পরকীয়ার সন্দেহে দাম্পত্য অশান্তি, বিষপানে গৃহবধূর মৃত্যু
স্বামী, শ্বশুর ও শাশুড়ির বিরুদ্ধে আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগ বাপের বাড়ির
গৃহবধূর মৃত্যু


আগরতলা, ৯ সেপ্টেম্বর (হি.স.) : স্ত্রীর পরকীয়ায় জড়িত থাকার সন্দেহকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিনের দাম্পত্য অশান্তি। অভিযোগ, সেই অশান্তি ক্রমশ মানসিক ও শারীরিক অত্যাচারে রূপ নেয়। শেষ পর্যন্ত শ্বশুরবাড়িতে বিষপান করে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন ২২ বছরের জনৈক গৃহবধূ। আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকার পর মৃত্যু হল তাঁর। মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটেছে গোমতী জেলার উদয়পুরের টেপানিয়া এলাকায়। মৃতার বাপের বাড়ির পক্ষ থেকে স্বামী, শ্বশুর ও শাশুড়ির বিরুদ্ধে আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগ আনা হয়েছে।

মৃতার নাম পূজা বিশ্বাস। জানা গেছে, প্রায় ছয় বছর আগে মোহনপুরের বাসিন্দা পূজা বিশ্বাসের সঙ্গে সামাজিকভাবে বিয়ে হয় উদয়পুরের টেপানিয়া এলাকার নিতাই সাহার ছেলে শুভঙ্কর সাহার। বিয়ের পর প্রথমদিকে স্বামী-স্ত্রীর সংসার স্বাভাবিকভাবেই চলছিল। প্রায় তিন বছর আগে তাঁদের সংসারে একটি কন্যাসন্তানের জন্ম হয়।

তবে গত এক বছর ধরে সংসারে অশান্তি শুরু হয় বলে অভিযোগ। মৃতার পরিবারের দাবি, শুভঙ্কর সাহা তাঁর স্ত্রী পূজা বিশ্বাসকে পরকীয়ায় জড়িত থাকার সন্দেহ করতেন। এই বিষয়কে কেন্দ্র করে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে প্রায়ই ঝগড়া-বিবাদ লেগে থাকত। পরবর্তীতে সেই অশান্তি মানসিক ও শারীরিক নির্যাতনের পর্যায়ে পৌঁছায় বলেও অভিযোগ করেছেন পূজার বাপের বাড়ির সদস্যরা।

পরিস্থিতি অসহনীয় হয়ে ওঠায় পূজা প্রায়ই মোহনপুরে তাঁর বাপের বাড়িতে চলে যেতেন বলে পরিবার সূত্রে জানা গেছে। গত রবিবারও পারিবারিক অশান্তির জেরে তিনি বাপের বাড়িতে চলে আসেন। কিন্তু মঙ্গলবার সকালে স্বামী শুভঙ্কর সাহার একটি ফোন পাওয়ার পর ফের শ্বশুরবাড়িতে চলে যান পূজা।

পরিবারের অভিযোগ, মঙ্গলবার দুপুরে শ্বশুরবাড়িতে পৌঁছানোর পর ফের স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে অশান্তি শুরু হয়। একপর্যায়ে মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে পূজা বিষপান করে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন বলে জানা গেছে। বিষয়টি নজরে আসার পর তাঁকে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় টেপানিয়ায় জেলা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।

অবস্থার অবনতি হওয়ায় সেখান থেকে তাঁকে আগরতলার ত্রিপুরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। কিন্তু শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি হলে তাঁকে জিবিপি হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মঙ্গলবার সন্ধ্যার দিকে মৃত্যু হয় পূজার।

বুধবার জিবিপি হাসপাতালে শোকার্ত অবস্থায় পূজার বাবা জানান, মেয়ের মৃত্যুর জন্য তাঁরা স্বামী শুভঙ্কর সাহা, শ্বশুর নিতাই সাহা এবং শাশুড়ি শিউলি সাহাকে দায়ী। তাঁদের অভিযোগ, দীর্ঘদিনের মানসিক ও শারীরিক অত্যাচার এবং পারিবারিক অশান্তির জেরেই পূজা চরম সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছেন।

ঘটনাকে কেন্দ্র করে মৃতার বাপের বাড়ির লোকজনের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। তাঁরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তিরও দাবি তুলেছেন তাঁরা। ঘটনা ঘিরে এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।

হিন্দুস্থান সমাচার / গোবিন্দ দেবনাথ




 

 rajesh pande