
দুর্গাপুর, ১৭ জানুয়ারি (হি.স.): রাজ্যে নিপা ভাইরাস নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। ঠিক সেই সময়েই পূর্ব বর্ধমানের আউশগ্রাম ব্লকের দেবশালা পঞ্চায়েতের ধানতোড় গ্রামে ধরা পড়ল এক ব্যতিক্রমী ছবি—শত শত বাদুড়ের সঙ্গে বছরের পর বছর ধরে সহাবস্থানে রয়েছেন গ্রামবাসীরা। আতঙ্ক নয়, বরং সচেতনতা আর সহনশীলতার বার্তাই ছড়িয়ে দিচ্ছে এই গ্রাম।
সম্প্রতি উত্তর ২৪ পরগনার বারাসতে দুই নার্স নিপা ভাইরাসে আক্রান্ত সন্দেহে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর রাজ্যজুড়ে উদ্বেগ ছড়িয়েছে। ভেন্টিলেশনে রেখে তাঁদের চিকিৎসা চলছে। এই প্রেক্ষাপটে ধানতোড় গ্রামের চিত্র নজর কাড়ছে সকলের।
স্বাস্থ্য দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, নিপা ভাইরাস বাদুড়বাহিত একটি জুনোটিক রোগ, যার মৃত্যুহার ৫০–৬০ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে। বাদুড়ের খাওয়া ফল, বাদুড়ের মূত্রে দূষিত খেজুরের রস, সংক্রমিত প্রাণী বা আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শে এসে এই ভাইরাস ছড়াতে পারে। সংক্রমণের ৩–৪ দিনের মধ্যে জ্বর, মাথাব্যথা, পরে বিভ্রান্তি ও এনসেফ্যালাইটিসের উপসর্গ দেখা দিতে পারে। দ্রুত চিকিৎসা শুরু করাই সবচেয়ে জরুরি।
তবে এই আতঙ্কের মধ্যেও আউশগ্রামের ধানতোড় গ্রামে অন্য ছবি। পানাগড়–মোরগ্রাম রোডের কাঁকসার বেলডাঙা মোড় থেকে কিছুটা ভিতরে অবস্থিত এই গ্রামে রয়েছে প্রায় ৫০০ বছরের প্রাচীন বিশাল বটগাছ, যেখানে বাস করে কয়েকশো বাদুড়। দিনের বেলা গাছে ঝুলে থাকে তারা, সন্ধ্যায় উড়ে যায় দূরে, আর ভোরের আগেই আবার ফিরে আসে।
শনিবার গ্রামের বাসিন্দা কাজল মণ্ডল বলেন, “এই বটগাছ আমাদের পূর্বপুরুষদের সময়ের। বাদুড় বহু বছর ধরেই এখানে আছে। আমরা সবাই নজর রাখি, কেউ যেন ওদের ক্ষতি না করে।”
আরও এক বাসিন্দা চঞ্চল বজর জানান, “গরমে অনেক সময় বাদুড় মাটিতে পড়ে যায়। তখন আমরা বিরক্ত না করে দূরে রাখি। রাতে তারা আবার উড়ে যায়।”
বটগাছের পাশেই রয়েছে গ্রামের প্রাথমিক বিদ্যালয়। স্কুল চত্বরে খুদে পড়ুয়াদের প্রতিদিন সচেতনতার পাঠ দেওয়া হয়। স্কুলের প্রধান শিক্ষক সৌমেন সাহা বলেন, “প্রার্থনার পর আমরা ছাত্রছাত্রীদের সতর্ক করি—বাদুড় বা পাখিতে খাওয়া ফল যেন কেউ না খায়, এমনকি ছোঁয়াও যাবে না।”
রাজ্যজুড়ে নিপা ভাইরাসের আতঙ্ক যখন বাড়ছে, তখন আউশগ্রামের ধানতোড় গ্রাম দেখাচ্ছে—সচেতনতা থাকলে সহাবস্থান সম্ভব, আতঙ্ক নয়, দায়িত্বই পারে বিপদ মোকাবিলা করতে।
---------------
হিন্দুস্থান সমাচার / জয়দেব লাহা