- মহিলাদের জন্য ৫০ শতাংশ সংরক্ষিত আসন- প্রার্থীদের যোগ্যতার মানদণ্ড প্ৰকাশ রাজ্য নিৰ্বাচন কমিশনারের- দলীয় প্রতীক ছাড়া অনুষ্ঠিত হবে নির্বাচন- প্রার্থীদের প্রতীক দেবে নির্বাচন কমিশনগুয়াহাটি, ২ এপ্রিল (হি.স.) : আগামী ২ মে এবং ৭ মে, অসমে দুই দফায় অনুষ্ঠিত হবে ত্রিস্তরীয় পঞ্চায়েত নির্বাচন। এবার ২৭টি জেলার ২৫,০০৭টি ভোটকেন্দ্রে ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন ১.৮ কোটির বেশি ভোটার। ভোটের গণনা এবং ফলাফল ঘোষণা হবে ১১ মে।
আজ বুধবার গুয়াহাটির পাঞ্জাবাড়িতে অসম রাজ্য নির্বাচন কমিশনের কার্যালয়ে আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে ২৭টি জেলায় অনুষ্ঠেয় ত্রিস্তরীয় পঞ্চায়েত নিৰ্বাচনের দিনক্ষণের পাশাপাশি নির্বাচন সংক্রান্ত নানা বিধি ঘোষণা করেছেন অসম রাজ্য নিৰ্বাচন কমিশনার অলোক কুমার।
নির্বাচনের মূল তারিখ এবং সময়সূচি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য দিয়ে রাজ্য নিৰ্বাচন কমিশনার জানান, নির্বাচনের বিজ্ঞপ্তি জারি করা হবে ৩ এপ্রিল। এর পর ১১ এপ্রিল সকাল ১১:০০টা থেকে বিকাল ৩:০০টা পর্যন্ত মনোনয়ন জমা দেওয়া যাবে। মনোনয়নপত্রগুলি যাচাই-বাছাই হবে ১২ এপ্রিল এবং একই দিনে বৈধ প্রার্থীদের চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করা হবে। ১৭ এপ্রিল বিকাল ৩:০০টা পর্যন্ত প্রার্থীরা তাঁদের মনোনয়ন প্রত্যাহার করতে পারবেন। এর পরই প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করবে রাজ্য নির্বাচন কমিশন।
তিনি জানান, নির্ধারিত তারিখে সকাল ৭:৩০টা থেকে বিকাল ৪:৩০টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। প্রয়োজনে পুনর্ভোট হবে ৪ মে (প্রথম দফা) এবং ৯ মে (দ্বিতীয় দফা)।
দুই দফায় যে ২৭টি জেলায় ভোট হবে সেগুলি যথাক্রমে -
২ মে প্ৰথম দফায় ভোটগ্ৰহণ হবে শিবসাগর, মাজুলি, যোরহাট, তিনসুকিয়া, ডিব্রুগড়, চড়াইদেও, গোলাঘাট, ধেমাজি, লখিমপুর, শোণিতপুর, বিশ্বনাথ, কাছাড়, হাইলাকান্দি এবং শ্রীভূমি জেলায়।
৭ মে দ্বিতীয় দফায় ভোট হবে ধুবড়ি, দক্ষিণ শালমারা মানকাচর, গোয়ালপাড়া, বঙাইগাঁও, বরপেটা, বজালি, নলবাড়ি, কামরূপ, কামরূপ (মেট্রো), হোজাই, নগাঁও, মরিগাঁও এবং দরং জেলায়।
ভোটার ও ভোটকেন্দ্রের পরিসংখ্যান দিয়ে আলোক কুমার জানান, এবারের (২০২৫ সাল) পঞ্চায়েত নির্বাচনে মোট ভোটার সংখ্যা ১,৮০,৩৬,৬৮২, যা ২০১৮ সালের তুলনায় ১৩.২৭ শতাংশ বেশি। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৯০,৭১,২৬৪ জন; মহিলা ভোটার ৮৯,৬৫,০১০ জন এবং অন্যান্য ৪০৮ জন।
বর্ধিত ভোটার সংখ্যার সাথে সামঞ্জস্য রেখে রাজ্যজুড়ে ২৫,০০৭টি ভোটকেন্দ্র স্থাপন করা হবে। এটা ২০১৮ সালের ২৩,৫০৫টি ভোটকেন্দ্রের তুলনায় ৬ শতাংশ বেশি। তিনি জানান, ১ জানুয়ারি, ২০২৫-এর যোগ্যতার কাট-অফ তারিখ অনুসারে নতুন ভোটারদের জন্য ভোটার তালিকা হালনাগাদ অব্যাহত রাখবে নির্বাচন কমিশন।
ভোটার শনাক্তকরণ নির্দেশিকা অনুযায়ী, নির্বাচনী ছবি পরিচয়পত্র (ইপিআইসি)-কে প্রাথমিক পরিচয়পত্র হিসেবে বিবেচনা করা হলেও ভোটাররা বিকল্প নথিও ব্যবহার করতে পারেন। এগুলি যথাক্রমে আধার কার্ড, মনরেগা জব কার্ড, ছবি সহ ব্যাংক/ডাকঘরের পাসবুক, স্বাস্থ্য বিমা স্মার্ট কার্ড (শ্রম মন্ত্রালয়), ড্রাইভিং লাইসেন্স, প্যান কার্ড, ভারতীয় পাসপোর্ট, এনপিআর-এর অধীনে আরজিআই কর্তৃক জারিকৃত স্মার্ট কার্ড, ছবি সহ পেনশন নথি, সরকার/পিএসইউ পরিষেবা আইডি কার্ড, অনন্য প্রতিবন্ধী আইডি (ইউডিআইডি) কার্ড।
আদর্শ আচরণবিধি (এমসিসি) সম্পর্কে রাজ্য নিৰ্বাচন কমিশনার আলোক কুমার জানান, যে সব এলাকায় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে, সে সব এলাকায় আদর্শ আচরণবিধি (এমসিসি) বলবৎ হয়ে গেছে। তিনি জানান, ভারতের নির্বাচন কমিশন (ইসিআই)-এর নির্দেশিকা মেনে চলবে আসাম রাজ্য নির্বাচন কমিশন।, নির্দেশিকা অনুযায়ী প্রচারণা পরিচালনা, জনসভা, ভোটগ্রহণের দিনের প্রটোকল এবং সরকারি সম্পদ ব্যবহারের ওপর বিধিনিষেধ। নির্বাচনী ইস্তাহার অবশ্যই সাংবিধানিক নীতি এবং আদর্শ আচরণবিধি-র সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হতে হবে।
প্রার্থীদের যোগ্যতার মানদণ্ড সম্পৰ্কে জানান তিনি। তিনি জানান, প্রার্থীদের কিছু শর্তাবলী পূরণ করতে হবে। সেগুলি (১) ন্যূনতম বয়স হতে হবে ২১ বছর, (২) বাসস্থানে বাধ্যতামূলক কার্যকরী স্যানিটারি টয়লেট থাকতে হবে, (৩) বাল্যবিবাহ আইন, ২০০৬ (নিজস্ব/স্বামী/স্ত্রী) লঙ্ঘন করা চলবে না (৪) সর্বাধিক দুটি জীবিত সন্তান (১৯ মার্চ, ২০১৮ সালের আগে জন্ম) (৫) অপরাধমূলক রেকর্ড, সম্পদ এবং দায়বদ্ধতার হলফনামা ঘোষণা।
ত্ৰিস্তরীয় পদের জন্য শিক্ষাগত যোগ্যতা যথাক্রমে গ্রাম পঞ্চায়েত সদস্যকে এইচএসএলসি অর্থাৎ মাধ্যমিক (দশম শ্রেণি) পাশ হতে হবে (এসসি/এসটি/ওবিসি/এমওবিসি প্রার্থীদের দশম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করতে হবে)।
জেলা পরিষদ ও আঞ্চলিক পঞ্চায়েত সদস্যদের হায়ার সেকেন্ডারি (দ্বাদশ শ্রেণি) পাশ (এসসি/এসটি/অবিসি/এমওবিসি প্রার্থীদের মাধ্যমিক পাশ হতে হবে)।
অসম পঞ্চায়েত আইন, ১৯৯৪ (সংশোধিত)-এর ১১১ ধারার অধীনে প্রার্থীদের অযোগ্য ঘোষণা করা যাবে না।
রাজ্য নির্বাচন কমিশন প্রার্থীদের ব্যয়ের সীমাও নির্ধারণ করেছে। সে অনুযায়ী জেলা পরিষদ সদস্য পদপ্রার্থীরা ১০ লক্ষ টাকা, আঞ্চলিক পঞ্চায়েত সদস্য পদপ্রার্থীরা ২.৫ লক্ষ টাকা এবং গ্রাম পঞ্চায়েত সদস্য পদপ্রার্থীরা ২৫ হাজার টাকা।
রাজ্য নির্বাচন কমিশনার অলোক কুমার আশা ব্যক্ত করে জানান, বর্ধিত ভোটার ভিত্তি এবং অতিরিক্ত ভোটকেন্দ্রের দরুন আসন্ন অসম পঞ্চায়েত নির্বাচন (২০২৫ সাল)-এ ভোটারদের উপস্থিতি বেশি হবে। রাজ্যের স্থানীয় শাসনব্যবস্থা এবং গ্রামীণ উন্নয়ন গঠনে এই নির্বাচন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে আশা করছেন অলোক কুমার। তিনি জানান, এবারের পঞ্চায়েত নির্বাচনে একটি উল্লেখযোগ্য সংস্কার হলো মহিলাদের জন্য ৫০ শতাংশ সংরক্ষণ বাস্তবায়ন। উপরন্তু গ্রাম পঞ্চায়েত নির্বাচনে দলীয় প্রতীক ছাড়া অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে প্রার্থীদের নির্বাচন কমিশন কর্তৃক নির্ধারিত প্রতীক বরাদ্দ করা হবে।
হিন্দুস্থান সমাচার / সমীপ
হিন্দুস্থান সমাচার / সমীপ কুমার দাস