
কুলতলি, ১৪ জানুয়ারি (হি. স.) : সুন্দরবনের মৈপীঠে ঠাকুরান নদীর চরে নির্বিচারে ম্যানগ্রোভ অরণ্য কাটার অভিযোগ উঠেছে। কয়েক সপ্তাহ আগে এই বিষয়ে অভিযোগ উঠলেও বর্তমানে অবাধে সেই কাজ চলছে বলে জানা গেছে। দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা বন দফতর এখনও পর্যন্ত কোনও কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় ক্ষুব্ধ স্থানীয় বাসিন্দারা।
যদিও দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা বন আধিকারিক নিশা গোস্বামী জানান, নতুন করে গাছ কাটার কোনো খবর তাঁদের দফতরে আসেনি। তবে আগের অভিযোগটি নিয়ে তদন্ত চলছে এবং বন দফতর বিষয়টির ওপর নজর রাখছে।
অন্যদিকে, সংশ্লিষ্ট এলাকায় সেচ দফতরের জায়গা দখল করে অবৈধ নির্মাণের গুরুতর অভিযোগও উঠেছে। এই বিষয়ে প্রশাসনিক স্তরের নীরবতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন এলাকাবাসীরা। সেচ দফতরের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।
মৈপীঠ পর্যটন কেন্দ্রের ঘাটের পশ্চিম দিকে গেলেই দেখা যায় রাস্তার পাশে ঠাকুরান নদীর চর ঘেঁষে থাকা বাদাবন থেকে নির্বিচারে গাছ কেটে সাফ করে দেওয়া হয়েছে। সেখানে আর ঘন ম্যানগ্রোভের অস্তিত্ব নেই। ঠাকুরান নদীতে নিয়মিত বন দফতরের নৌকা টহল দিলেও কীভাবে নজরদারি এড়িয়ে গাছ কাটা সম্ভব হলো, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন পরিবেশপ্রেমীরা।
এলাকাবাসীদের একাংশের দাবি, শাসকদলের এক দাপুটে নেতার সঙ্গে বন দফতরের একাংশের যোগসাজশেই এই ধ্বংসলীলা চলছে। মূলত ম্যানগ্রোভ কেটে জমি পরিষ্কার করে প্লট হিসেবে বিক্রির পরিকল্পনা রয়েছে বলে তাঁদের আশঙ্কা। বাসিন্দারা জানান, ম্যানগ্রোভ না থাকলে প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় নদীর জল অনায়াসেই গ্রামে ঢুকে পড়বে।
তাছাড়া, নদী ঘাটের পাশে সেচ দফতরের জায়গায় বহাল তবিয়তে নির্মাণ কাজ চললেও কেউ প্রতিবাদ করতে সাহস পাচ্ছেন না। অভিযোগ, প্রতিবাদ করলেই জুটছে হুমকি। অবিলম্বে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন স্থানীয়রা। তবে স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে এই বিষয়ে এখনও কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
হিন্দুস্থান সমাচার / শুভদ্যুতি দত্ত