
আগরতলা, ১৭ জানুয়ারি (হি.স.) : কৃষকরা অন্নদাতা, ভূমিই তাঁদের মূলধন—এমন বক্তব্য রাজ্যের কৃষিমন্ত্রী রতন লাল নাথ বারবার তুলে ধরলেও রাজধানী আগরতলায় বড়জলা এলাকার বৈরাগী টিলায় উল্টো চিত্র উঠে এসেছে। অভিযোগ, এলাকায় এক জমি মাফিয়া কানির পর কানি উর্বর দুই ফসলি কৃষিজমি অবৈধভাবে বাস্তু করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। বিষয়টি প্রশাসন ও কৃষি দফতরের নজরে আসলেও কার্যত কোনও পদক্ষেপ না নেওয়ায় জনমনে তীব্র ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে।
জানা গেছে, বড়জলা তহসিলের অধীন বৈরাগী টিলা এলাকায় ধানসহ বিভিন্ন ফসল ভালোভাবে উৎপাদন হয়। বছরে দু’বার ফসল ফলিয়ে এলাকার বহু কৃষক পরিবার জীবিকা নির্বাহ করছিলেন। অভিযোগ, জমি মাফিয়া অমিত দেবনাথ ইতিমধ্যেই ওই এলাকার একাংশ কৃষিজমি বিক্রি করে দিয়েছেন। জমিতে কংক্রিটের পিলার বসানো হয়েছে এবং বর্তমানে মাটি ফেলার কাজ শুরু হয়েছে, যা কৃষিকাজের জন্য মারাত্মক হুমকি বলে দাবি কৃষকদের।
এলাকার কৃষকদের বক্তব্য, জমিতে মাটি ফেলা হলে ভবিষ্যতে আর চাষাবাদ করা সম্ভব হবে না। বর্ষাকালে জল জমে জমি সম্পূর্ণ অকেজো হয়ে পড়বে। ফলে জীবিকা হারানোর আশঙ্কায় ভুগছেন তাঁরা। তবে অভিযুক্ত জমি মাফিয়ার ভয়ে অধিকাংশ কৃষক মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছেন না বলেও অভিযোগ উঠেছে।
এই পরিস্থিতিতে ব্যতিক্রমী দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন এলাকার এক কৃষকের স্ত্রী শিবানী আচার্জী। একাই প্রতিবাদে গর্জে উঠে তিনি অবৈধভাবে কৃষিজমিতে মাটি ফেলা ও বাস্তু করার প্রয়াস বন্ধের দাবিতে ডি.সি.এম., ডি.এম. সহ সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক আধিকারিকদের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। পাশাপাশি, রাজ্যের কৃষিমন্ত্রী রতনলাল নাথের কাছেও হস্তক্ষেপের আবেদন জানিয়েছেন তিনি।
শিবানী আচার্জীর অভিযোগ, কৃষিজমি নষ্ট হলে শুধু ফসল উৎপাদন বন্ধ হবে না, জীবন ও জীবিকা—দুটোই বিপন্ন হয়ে পড়বে। তাই অবিলম্বে প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ প্রয়োজন বলে তিনি দাবি জানান।
উল্লেখ্য, কৃষিমন্ত্রীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী রাজ্যে প্রায় ৬০ লক্ষ কানি কৃষিজমি রয়েছে, যার প্রায় অর্ধেক জমিতে ধান চাষ হয়। যদিও বিভিন্ন জেলা ধান উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণ হয়ে উঠছে, পশ্চিম জেলা এখনও পিছিয়ে রয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, এই পিছিয়ে পড়ার অন্যতম কারণ জমি মাফিয়াদের দৌরাত্ম্য।
হিন্দুস্থান সমাচার / গোবিন্দ দেবনাথ