১৮ সেপ্টেম্বর (হি স): চিতা বাঘের আতঙ্কে কার্যত কাঁপছে পাহাড়ি শহর হাফলং। বিশেষ করে লোয়ার হাফলং এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে দেখা দিয়েছে তীব্র আতঙ্ক। রাত নামলেই বাড়ির বাইরে বেরোতে ভয় পাচ্ছেন স্থানীয়রা। বাসিন্দাদের দাবি, খাদ্যের সন্ধানে একটি
Leopard


হাফলং (অসম), ১৮ সেপ্টেম্বর (হি স): চিতা বাঘের আতঙ্কে কার্যত কাঁপছে পাহাড়ি শহর হাফলং। বিশেষ করে লোয়ার হাফলং এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে দেখা দিয়েছে তীব্র আতঙ্ক। রাত নামলেই বাড়ির বাইরে বেরোতে ভয় পাচ্ছেন স্থানীয়রা। বাসিন্দাদের দাবি, খাদ্যের সন্ধানে একটি চিতা বাঘ জনবহুল এলাকায় ঢুকে পড়ায় গত কয়েকদিন ধরেই এলাকায় উদ্বেগের পরিবেশ তৈরি হয়েছে।

বুধবার রাতে লোয়ার হাফলংয়ের বাসিন্দা বাবু ছেত্রীর বাড়ির সংলগ্ন এলাকায় চিতা বাঘটির দেখা মেলে। জানা গিয়েছে, বাবু ছেত্রীর মুরগির খামারে ঢুকে বাঘটি একের পর এক বেশ কয়েকটি মুরগি নিয়ে যায়। আচমকা খামারে চিতা বাঘের উপস্থিতিতে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এলাকায়। পরে চিতা বাঘটি আবারও মুরগি ধরতে এলে বাবু ছেত্রীর ছেলে সেটির ছবি তুলে রাখেন। সেই ছবি স্থানীয়দের মধ্যে ছড়িয়ে পড়তেই আতঙ্ক আরও বাড়ে।

কেন লোকালয়ে চিতা বাঘ?

বন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞদের মতে, বনাঞ্চলে খাবারের স্বাভাবিক উৎস কমে গেলে কিংবা মানুষের বসতি বনাঞ্চলের কাছাকাছি বিস্তৃত হলে বন্যপ্রাণীরা অনেক সময় খাবারের সন্ধানে লোকালয়ের দিকে চলে আসে। গৃহপালিত পশু বা মুরগি সহজলভ্য খাদ্য হওয়ায় সেগুলিও বন্যপ্রাণীর আকর্ষণের কারণ হতে পারে। তবে হাফলংয়ের ক্ষেত্রে বাঘটি কেন লোকালয়ে এসেছে, তা বনবিভাগের পর্যবেক্ষণ ও তদন্তের পরই স্পষ্ট হবে।

আতঙ্কের কারণ কোথায়?

লোকালয়ের কাছাকাছি চিতা বাঘের উপস্থিতি স্বাভাবিকভাবেই মানুষের মধ্যে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি করেছে। বিশেষ করে সন্ধ্যার পর লোয়ার হাফলং এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক বাড়ছে। শিশু ও বয়স্কদের একা বাইরে না পাঠানো, রাতের সময় অপ্রয়োজনে বাড়ির বাইরে না বেরোনো এবং গবাদি পশু বা মুরগির খামার নিরাপদে রাখার বিষয়ে স্থানীয়দের মধ্যে সতর্কতা দেখা দিয়েছে।

বনবিভাগের তৎপরতা চিতা বাঘটির উপস্থিতির খবর সামনে আসার পর বনবিভাগও তৎপর হয়ে উঠেছে। লোকালয়ে চিতা বাঘটি যাতে কোনও মানুষের ক্ষতি করতে না পারে, সে জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। চিতা বাঘটির গতিবিধির উপর নজর রাখার পাশাপাশি সেটিকে নিরাপদে ধরে পুনরায় উপযুক্ত বনাঞ্চলে সরিয়ে দেওয়ার বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলে জানা গিয়েছে।

তবে আতঙ্কের মধ্যে স্থানীয়দের অযথা চিতা বাঘের পিছু নেওয়া, ভিড় করে সেটিকে দেখতে যাওয়া কিংবা ছবি বা ভিডিও করার চেষ্টা না করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। কারণ আতঙ্কিত বা কোণঠাসা বন্যপ্রাণী আচমকা আক্রমণাত্মক হয়ে উঠতে পারে।

আতঙ্কের মধ্যেও সতর্কতা জরুরি চিতা বাঘের উপস্থিতি নিয়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়লেও স্থানীয়দের সতর্ক ও সংযত থাকার প্রয়োজন রয়েছে। বনবিভাগের নির্দেশ মেনে চলা এবং চিতা বাঘটির অবস্থান সম্পর্কে কোনও তথ্য পাওয়া গেলে তাৎক্ষণিকভাবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানোই হবে সবচেয়ে নিরাপদ পদক্ষেপ। একই সঙ্গে মুরগি, গবাদি পশু ও অন্যান্য পোষ্য প্রাণীকে রাতের বেলায় সুরক্ষিত স্থানে রাখার উপরও জোর দেওয়া হচ্ছে।

লোয়ার হাফলংয়ে বাঘের এই উপস্থিতি আপাতত স্থানীয় মানুষের রাতের ঘুম কেড়ে নিয়েছে। এখন বনবিভাগ কত দ্রুত চিতা বাঘটির অবস্থান শনাক্ত করে তাকে নিরাপদে লোকালয় থেকে সরিয়ে নিতে পারে, সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছেন হাফলংবাসী।

হিন্দুস্থান সমাচার / বিশাখা দেব




 

 rajesh pande