
কামরূপ (অসম), ১২ জানুয়ারি (হি.স.) : দক্ষিণ কামরূপ জেলার অন্তর্গত গরৈমারি থানাধীন বড়ভিটা গ্রামে রাস্তার পাশে গৃহস্থ জনৈক হাসান আলির বসতঘরে বালু বোঝাই ডাম্পারের হামলায় চার বছরের এক শিশুকন্যা ও তার মায়ের মৃত্যু হয়ে। একই ঘটনায় গুরুতরভাবে আহত হয়েছেন তিনজন।
জানা গেছে, রবিবার রাতে নদীবাঁধের ওপর নির্মিত উঁচু রাস্তা দিয়ে দ্রুতগতিতে যাচ্ছিল অবৈধভাবে বালিবাহী ডাম্পারটি। এক সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তা থেকে ছিটকে উল্টে গিয়ে সরাসরি একটি বসতবাড়ির ওপর পড়ে।
ঘটনার সময় হাসান আলির পরিবার ঘরের ভেতরে ঘুমোচ্ছিল। ডাম্পারটি ঘরের ওপর আছড়ে পড়ায় পরিবারের পাঁচ সদস্য ধ্বংসস্তূপের নীচে আটকা পড়েন। সাহায্যের আর্তনাদ শুনে স্থানীয়রা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যান।
দুটি এক্সক্যাভ্যাটর নিয়ে গরৈমারি, জর্শিমুলি ও সোনতলি থানার পুলিশ এবং স্থানীয় বাসিন্দারা মিলে কয়েক ঘণ্টা ধরে উদ্ধারকাজ চালান। এতে পরিবারের তিন সদস্যকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হলেও গাড়িটি সরানোর পর দু-জনকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।
নিহতদের সেলেহা খাতুন ও তাঁর চার বছরের কন্যা মাজেদা খাতুন বলে শনাক্ত করা হয়েছে। আহত হাসিনা খাতুন, তাসলিমা খাতুন এবং এক বছরের এক শিশু কন্যাকে গুরুতর অবস্থায় উদ্ধার করে তাৎক্ষণিকভাবে হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করা হয়েছ।
এদিকে এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। তাঁদের অভিযোগ, এলাকায় অবৈধভাবে বালি বোঝাই ডাম্পারের বেপরোয়া চলাচল মানুষের জীবন ও সম্পত্তির জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের মর্মান্তিক ঘটনা রোধে অবৈধ বালি খনন ও পরিবহণের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
হিন্দুস্থান সমাচার / সমীপ কুমার দাস