ট্র্যাফিক ব্যবস্থা সুসংহত করতে রাজ্যে লাইভ কন্ট্রোল রুম চালু, টোল-ফ্রি নম্বর প্রকাশ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর
কলকাতা, ১৮ সেপ্টেম্বর (হি. স.) : পশ্চিমবঙ্গে ট্র্যাফিক নজরদারি ব্যবস্থাকে আরও জোরদার করতে এক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে রাজ্য সরকার। সল্টলেকের আরক্ষা ভবনের ট্র্যাফিক সদর দফতরে একটি অত্যাধুনিক লাইভ ট্র্যাফিক কন্ট্রোল রুম গড়ে তোলা হয়েছে। শুক্
শুভেন্দু অধিকারী


কলকাতা, ১৮ সেপ্টেম্বর (হি. স.) : পশ্চিমবঙ্গে ট্র্যাফিক নজরদারি ব্যবস্থাকে আরও জোরদার করতে এক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে রাজ্য সরকার। সল্টলেকের আরক্ষা ভবনের ট্র্যাফিক সদর দফতরে একটি অত্যাধুনিক লাইভ ট্র্যাফিক কন্ট্রোল রুম গড়ে তোলা হয়েছে। শুক্রবার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এই নতুন কন্ট্রোল রুমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। মুখ্যসচিবের বিশেষ উদ্যোগ এবং ট্র্যাফিকের আইজির নেতৃত্বে তৈরি এই কন্ট্রোল রুমটি সমগ্র রাজ্যের প্রধান সড়কগুলিতে যানবাহনের চলাচলের ওপর সরাসরি নজর রাখবে।

উদ্বোধনের পর মুখ্যমন্ত্রী বলেন যে, প্রশাসনিক পরিষেবাগুলিতে লাইভ নজরদারির প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কিত তাঁর পূর্ব অভিজ্ঞতার ভিত্তিতেই তিনি মুখ্যসচিব এবং সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের এই ব্যবস্থার প্রস্তাব দিয়েছিলেন। এই কন্ট্রোল রুমের মাধ্যমে পশ্চিমবঙ্গের সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় ও রাজ্য সড়কের পাশাপাশি শহরাঞ্চলের ট্র্যাফিকের ওপরও সরাসরি নজরদারি চালানো সম্ভব হবে। ডানকুনি, ফারাক্কা, কালিয়াচক, ডালখোলা এবং ইসলামপুরের মতো অতিরিক্ত যানজটপ্রবণ এলাকাগুলিতে দীর্ঘসময় ধরে চলা যানজটের কারণ দ্রুত চিহ্নিত করে তার সমাধান বের করা হবে।

সাধারণ মানুষের সুবিধা এবং অভিযোগের দ্রুত সমাধানের জন্য মুখ্যমন্ত্রী একটি বিশেষ টোল-ফ্রি নম্বর ১৮০০৩৪৫৮৯২২ প্রকাশ করেছেন। এছাড়া শীঘ্রই একটি মোবাইল লিঙ্ক এবং হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরও সক্রিয় করা হবে, যার মাধ্যমে সাধারণ নাগরিকরা ট্র্যাফিক সংক্রান্ত যেকোনো সমস্যার কথা সরাসরি প্রশাসনের কাছে পৌঁছে দিতে পারবেন। মুখ্যমন্ত্রী ট্র্যাফিক পুলিশকর্মীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা, ট্র্যাফিক কিওস্কগুলির অবস্থার উন্নতি করা এবং অকেজো হয়ে পড়ে থাকা সিসিটিভি ক্যামেরাগুলি অবিলম্বে মেরামতের কড়া নির্দেশ দিয়েছেন।

তিনি আরও স্পষ্ট করেন যে, জেলা স্তরে জেলাশাসক, পুলিশ, রেল এবং জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষের আধিকারিকদের সাথে সমন্বয় বৈঠক করে একটি সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা তৈরি করা হবে। মুখ্যমন্ত্রী জানান যে, তিনি পালসিট, ডানকুনি, ফারাক্কা এবং ধুলোগড়ের মতো বেশ কয়েকটি প্রধান চেকপোস্ট ব্যক্তিগতভাবে পরিদর্শন করেছেন এবং যে এলাকাগুলিতে অতিরিক্ত নজরদারির প্রয়োজন রয়েছে, সেগুলিকে ‘অ্যাকশন পয়েন্ট’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

পাহাড়ি অঞ্চলের কথা উল্লেখ করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, দার্জিলিং এবং কালিম্পঙে প্রায় সাত শতাংশ সড়ক পার্কিংয়ের জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে, যার ফলে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। তিনি জেলা প্রশাসনকে পাহাড়ি এলাকায় বিকল্প পার্কিং স্থান খোঁজার নির্দেশ দিয়েছেন। এর পাশাপাশি, স্কুল পড়ুয়াদের যাতায়াতের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন যে, শিক্ষার্থীদের নিরাপদ যাত্রা নিশ্চিত করা সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকারের মধ্যে পড়ে।

হিন্দুস্থান সমাচার / সোনালি




 

 rajesh pande